1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজল আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বলতে মূলত আধা নিবিড় ও নিবিড় মাছ চাষ পদ্ধতিকে বোঝায়।
আধুনিক পদ্ধতিতে কোনো পুকুর বা জলাশয়ে স্বল্প সময়ে অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন পাওয়ার লক্ষ্যে পুকুর প্রস্তুতকরণ, প্রজাতিভিত্তিক সঠিক সংখ্যক স্বাস্থ্যবান পোনা মজুদ, প্রাকৃতিক খাদ্যের যোগান বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত সার প্রয়োগ, সম্পূরক এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছ চাষ করা হয়। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে পুকুর বা জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি হওয়ায় সনাতন চাষের তুলনায় লাভবান হওয়া যায়। নিম্নে আধুনিক মাছ চাষ পদ্ধতির ধাপগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-

পুকুর তৈরি: এক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পুকুর নির্মাণ করা হয়। পুকুরের গভীরতা ২.০-২.৫ মিটার, পাড় ও ঢালুর অনুপাত ১ : ২ এবং তলদেশ সমতল করে পুকুর নির্মাণ করা হয়। পুকুরের মধ্যে পানি প্রবেশ ও বের করার জন্য অন্তঃর্গামী ও বহির্গামী নালার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রয়োজনে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এয়ারেটর এর ব্যবস্থাও রাখা হয়।

পুকুর প্রস্তুত: পোনা ছাড়ার পূর্বে পুকুরের রাক্ষুসে মাছ অপসারিত করে পরিমাণমত চুন ও সার প্রয়োগ করে পুকুর প্রস্তুত করা হয়।

পোনা মজুত: এ পদ্ধতিতে একক বা মিশ্র উভয় ধরনের চাষ সম্ভব। প্রতি শতাংশ সাধারণ চাষের তুলনায় ২-৩ গুণ অধিক পোনা মজুত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মানসম্পন্ন সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।

খাদ্য প্রয়োগ: সম্পূরক খাদ্য দৈনিক প্রয়োগ করা হয়। খাদ্য প্রয়োগের উপযুক্ত সময় সকাল ১০-১২ ঘটিকা এবং বিকাল ৩-৪ ঘটিকা। মাছ ২৮- ৩১° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেশি খাবার গ্রহণ করে এবং বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নির্ভরশীল। মাছ চাষের সব নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় বলে মাছ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: পুকুরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষা করার ওপর মাছ আহরণ: এ পদ্ধতিতে বাইরে থেকে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগসহ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা, করা হয় বিধায় মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই একাধিক বার মাছ চাষ সম্ভব হয়। ফলে একাধিক বার মাছ আহরণ করতে হয়। মাছ আহরণে ব্যবহৃত জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জীবাণুমুক্ত রাখতে হয়। উদ্দীপকের কাজল উপরের পদ্ধতিতে অর্থাৎ আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে লাভবান হন।  

4 views

Related Questions