5 Answers
না।ইসলাম এগুলোকে সম্পুর্ন হারাম বলেছেন।এগুলো থাকলে নামাজ হবে না।কিন্তু হাতে মেহেদি দিলে নামাজ হয়।
না নামাজ হবে না। শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা হারাম আর নেলপলিশ ব্যবহার করলে অজু হয়না, আর অজু না হলে নামাজও হবে না।
ট্যাটুর হুকুম সম্পর্কে জানার আগে জানা উচিৎ ট্যাটু কাকে বলে?
মানুষের শরীরের চামড়ায় মোট সাতটি স্তর থাকে। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের চামড়ায় সুঁই বা এজাতীয় কোনো কিছু দিয়ে ক্ষত করে তাতে বাহারি রং দিয়ে নকশা করাকে উল্কি বা ট্যাটু বলে।
ট্যাটু সাধারণত দু'প্রকারঃ-এক,স্থায়ী৷দুই,অস্থায়ী৷
এক-স্থায়ী ট্যাটুর হুকুম,মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কৃত্রিমভাবে সৌন্দর্য সৃষ্টি করা ইসলামে নিষিদ্ধ ও গর্হিত। শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা বেশির ভাগ ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে হারাম।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে।’ (সুরা ত্বিন, আয়াত : ৪) মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কৃত্রিমভাবে সৌন্দর্য সৃষ্টি করা ইসলামে নিষিদ্ধ ও গর্হিত। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা বেশির ভাগ ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে হারাম। তাঁরা বলেছেন, যেসব উপায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট অঙ্গে পরিবর্তন আনা হয়, তার সবই নিষিদ্ধ। আলাদা চুল লাগানো, ভ্রু প্লাক করা, চোখে আলাদা পালক লাগানো ইত্যাদি ইসলাম অনুমোদন করে না।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যেসব নারী সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কন করে এবং যাদের জন্য করে এবং যেসব নারী ভ্রু উৎপাটন করে এবং দাঁত ফাঁকা করে, আল্লাহ তাআলা তাদের অভিসম্পাত করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৬০৪)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, যেসব নারী নকল চুল ব্যবহার করে, যারা অন্য নারীকে নকল চুল এনে দেয় এবং যেসব নারী উল্কি অঙ্কন করে ও যাদের জন্য করে, রাসুল (সা.) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৫৯৮, মুসলিম, হাদিস : ৫৬৯৩)
সুতরাং -কেউ এধরনের ট্যাটু অঙ্কন করলে সে অবশ্যই গোনাহগার হবে,কিন্তু এই ট্যাটু যেহেতু সরাসরি চামড়ার দ্বিতীয় স্তরের সাথে সম্পর্কিত তাই তার অযু হবে এবং নামাজও৷কিন্তু তাওবাহ না করলে সে অবশ্যই গোনাহগার হবে৷
দুই-অস্থায়ী ট্যাটুও হুকুম ,যা শরীরের প্রথম চামড়ায় ছেদ করার মাধ্যমে করা হয়,দেখতে দুটিই অনেকটা একরকম৷এটা হারাম নয় কিন্তু... যদি এই ট্যাটুর কারণে শরীরে পানি না পৌঁছায় তবে অযু ও গোসল হবে না এবং নামাজও৷
এবার আসুন নেইলপালিশ এর কথায়-যদি কোন ক্ষতির আশংকা না থাকে তবে নারীর সাজ-সজ্জা হিসেবে নখে পলিশ করা বৈধ এবং এ পলিশ নিয়ে নামায পড়তেও দোষের কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, পলিশের মধ্যে যদি এমন কোন ধাতু থাকে যার ফলে পলিশের নীচে পানি না পৌঁছে তাহলে পলিশ তুলে ফেলা ছাড়া ওজু ও গোসল শুদ্ধ হবে না। ওজু-গোসল শুদ্ধ না হলে নামাযও শুদ্ধ হবে না। ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়া সংকলন (৫/২১৮) তে এসেছে-
যদি পলিশ নখের ওপর প্রলেপ তৈরী করে তাহলে ওজুর আগে এই প্রলেপ তুলে ফেলা ছাড়া ওজু শুদ্ধ হবে না। আর যদি মেহেদির মত পলিশের কোন প্রলেপ না থাকে তাহলে ওজু শুদ্ধ হবে।
অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই৷আল্লাহ'ই ভালো জানে৷
টেটু বা উল্কি কারীদের উপর আল্লাহর নবী অভিশাপ দিয়েছেন এই মর্মে হাদিস আছে। কিন্তু বলে নাই নামাজ হবে না। আর নেইল পলিশ তো নারীরা শোভা বর্ধনের জন্য করে কিন্তু ইসলামী শরয়ী ফতোয়া মতে নিলপলিশের বদলে মেহেদি দিন। নামাজের বিষয়টা আন্তরিক তবে উপরোক্ত দুটি বিষয় মুমিন মুসলীম বান্দার ভুল বসত করে ফেলে। কাজেই ইসলামিক স্কলার্স ও দাঈদের লেকচার ও অডিও শুনবেন। তবে নামাজ হয়ে যাবে। গ্রহনীয়তা আল্লাহর কাছে তিনি কবুল করবেন কি করবেন না সেটা উনার নিজস্ব বিষয়। ইয়ারহামুকাল্লাহ
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy