পায়খানার পর কি টিস্যু ব্যবহার করা বাধ্যতামূল?
ভাই, পায়খানা করার পর কি টিস্যু ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক? আমি যদি পায়খানা করার পর পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার হই, তাহলে কি আমি পবিত্র হবো না? এর পূর্বে কি আমাকে টিস্যু ব্যবহার করা বাধ্যতামূল? টিস্যু যদি থাকে তখন কি করব?
2 Answers
পায়খানার পর ঢিলা/কুলুখ ব্যবহার করে পানি ব্যবহার করা সুন্নাত। তবে যদি শুধু পানি ব্যবহার করা হয় তাহলেও পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে। আর যদি পায়খানা পায়ূপথ থেকে বাহিরে সরে গিয়ে থাকে অর্থাৎ- এক দেরহামের তথা- হাতের তালুর নীচ স্থান সমপরিমানের চেয়ে বেশী পরিমান স্থান ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পানি ব্যবহার করা ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার না করলে পবিত্রতা অর্জন হবে না।
সূত্র– ফাতওয়ায়ে শামী।
পায়খানা করার পর টিস্যু ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। ঢিলা বা কুলুখ ব্যবহার করা সুন্নাত।
পেশাব-পায়খানার পরে নাপাকী দুইভাবে দূর করা যেতে পারেঃ
(১) পানি দ্বারা এবং
(২) ঢিলা-কুলুখ অথবা টিস্যু দ্বারা।
পানি দ্বারা নাপাকী দূর করলে তার পূর্বে ঢিলা বা কুলুখ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়ে ‘কুবা’ মসজিদের কিছু মুসল্লী ঢিলা-কুলুখ না নিয়ে সরাসরি পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতো। আর আল্লাহ তাআলা এই কাজটিকে পছন্দ করেছিলেন, এজন্য তাদের প্রশংসা করে কুরআনে আয়াতও নাযিল করা হয়েছিলো।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সেখানে এমন কিছু লোক আছে যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র রাখতে পছন্দ করে। (সুরা তাওবাঃ ১০৮)।
খুযায়মা ইবনু ছাবেত (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল যে, ইস্তিঞ্জার সময় কয়টি পাথর (কুলুখ) ব্যবহার করা উচিত? জবাবে তিনি (সাঃ) বলেনঃ তিনটি প্রস্তর, যার মধ্যে গোবর থাকবে না।
(সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৪১)।
আর যদি পায়খানা করার পর পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার হয়ে যান, তাহলে এতেও পবিত্র হয়ে যাবেন। এর পূর্বে টিস্যু ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। টিস্যু ব্যবহার উত্তম।