4 Answers
শারীরিক সামর্থ থাকলে বিয়া করা ফরজ। ইচ্ছা করে অবিবাহিত থাকা, সন্যাস ইত্যাদি ইসলামে অবৈধ। এমনকি আর্থিক ভাবে বউকে খেতে দিতে পারবেন না বলে বিয়া করবেন না সেটাও গ্রহনযোগ্য নয়। এখানে শারীরিক যোগ্যতা থাকলে কামাই করে বউকে খেতে দিতে পারবেন বলেই এই বাধ্যতামূলক কথা প্রজোয্য। অলসতা করে কাজ করবেন না তা ইসলাম সামর্থন করেনা।
যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে কিন্তু বিয়ে না করলে তার চরিত্র নষ্ট হয়ে অবৈধ সম্পর্কে ও জিনায় লিপ্ত হবে, তার জন্য বিয়ে করা ফরয। এছাড়া যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে কিন্তু বিয়ে না করলেও চরিত্র ঠিক থাকবে তার জন্য বিয়ে করা সুন্নাহ অথবা মুস্তাহাব। তার বিয়ে করা উচিত। যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, স্ত্রীর হক্ক আদায় করতে পারবেনা তার জন্য বিয়ে করা হারাম।
বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে সুন্দর ও পবিত্র জীবনযাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওযার ব্যবসস্থা করেছে। আল্লাহ বিয়ের নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে যারা জুড়িহীন, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা উপযুক্ত তাদেরও।’ (সূরা নূর-৩২)
কোনো কোনো আলিমের মতে, বিয়ে করা ওয়াজিব। অবশ্য তার সপক্ষে হাদীসেরও সমর্থন রয়েছে। ফিকাহবিদগণ লিখেছেন, যৌন তাকীদ যখন সহ্যসীমা অতিক্রম করে যায় এবং শরঈ সীমা ভেঙে ফেলার আশঙ্কা দেখা দেয়, অর্থাৎ উক্ত দুর্ঘটনায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবলতর হয়ে ওঠে, তখন মুমিন লোকের পক্ষে বিয়ে করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কিন্তু যৌন তাড়না যদি সীমাতিক্রম না করে, তাহলে সেমতাবস্থায় বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। পক্ষান্তরে, স্ত্রীর হক আদায় করতে না পারার ধারণা যদি প্রবলতর হয়, তাহলে সেমতাবস্থায় বিয়ের ফাঁদে নিজকে জড়ানো শরীয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় অর্থাৎ মাকরূহ। বরং স্ত্রীর হক আদায় করতে না পারার ব্যাপারে যে- ব্যক্তি স্থির নিশ্চিত, তার পক্ষে বিয়ে করা হারাম।
হাদীসে রাসূলে (সা.) বলেন, বিয়ে করলে মানুষ বহু রকম অনিষ্ট থেকে বেঁচে যায়। বরং কেউ যদি স্বীয় কাম-প্রবৃত্তির আঁচল নিষ্কলুষ ও পবিত্র রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় হতে চায়, তবে এটাই তার একমাত্র পথ। ‘আল্লাহর সাথে যে পাক-পবিত্র অবস্থায় মিলিত হতে চায়, তার ভদ্র মহিলাদের বিয়ে করা উচিত।’ (মিশকাত, বিবাহ অধ্যায়) নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বান্দাহ যখন বিয়ে করলো, তখন সে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করলো। (মিশকাত, বিবাহ অধ্যায়)
রাসূলের দৃষ্টিতে অবিবাহিত ব্যক্তি:
একবার নবী করীম (সাঃ) বললেন, ‘যার স্ত্রী নেই, সে মিসকীন।’ সাহাবা কিরাম আরয করলেন ঃ সে ব্যক্তি মালদার হলেও? তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, সে ব্যক্তি মালদার হলেও (যদি তার স্ত্রী না থাকে, তবে সে মিসকীন)’। অতঃপর নবী করীম (সাঃ) বললেন: ‘যে স্ত্রীলোকের স্বামী নেই, সেও মিসকীন।’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার নিকট যদি অঢেল সম্পদ থাকে, তবুও সে মিসকীন? তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ তবু সে মিসকীন।’ (জামউল ফাওয়ায়িদ, বিবাহ অধ্যায়, ১ম খন্ড, পৃঃ ২১৬)।
আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ে না করে থাকাকে নিষেধ করেছেন। তাই অবিবাহিত থাকা যাবে না। বিয়ের যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই বিয়ে করতে হবে। কিয়ামতে যখন জিজ্ঞেস করা হবে যে, তোমার যৌবন কোন পথে ব্যয় করেছ? তখন কি উত্তর দিবেন? বিয়ের মাধ্যমে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হয়। আর বিয়ে ফরজ কি না- এটা মূলত আপেক্ষিক। কারও ক্ষেত্রে বিয়ে ফরজ হয়ে যায়, কারও ক্ষেত্রে ওয়াজিব, আবার কারও ক্ষেত্রে সুন্নাত। মূলত, বিয়ে রাসূল(স.) এর সুন্নাত।
এখানে বিয়ের বিধানটি নির্ভর করছে ব্যক্তির ওপর। বিষয়টি আপেক্ষিক। কারো জন্য ফরজ, কারো জন্য সুন্নত। তবে এর আরো বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে।
ইসলামে ব্যক্তির স্বাবলম্বী ও সক্ষমতার বিভিন্ন ধরণসাপেক্ষে বিয়েকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ওয়াজিব বিয়ে: যখন শারীরিক চাহিদা থাকে এবং এই পরিমাণ সামর্থ্য থাকে যে তার এবং স্ত্রীর প্রতিদিনের খরচ বহন করতে পারবে, তখন বিয়ে করা ওয়াজিব। এ অবস্থায় বিয়ে থেকে বিরত থাকলে গুনাহগার হবে।
ফরজ বিয়ে: যদি সামর্থ্য থাকার সাথে সাথে চাহিদা এতো বেশি থাকে যে, বিয়ে না করলে ব্যাভিচার বা হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন বিয়ে করা ফরজ।
সুন্নত বিয়ে: যদি শারীরিক চাহিদা প্রবল না থাকে, কিন্তু স্ত্রীর অধিকার আদায়ের সামর্থ্য রাখে তখন বিয়ে করা সুন্নত। এ অবস্থায় খারাপ কাজের প্রতি ঝোঁকার আশঙ্কা না থাকলে বিয়ে না করলে কোনো অসুবিধা নেই।
নিষিদ্ধ বিয়ে: যদি কারো আশঙ্কা হয় সে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে পারবে না। চাই তা দৈহিক হোক বা আর্থিক। তার জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ।
সামর্থ্য না থাকলে রোজা রাখা: অনেকের বিয়ের ইচ্ছে আছে, সক্ষম পুরুষও কিন্তু স্ত্রীকে ভরণ পোষণ দেয়ার ক্ষমতা নেই। এ অবস্থায় বিয়ে না করে রোজা রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে হাদিসে। কারণ রোজা দৈহিক কাম উত্তেজনা দূর করে দেয়।
এ সময়সক্ষমতা অর্জনের জন্য বেশি বেশি কাজ ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা তাদের বর্ণনা দিচ্ছেন যাদের বিবাহ করার সার্মথ্য নেই। তারা যেন সামর্থ্যবান হওয়া পর্যন্ত নিজেকে পবিত্র রাখে, কোন অবৈধ সম্পর্কে জড়িত হয়ে নিজেকে কলুষিত না করে। সামর্থ্য দুই ধরনের একটি হল আর্থিক, অন্যটি হল দৈহিক।
এখানে মূলত আর্থিক সামর্থ্যরে কথা বলা হয়েছে। যেমন হাদীসে এসছে: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হে যুবকের দলেরা! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহ করতে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে, কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে, লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখবে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা এটি তার যৌনশক্তিকে দমন করবে। (সহীহ বুখারী হা: ১৯০৫, সহীহ মুসলিম হা: ১৪০০)।
সুতরাং যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নেই তাদের উচিত বেশি বেশি নফল রোযা রাখা।