2 Answers
কুরআন পাকের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো, আয়াতুল কুরসী । এ আয়াতের মধ্যে আল্লাহর সত্তাবাচক ও গুণবাচক নামের সমাবেশ রয়েছে । আয়াতুল কুরসীতে আল্লাহর প্রভুত্ব,একাত্ববাদ,জীবন,জ্ঞান,স্থায়ীত্ব, কুদরত,অভিপ্রায় ইত্যাদি গুণাবলির বর্ণনা করা হয়েছে ।তার আয়াতুল কুরসী পাঠ করা খুব প্রয়োজন ।
☆ হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে - প্রত্যেক বস্তুর একটা মূল বা চূড়া আছে । পবিত্র কুরআন শরীফের শীর্ষ সূরা হলো সূরা বাকারা এবং উত্তম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসী । (তিরমিজি শরীফ)
☆ হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত - একদা রাসূলে পাক (সাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,"হে আবুল মোনজের ! পবিত্র কুরআনে কোন আয়াতটি তোমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে হয়? আমি বললাম "আয়াতুল করসী" ।আমার উত্তর শুনে হুযুর (সাঃ) তাঁর পবিত্র হাত দ্বারা আমাকে বুকে মৃদু আঘাত করে বললেন,"হে আবুল মোনজের ! কি উত্তম জ্ঞানই না তুমি অর্জন করেছ !"
☆ হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে , যে ব্যাক্তি প্রত্যেক নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে,তার বেহেশতে প্রবেশে মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধাঁ থাকবে না ।
☆অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে - যে ব্যাক্তি সকালে ও নিদ্রায় যাবার কালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে , আল্লাহ হবেন তার রক্ষক , দিন ত রাতের মধ্যে শয়তান তার অনিষ্ট করতে পারবে না ।
☆আবার, বাসগৃহ বা দোকান গৃহ ইত্যাদির দরজায় অত্র আয়াত লিখে লটাকয়ে রাখলে উপার্জন বৃদ্ধি হয় এবং চোর-ডাকাত প্রবেশ করতে পারবে না।
তাই অত্র আয়াতটি অর্থ্যাৎ আয়াতুল করসী খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
2950 views
Answered
-
আয়াতুল কুরসী (আরবি: آية الكرسي) হচ্ছে মুসলমানদের ধর্মীয়গ্রন্থ পবিত্র কুরআন শরীফের দ্বিতীয় সূরা আল-বাকারার ২৫৫তম আয়াত। এটি কুরআন শরীফের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আয়াত এবং ইসলামিক বিশ্বে ব্যাপকভাবে পঠিত ও মুখস্থ করা হয়। এতে সমগ্র মহাবিশ্বের উপর আল্লাহর জোরালো ক্ষমতা ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলমানগণ বিশ্বাস করে যে, এটি পাঠ করলে অসংখ্য পূণ্য লাভ হয়।
-
আয়াতুল কুরসীর গুরুত্বঃ
-
জান্নাতের দরজাঃ আবু উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না।”
-
মর্যাদাসম্পন্ন মহান আয়াতঃ আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা:) রাসূল (সা:)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা:)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসূল (সা:) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী। উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে (হালকা) আঘাত করে বলেন: আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান আনন্দদায়ক হোক।
-
ফেরেশতা নিযুক্তকারী আয়াতঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) একদিন দেখতে পেলেন একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করছে তখন তিনি আগন্তুকের হাত ধরে বললেন, “আল্লাহর কসম ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব”। তখন আগন্তুক বলে যে, সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন। তাই দয়া করে আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন সকালে রাসূল (সাঃ) এর কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন “গতকাল তোমার অপরাধী কি করেছে?” আবু হুরায়রা (রাঃ) তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসূল (সাঃ) বললেন, “অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।” পরদিন আবু হুরায়রা (রাঃ) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তিনি তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন “এবার অবশ্যই, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব।” এবারও সেই চোর বলে যে, সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন আর শপথ করে যে আর আসবে না। পরদিন আবারও রাসূল (সাঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন আর তখন তিনি বলেন, “আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।” পরদিনও আবার আবু হুরায়রা (রাঃ) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তিনি তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন “এবার অবশ্যই, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। তুমি বার বার শপথ কর আর চুরি করতে আস ।” চোর যখন দেখল এবার সে সত্যিই রাসূল (সাঃ) এর কাছে নিয়ে যাবে তখন অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলে , “আমাকে মাফ কর। আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন ।” আবু হুরায়রা (রাঃ) সেটা জানতে চাইলে চোর বলে ; “যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসী (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল……) পড়ে ঘুমাবে, তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন, যে তোমার সাথে থাকবে আর কোন শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না ।” এটা শুনে আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন রাসূল (সাঃ) আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন ; “যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে।” রাসূল (সাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বললেন ;“তুমি কি জান সে কে?” আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, “না।” রাসূল (সাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বললেন, “সে হচ্ছে শয়তান।” (সহীহ বুখারী নং ২৩১১)।
-
যিকিরের আয়াতঃ উবাই ইবনে কা‘ব হতে বর্ণিত, তাঁর এক খেজুর রাখার থলি ছিল। সেটায় ক্রমশ তার খেজুর কমতে থাকত। একরাতে সে পাহারা দেয়। হঠাৎ যুবকের মত এক জন্তু দেখা গেলে, তিনি তাকে সালাম দেন। সে সালামের উত্তর দেয় । তিনি বলেন: তুমি কি ? জিন না মানুষ? সে বলে: জিন। উবাই (রাঃ) তার হাত দেখতে চান। সে তার হাত দেয়। তার হাত ছিল কুকুরের হাতের মত আর চুল ছিল কুকুরের চুলের মত। তিনি বলেন: এটা জিনের সুরত। সে (জন্তু) বলে: জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি সবচেয়ে সাহসী। তিনি বলেন: তোমার আসার কারণ কি? সে বলে: আমরা শুনেছি আপনি সাদকা পছন্দ করেন, তাই কিছু সাদকার খাদ্যসামগ্রী নিতে এসেছি। সাহাবী বলেন: তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? সে বলে: সূরা বাকারার এই আয়াতটি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহ হুআল হাইয়্যূল কাইয়্যূম), যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পড়বে, সকাল পর্যন্ত আমাদের থেকে পরিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি সকালে এটি পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের থেকে নিরাপদে থাকবে। সকাল হলে তিনি রাসূল (সাঃ)-এর কাছে আসেন এবং ঘটনার খবর দেন। রাসূলুল্লাহ বলেন: “খবীশ (শয়তান) সত্য বলেছে” (সহীহুত তারগীব: ১/৪১৮)।
2950 views
Answered