2 Answers
- পৃথিবীর এই রহস্যময় উপগ্রহটিকে একসময় বোমা মেরে চাঁদকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলো আমেরিকা। উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা। বিশেষ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো। [1]
- প্রাচীন চীনা বিশ্বাস হচ্ছে ড্রাগন যখন সূর্যকে গিলে খেয়ে ফেলে তখন সূর্যগ্রহণ হয়। এই সময় চীনারা যতোটা সম্ভব চিৎকার করে আওয়াজ করতে থাকে। যাতে ড্রাগনটি ভয় পেয়ে দূরে চলে যায়। [2]
- চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। আমরা যখন এর দিকে তাকাই তখন এর ছোট দুই প্রান্তের কোন একটিকে দেখতে পাই। চাঁদের ভরের কেন্দ্র ঠিক এর জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। এটি জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ২ মাইল দূরে।
- যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা প্রদেশের একটি জরিপ দেখা গেছে জরিপে আমেরিকার ১৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে চাঁদ চীজ বা পনির দিয়ে তৈরি।
- প্রাচীন চীনা মতবাদ আছে, যে চাঁদের গর্তের ভেতরে একটি বিশাল আকৃতির ব্যাঙ বসবাস করতো। চারশো কোটি বছর আগে মহাকাশ থেকে ছুটে যাওয়া একটি পাথর চাঁদকে আঘাত করলে ওই গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল।
- বিখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি প্রথম কোন ব্যক্তি যিনি কিনা উপলব্ধি করতে পারছিলেন, যে চাঁদ আসলে কমছে বা বাড়ছে না। বরং এর কিছু অংশ লুকানো থাকে। যা আমরা দেখতে পারি না।
চাঁদ সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য যা আপনার জানা প্রয়োজন
full-moon ..চাঁদ হচ্ছে মহাবিশ্বে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। এক এক প্রজন্মের নিকট এর পরিচয় এক এক রকম। ছোটবেলায় চাঁদকে সূতো কাটা বুড়ীর ছোট্ট ঘর হিসেবে কল্পনা করে বাচ্চারা। কখনও কখনও একে উপমা হিসেবে ব্যবহার করেন বিভিন্ন বয়সের রোমান্টিক লোকজন। কিন্তু এ সব-ই কল্পনা। তবে এই পোস্টে আমরা চাঁদ সম্পর্কে বাস্তব কিছু তথ্য জানব।
১. চন্দ্রকথা
প্রচলিত তত্বানুযায়ী, আজ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে, সোলার সিস্টেম গঠিত হওয়ার অল্প কিছুকাল পরে অনেকটা মঙ্গল গ্রহের মত আকৃতির একটি শিলা/ভূত্বকের কঠিন অংশ পৃথিবীর সাথে সজোড়ে সংঘর্ষ হওয়ার ফলেই চাঁদের সৃষ্টি।
২. চাঁদের চেহারা
পৃথিবী থেকে আমরা সব সময়ই চাঁদের একই চেহারা (Face) দেখে থাকি। যদিও পৃথিবী ও চাঁদ উভয়ই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে, তবুও চাঁদ (যতটুকুই দেখা যায়) সর্বদা একই রকম, কেননা অনেক আগেই পৃথিবীর মহাকর্ষীয় প্রভাব চাঁদের নিজস্ব কক্ষপথের ঘূর্ণনকে ধীরগতির করে দিয়েছে। তাই এর অরবিটাল পিরিয়ড ও রোটেশন পৃথিবীর সাথে মোটামুটি মিলে যাওয়ায় চাঁদের ‘ছবি’ (অমাবস্যা/পূর্ণিমার ব্যাপার ভিন্ন) আর পরিবর্তিত হয়না।
৩. মুন-ট্রি
পৃথিবীর বুকে থাকা ৪০০’র বেশি গাছ এসেছে চাঁদের মাটি থেকে (!?!) আসলে ব্যাপারটি হচ্ছে, ১৯৭১ সালে অ্যাপোলো ১৪ মিশনে নভোচারী স্টুয়ার্ট রোসা প্রায় ৫০০’র মত উদ্ভিদ-বীজ সাথে করে চাঁদে নিয়ে যান এবং লুনার সার্ফেসে রোপণ করেন। পরে সেগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে অঙ্কুরিত করা হয়। গাছগুলো এখনও বেঁচে আছে। এগুলো ‘মুন ট্রি’ নামে পরিচিত।
৪. চাঁদ-ই পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ?
আমরা অনেকেই হয়ত ভেবে থাকি যে, চাঁদ হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ (ন্যাচারাল স্যাটেলাইট); কিন্তু ১৯৯৯ সালে বিজ্ঞানীরা একটি ৫ কিলোমিটার প্রশস্ত গ্রহাণু আবিষ্কার করেন যেটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণে ধৃত হয়ে আরেকটি ‘চাঁদে’ রূপ নিতে পারে।
৫. চাঁদ কিন্তু গোলাকার নয়!
অবাক হচ্ছেন? চাঁদকে আমরা গোল থালার মত দেখলেও এটি কিন্তু গোল কিন্তু বর্তুলাকার নয়। বরং, চাঁদের গঠন হচ্ছে ডিম্বাকার। আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, চাঁদের ভরকেন্দ্র গ্রহটির জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। এর অবস্থান চাঁদের কেন্দ্র থেকে ২ কিলোমিটার বাহিরে।
৬. চাঁদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ
চাঁদকে আমরা অনেকে স্বপ্নের জগত হিসেবে জেনে থাকলেও এখানেও প্রাকৃতিক বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। চাঁদে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হয়। এগুলো ‘মুনকোয়াক’ নামে পরিচিত। লুনার নাইট সিজনে চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা -১৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস (অত্যন্ত শীতল) পর্যন্ত নেমে যায়। আবার কখনও কখনও এর আবহাওয়া বেশ উত্তপ্তও হয়ে ওঠে। বলাই বাহুল্য, মানুষের বসবাসের জন্য চাঁদ উপযোগী নয়- যদিও সিনেমার সংলাপে নায়ক/নায়িকারা কথায় কথায় চাঁদের বুকে বাড়ি বানায় :P
৭. শুভ বিদায় চাঁদমামা!
আপনি যতক্ষণে এই পোস্টটি পড়লেন, ততক্ষণে আমাদের পৃথিবী থেকে চাঁদ খানিকটা দূরে সরে গেছে। হ্যাঁ, প্রতিবছর পৃথিবী থেকে কিছুটা রোটেশনাল এনার্জি নিয়ে নেয় চাঁদ। ফলে নিজস্ব কক্ষপথে বছরে ৩.৮ সেন্টিমিটার উপরে চলে যাচ্ছে চাঁদ। গবেষকরা জানিয়েছেন, সৃষ্টিলগ্নে পৃথিবী থেকে ২২,৫৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল চাঁদ। কিন্তু এটি এখন ৪৫০,০০০ কিলোমিটার দূরে চলে গেছে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy