জায়নামাজের দোয়া পাঠ করা কি,ফরয,নফল, ওয়াজিব, না মূসতাহাব?
আর যদি জায়নামাজের দোয়া পাঠ না করি তাহলে কি নামায হবে?
2 Answers
শরীয়তে কোনো জায়নামাজের দোয়ার উল্লেখ নেই। তাই, এটা না পড়লে গুনাহ্ হওয়ার কোন অবকাশই নেই। তথ্যসূত্রঃ NTV
নামাযের আগে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে এই দোয়া পড়া আল্লাহুম্মা ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়ায হিয়া লিল্লাযি ফাতারাস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ হানীফা ওমা আনা মিনাল মুশরিকীন। যা শরীয়তের কোন দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। মুলতঃ জায়নামাযের দোয়া বলতে শরীয়তে কিছু নেই। অবশ্য উপরোক্ত দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কখনো তাহাজ্জুদের নামাযে তাকবীরে তাহরীমার পর সানার স্থানে পড়তেন বলে প্রমাণিত আছে। যেমন, আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ . أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ (হে আল্লাহ।) অভিমুখী করলাম একনিষ্ঠ হয়ে আমার চেহারা সে সত্তার দিকে যিনি আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার ইবাদত ও কুরবানী এবং আমার হায়াত ও মাওত রাব্বূল আলামীন (বিশ্ব প্রতিপালক) আল্লাহর জন্য যার কোন শরীক নেই। আর আমি এ বিষয় আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলমানদের একজন। হে আল্লাহ! আপনই বাদশাহ, আপনি ব্যতীত ইলাহ নেই, আমার প্রতিপালক এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের উপর যুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব আমাকে আমার সব গুনাহ মাফে করে দিন। আপনি ব্যতীত আর কেউই তো ক্ষমাকারী নেই এবং আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত রুকন। আপনি ব্যতীত কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করতে পারে না এবং মন্দ চরিত্র থেকে আমাকে দুরে নিন। মন্দ চরিত্রগুলো আপনি ব্যতীত কেউ আমা থেকে সরাতে পারে না। আপনার নিকটে আমি হাযির! আনুগত্য আপনারই জন্য নিবেদিত! সকল কল্যাণ আপনারই হাতে, অকল্যান আপনার প্রতি সম্পৃক্ত নয়। আমি আপনার উপর নির্ভরশীল এবং আপনার দিকেই রজ্জু হই। আপনি বরকতময়, আপনি মহামহিম, আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করছি, আপনার জন্য বিনীত। আমার কান, আমার চোখ, আমার অস্থি-মজ্জা এবং আমার শিরা-উপশিরা। আর যখন রুকু থেকে উঠতেন তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের রব, আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। হে আমাদের প্রতিপালক! আসমান সমুহের মধ্যবর্তি ও যমীন এবং দুয়ের মধ্যবর্তি আকাশভর্তি এবং এরপর আপনি যা কিছু ইচ্ছা করবেন তাও ভর্ভি। আর তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনারই জন্য সিজদা করছি। আপনার প্রতি ঈমান আনছি। আমার চেহারা সিজদাবনত সে সত্তার জন্য যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তার আকৃতি দান করেছেন, তার মধ্যে কান ও চোখ ফূটিয়েছেন, কতই মহান বরকতময় আল্লাহ সর্বোত্তম স্রষ্টা। তারপর তাশাহুদও সালামের মাঝে সর্বশেষ এ দুআ পাঠ করতেন। হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন আমার পূর্ববর্তী গোনাহ এবং পরবর্তী গোনাহ এবং যা আমি গোপন করেছি ও যা আমি প্রকাশ্যে করেছি এবং যা আমি সীমালঙ্ঘন করেছি এবং সে সকল অপরাধ যা আপনি আমার চেয়ে অধিক অবগত। আপনি এগিয়ে দেওয়ার ও পিছিয়ে দেওয়ার মালিক। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। (সহীহ মুসলিম হাদিস নম্বরঃ ১৬৮৫ হাদিসের মানঃ সহিহ)। নামাযের শুরু হলো তাকবীরে তাহরিমা দিয়ে। সালামের মাধ্যমে নামায শেষ অতএব, এই তাকবীরের আগে আর কোনো কার্যক্রম নেই। কেউ যদি তাকবীরে তাহরীমা আগে ইন্নি ওয়াজ্জাহতু না পড়ে, তাহলে তার নামায হয়ে যাবে।