5 Answers
একাকী নামাযীর জন্য ইকামত দেওয়া জরুরী নয়। তবে একাকী নামায আদায় করলে তিনি একামত দিতে চাইলে দিতে পারবেন এতে কোন সমস্যা নেই।
ইসলামে জামাআতের সঙ্গে নামায আদায়ের ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। জামাআতে অনুপস্থিতদের অপরাধের মাত্রার কারণে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের বাড়ি পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছেন।
তবে মসজিদে জামাআত ছাড়া অন্য স্থানে উযরবশতঃ ভয়, শত্রুতা প্রভৃতির কারণে মসজিদে যেতে বাধা থাকলে, মসজিদ বহু দূরে হলে এবং আযান শুনতে না পেলে, সফরে কোন নির্জন প্রান্তরে থাকলে, যে জায়গায় থাকবে সেই জায়গাতেই নামাযের সময় হলে আযান এবং ইকামত দিয়ে নামায আদায় করতে হবে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, যখন সফরে থাকবে, তখন তোমরা আযান দিও এবং ইকামত দিও। আর তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করো। (বুখারী, মিশকাতঃ ৬৮২)।
তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যখন কোন বৃক্ষ-পানিহীন প্রান্তরে থাকে, অতঃপর সেখানে নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে যেন ওযু করে। পানি না পেলে যেন তায়াম্মুম করে। অতঃপর সে যদি শুধু ইকামত দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে তার সাথে তার সঙ্গী দুই ফিরিশতা নামায পড়েন। কিন্তু সে যদি আযান দিয়ে ও ইকামত দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে তার পশ্চাতে আল্লাহর এত ফিরিশতা নামায পড়েন, যাদের দুই প্রান্ত নজরে আসে না! (আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ, সহিহ তারগিবঃ ২৪১)।
যেহেতু আমাদের দেশে সাধারণত ঘর থেকে মহল্লার মসজিদের আযান শোনা যায়, তাই বিশেষ উযরবশতঃ নিজ গৃহে একা একা নামায আদায় করার ক্ষেত্রে আযান ইকামত না দিলেও কোন সমস্যা হবে না। তবে ইকামাতসহ নামায আদায় করাই মুস্তাহাব।
একাকী নামায আদায়কারীর জন্য ইকামত দেয়া মুস্তাহাব। (হিদায়া ১/৯২)। হাদিসে এসেছে, উকবা ইবনু আমির রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে,
يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةِ الْجَبَلِ يُؤَذِّنُ بِالصَّلاَةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلاَةَ يَخَافُ مِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ
তোমার রব সে ব্যক্তির উপর খুশি হন, যে পাহাড়ের উচ্চশৃঙ্গে বকরী চরায় এবং নামাযের জন্য আযান দেয় ও নামায আদায় করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার এই বান্দাকে দেখ! নামাযের জন্য সে আযান ও ইকামত দিচ্ছে। সে আমাকে ভয় করছে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম ও জান্নাতে প্রবেশ করালাম। (আবু দাউদ ১২০৩)
আজানের (আজান) বিষয়টি জামাত ও মসজিদের জন্য। মসজিদে আজান দেওয়া হয়ে থাকে। এখান থেকে বোঝা যায়, মসজিদের সঙ্গে আজানের সম্পর্ক রয়েছে। একাকী সালাতের জন্য আজান শর্ত নয়। তবে জামাত হলে সেখানে আজান দেওয়াটা সুন্নাহ।
একাকী সালাত আদায় করলে তিনি একামত দিতে পারবেন এবং জামাতের জন্যও একামত দেওয়াটা সুন্নাহ।
জামাত ব্যতীত একা নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে আযান-ইকামত সুন্নত। উকবা ইবনে আমের রাযি. বলেন, «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,«আল্লাহ তাআলা ওই মেষের রাখালকে দেখে আশ্চর্য হন যে পাহাড়ের চূড়ার একটি টিলায় নামাজের জন্য আযান দেয় ও নামাজ পড়ে। (এ-দৃশ্য দেখে আল্লাহ তাআলা বলেন, «তোমরা আমার এই বান্দার দিকে চেয়ে দেখ, সে আযান দেয়, নামাজ কায়েম করে এবং আমাকে ভয় পায়। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম ও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম।»।
(বর্ণনায় নাসায়ী)
ফরজ নামাজের ইকামত হয়ে গেলে কোন সুন্নাত নেই!
===============================
ফযরের নামাযের সময় মসজিদে অনেককে দেখা যায়, আযানের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেছে অথবা জামাতে নামায পড়ানো হচ্ছে, আর তারা সুন্নত নামায পড়ছেন। অনেকের স্পর্ধা এতো বেশি যে, মসজিদে এসে দেখে ইমাম সাহেব ফরয নামায পড়াচ্ছেন, আর তারা জামাতে শরীক না হয়ে আলাদা সুন্নত পড়া শুরু করে?
নামায কি নিজের ইচ্ছামতো পড়লে কবুল হবে নাকি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর তরীকা মোতাবেক পড়লে কবুল হবে??
ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামায সম্পূর্ণ হারাম, সুন্নত বিরোধী!!
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ছাড়া অন্য কোন নামায নেই”।
সহিহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৫৩১।
এখন যদি কেউ বলে “আমি হানাফী মাযহাবের আর আমার মাযহাবে আছে ফযরের সুন্নত পড়া যাবে”।
আমি বলবো, আপনি আসল হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন না, আপনি আসলে “হানাফী মাযহাব” নাম দিয়ে অন্য কারো মাযহাব অনুসরণ করছেন!!
কারণ ইমাম আবু হানীফা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “ইযা সাহহাল হাদীস, ফাহুয়া মাযহাবি” – জেনে রাখো যখন কোনো সহীহ হাদীস পাবে সেইটাই আমার মাযহাব।
এখন, সহীহ হাদীস মোতাবেক ফরয নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে আর কোনো সুন্নত নামায চলবেনা – সুতরাং ইমাম আবু হানীফার মাযহাবও সেটাই হবে। আর আপনি উলটা কাজ করে “হানাফী মাযহাব” হওয়ার দাবী করবেন, আপনি নিজেই বিবেচনা করুন আপনি কতটুকু সত্যিকারে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করছেন? কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখিত। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সুন্নত জানানো।
বিঃদ্রঃ অনেকে মনে করেন, ফযরের সুন্নত নামায আগে না পড়লে, ফরয বাদে আর পড়া যাবেনা। এধারণাটা ঠিকনা!! যদি ফযরের ফরয নামাযের পর ওয়াক্ত থাকে তাহলে সুন্নত পড়া যাবে। আর ওয়াক্ত না থাকলে সূর্য ওঠার পর পড়া যাবে।
কায়েস বিন আ’মর (রাঃ) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) (ফযরের নামাযের জন্য) বের হয়ে আসলেন আর ইকামত দেয়া হলো। আমি তাঁর (সাঃ) সাথে ফযরের নামায পড়লাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামায শেষ করে দেখলেন আমি নামায পড়ছি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ধীরে কায়েস! দুই রাকাত এক সাথেই? আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমি ফযরের আগে দুই রাকাত পড়িনাই। তখন রাসুলুল্লাহ “না, তাহলে পরে ঠিক আছে”।
আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, “অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নীরব থাকলেন”।
সুনানে আত-তিরমিযী ৪২২, আবু দাউদ ১২৬৭।
এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে, ফযরের নামাযের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায পড়তে না পারলে, ফরয নামাযের পরেও পড়া যাবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চুপ থাকা মানে তিনি নীরব থেকে কায়েস (রাঃ) কে মৌন সম্মতি দিলেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মৌন সম্মতি মানে হলো – সুন্নাহ।
আল্লাহ আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ মেনে জীবন পরিচালনা করার তোওফিক দান করুন, আমীন ইয়া রাব্বুল আ’লামীন।
***মসজিদে যেকোনো নামাযের আগে লক্ষ্য করবেন কতটুকু সময় বাকি আছে, ২-১ মিনিট সময় যাতে করে অন্তত ২ রাকাত পড়া যাবেনা, তাহলে সুন্নত নামায শুরু করবেন না। সুন্নত পড়া শুরু করবেন যদি এতটুকু সময় হাতে থাকে যে ২ রাকাত শেষ করতে পারবেন। আর কখনো যদি এমন হয় সুন্নত পড়া অবস্থায় ইকামত দেওয়া শুরু করলঠা আপনি ২য় রাকাতে আছেন, একটু সময় নিলেই নামায পূর্ণ করে ফেলতে পারবেন তাহলে দ্রুত নামায পূর্ণ করে সালাম ফেরাবেন। আর যদি ১ম রাকাতে থাকেন তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে শরীক হবেন।
--তোমরা তোমাদের পালনকর্তার clted:অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy