ইমাম সাহেব প্রত্যেক ফরয নামাযের সালাম ফিরানোর পর মুসুল্লিদের কে নিয়ে যে মুনাজাত করেন তা সহীহ হাদিস ভিওীক কী না?ফরয নামাযের সালাম ফিরানোর পর ইমাম এবং মুসল্লিদের করনীয় কী?দয়া করে সহীহ হাদিস অনুযায়ী জানাবেন উপকিত হব।
2887 views

3 Answers

হাদিসে ফরয নামাজের পর সম্মিলিত মোনাজাতের দলিল রয়েছে। কিন্তু এটি কোনো ফরয-ওয়াজিব না যে আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে করতেই হবে। এটি মুস্তাহাব আমল। আপনার ইচ্ছা হলে ইমামের সাথে নামাজের পর করবেন অথবা নামাজ শেষ করে চলে যেতে পারেন।  মোনাজাত আরবি শব্দ। এর অর্থ কানে কানে কথা বলা।

2887 views

নামাজ আর দোয়া দুই টি আলাদা , নামাজের সাথে দোয়া এর কোন সম্পর্ক নেই,

অধিকাংশ মসজিদে ফরজ নামাজের পর সালাম ফিরানোর পর পরই দুহাত তুলে যে মোনাজাত করা হয় তার শারয়ী ভিত্তি নেই। মোনাজাত আরবী শব্দ, এর অর্থ পরস্পর চুপি চুপি কথা বলা। (আল মুনজিদ ফিল লুগাহ ওয়াল আ’লাম- ৬৯৩ পৃষ্ঠা)

শরীয়তের পরিভাষায় মোনাজাত হল নামাজের মধ্যে আল্লাহর সাথে নামাজির (মুসল্লির) চুপি চুপি কথা বলা। হাদীস গ্রন্থে উক্ত অর্থেই মোনাজাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন- রাসূল (সা.) বলেছেন নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রভুর সাথে মোনাজাত করে (চুপি চুপি কথা বলে) । সহীহ বুখারী হাঃ-৩৯৬,৪১৭,৫৩১-৩২,১২১৪)

রাসূল (সা.) বলেন, নামাজি যখন নামাজ পড়ে তখন সে আল্লাহর নিকট মোনাজাত করে। আল্লাহার সাথে নিরালায় কানে কানে কথা বলে। (মুসনাদে আহামদ- ৪/৩৪৪)

অতএব, সেই নৈকট্যের ধ্যান ভগ্ন করে এবং মহানাবী (সা.) এর নির্দেশিত মোনাজাত থেকে বেরিয়ে এসে পৃথক মোনাজাত করা যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা- রাসূল (সা.) বলেন, নামাজের মাঝেই বান্দা তার প্রভুর ধ্যানে ধ্যানমগ্ন থাকে। যতক্ষণ সে নামারা থাকে ততক্ষণ সে আল্লাহর সাথে কথা বলে। তিনি বান্দার প্রতি মুখ ফেরান, বান্দা সালাম না ফেরানো পর্যন্ত আল্লাহ মুখ ফিরিয়ে নেন না। (সহীহুল জা’মে, হা- ১৬১৪)

2887 views

★ফরজ নামাজের পর মোনাজাত করা মুস্তাহাব।


★এটি রাসুলুল্লাহ এবং সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এবং প্রমাণিত।

★যারা বলেন এর কোন ভিত্তি নেই তারা আসলেই গোমরাহ।

★অনুমানভিত্তিক কথাবার্তা চরম মিথ্যা!

★সিহাহ সিত্তার অন্তর্ভুক্ত একটি হাদিসঃ

রাসূল সাঃ প্রতি নামাযের পর এই শব্দে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কৃপণতা থেকে পানাহ চাই। এবং অভাব থেকে পানাহ চাই এবং অশীতিপর বৃদ্ধাবস্থা থেকে পানাহ চাই এবং দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আজাব থেকে পানাহ চাই। 
[সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫৪৭৯]

★হাত তুলে মোনাজাত এর একটি হাদিসঃ

হযরত মুহাম্মদ বিন আবী ইয়াহইয়া বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ কে দেখলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে নামাযের ভিতরে হাত তুলে দুআ করছেন। যখন লোকটি নামায শেষ করল। তখন তিনি তাকে বললেন, নিশ্চয় রাসূল সাঃ নামায শেষ করার আগে হাত তুলে দুআ করতেন না। 

[আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৩২৪]

★সম্মিলিত মোনাজাত এর দু'টি হাদিসঃ

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন গ্রাম্য সাহাবী রাসূল সাঃ এর কাছে আসলেন জুমআর দিন। এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিনিস পত্র, পরিবার, মানুষ সবই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একথা শুনে রাসূল সাঃ তার উভয় হাত উত্তলোন করলেন দুআর উদ্দেশ্যে। উপস্থিত সবাই রাসূল সাঃ এর সাথে দুআর জন্য হাত উত্তোলন করলেন।

[সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১০২৯]

হযরত সালমান রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন কোন জামাআত তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করার আশায় আল্লাহর দরবারে হাত উঠায়, তখন আল্লাহর উপর হক হল প্রার্থিত বিষয় উক্ত জামাতকে প্রদান করা।

[আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৬১৪২]

দ্রষ্টব্যঃ

১.সম্মিলিত মোনাজাত না করলে তাতে কোন সমস্যা নেই তবে করা উচিত এবং তা উত্তম।

২.এই বিষয়কে যদি কেউ বিদআ'ত বা হারাম বলে তাহলে কুফুরির অন্তর্ভুক্ত হবে।

৩.উপরোল্লিখিত শেষোক্ত হাদিসের সনদ সম্পর্কে আল্লামা হায়ছামী (রহ.) এর অভিমতঃ

এ হাদীসের সনদের সকল রাবীগণ সহীহের রাবী।
{ মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭৩৪১}




2887 views

Related Questions