পীর/দরবেশ কে কি আল্লাহ স্বপ্নযোগে কোন এলহাম দেন?
1 Answers
অনেক দরবেশ পীর আছে, যারা দাবি করে যে আল্লাহ তাদেরকে স্বপ্নযোগে বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছেন, এই দাবি সত্য মনে করা যাবে তবে তা আগে যাচাই করতে হবে যে, উক্ত ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে কি না, নামায পড়ে কি না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে কি না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে কি না? কিন্তু আপনি প্রশ্নে যা উল্লেখ করেছেন তা দেখেই বলা যায় উক্ত দরবেশ পীর প্রকাশ্য ভন্ড। যে আল্লাহ তাকে স্বপ্নযোগে নবীজি (সাঃ) এর মেরাজ দেখাইছেন এমনকি ঈসমাইল (আঃ) এর কুরবানি পর্যন্ত আল্লাহ তাকে স্বপ্নে দেখাইছেন। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আঃ) কে পরীক্ষা করেছিলেন যে তিনি তার প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে কুরবানি দিতে সম্মত হবেন কী না? শিশু বয়সে আল্লাহর হুকুমে তাকে কুরবানী করতে গিয়ে চোখ বেঁধে ছুরি চালালেন। খানিক পরেই যবেহ হয়ে গেল, তিনি স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন। অবশেষে চোখ খুললেন, দেখলেন, একটি দুম্বা কুরবানি হয়েছে। আর ইসমাইল (আঃ) পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ইসমাইল (আঃ) কুরবানীর সময়-ই মারা গেছেন, শুধু তার আত্না বেঁচে ছিল। এই কথাতেও বোঝা যায় তিনি ভন্ড। ঈসমাইল (আঃ) যে তার পরেও নবী হয়ে বেঁচে ছিলো বহু বছর। তবে মনে রাখতে হবে ইলহাম বা স্বপ্ন শরীয়তের কোন দলীল নয়। বরং শরীয়তের অন্যান্য দলীল অর্থাৎ কুরআন সুন্নাহ ইজমা কিয়াস ইত্যাদির আলোকে ইলহাম ও স্বপ্নের বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। আল্লাহ তায়ালা তার রাসূলগণ ব্যতীত অন্যান্য বান্দাদেরকেও গায়েব সম্পর্কে অবহিত করেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেনঃ তিনি তাদের অগ্র ও পশ্চাত সম্পর্কে অবগত। তার ইলমের কোন অংশ কেউ অবগত হতে পারে না, তবে যাকে তিনি ইচ্ছা করেন অবগত করান। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ২৫৫) এলহাম অর্থ আল্লাহ তাআলার পক্ষ হইতে গায়েবী নির্দেশ প্রাপ্ত হওয়া। আল্লাহ তাআলার প্রিয়তম বান্দাগণের গুণাবলীর মধ্যে ইহা একটি অন্যতম গুণ। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো, কুরআন ও সুন্নাহের অনুসারী আল্লাহর ওলীদের থেকে কারামত প্রকাশিত হওয়া সত্য। সেই হিসেবে আল্লাহ তাআলা কখনো কোন প্রিয় বুজুর্গ বান্দাকে কোন বিষয়ে কাশফ করা তথা কোন বিষয় প্রকাশিত করে দেয়া বা ইলহাম করা তথা কোন বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে দিয়ে থাকেন। এটিকে কাশফ ও ইলহাম বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, তিনিই একমাত্র গায়েব জানেন। কিন্তু কুরআন ও হাদীসের কোথাও এই কথা বলা নেই যে, তিনি গায়েবের বিষয়গুলো অন্য কাউকে জানাবেন না। তিনিই একমাত্র গায়েব জানেন এটি যেমন সত্য, তেমনি আল্লাহ তায়ালা গায়েবের অনেক বিষয় মাখলুককেও জানান, সেটিও সত্য। কিছু কিছু ভন্ড পীর ও বিভিন্ন অলৌকিক কাজ করে দেখায়, (যেমনঃ কেউ হারাইয়া গেলে খুজে দেয়া, পুলিশি মামলা থেকে রেহাই দেয়া বা গায়েবি কোন আওয়াজ করা, গায়েবি হুকুম করা, স্বপ্ন সত্যি হওয়া।) এসব-ই হচ্ছে ভন্ডামি। কুরআন, সুন্নাহর দলিল হচ্ছেঃ একমাত্র আল্লাহ গায়েবের খবর জানেন। তিনি কারো কাছে নিজ গায়েব প্রকাশ করেন না। তবে যখন তিনি কোন নবী রাসুল কে মনোনীত করেন তখন অহী মারফত কিছু অদৃশ্যের সংবাদ জানিয়ে থাকেন। (সূরা-জিন, আয়াত-২৬,২৭)