আমার জীবনটা কি সব দিক থেকে এভাবে শেষ হয়ে যাবে, আমি এখন কী করব?
আমি ছেলে। বয়স ১৮। এইচএসসি দিয়েছি এইবার। তার সাথে আমার ২ বছরের সম্পর্ক। সে আমার সহপাঠী। কিন্তু এক ই কলেজের না। শুরু থেকেই সম্পর্কেই সবার থেকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে আসতেছি আমি। কিন্তু সে আমাকে আজ পর্যন্ত অনেক মিথ্যা বলছে। সম্পর্কের গুরত্ত টা শুরুতে ভালো থাকলেও এখন খুবই কম। কিছুদিন আগে এমন ও বলেছে যে, "আমি আমার মত চলমু, যা ইচ্ছা করমু। তুমি থাকলে থাকো, নইলে যাও গা।", "কী যোগ্যতা আছে তোমার? কোন জোরের কারণে আমার উপর দিয়ে কথা বলো? চেহারা, টাকা-পয়সা, পড়াশুনা কী আছে? আমার সাথে থাকতে চাইলে আমার উপর দিয়ে কথা বলতে পারবা না। আমার সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিবা... ইত্যাদি" আমি শুধু তাকে বলেছিলাম পর্দায় থাকতে, ছেলেদের থেকে দূরে থাকতে, নিজেকে লুকি রাখতে। সে চায়, নিজেকে এক্সপ্রেস করতে সবার সামনে। তাদের পরিবার নাকি পর্দা করলে গাইয়া হয়ে যায়।
আমাদের পরিবার তাদের মত ধনী না। মধ্যবিত্ত এর মত বা তারও কম। ক্লাস ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ও ভালো ছাত্র ছিলাম। রোল ১,২,৩ এর মধ্যেই থাকতো। কলেজে এসে সম্পর্ক হয়। আমার পড়াশোনার ক্ষতিও হয়। যেমনঃ আমার ইন্টারে ফেলও আসতে পারে। কিন্তু কথা সেটা না। আমি সবার আগে তাকে প্রাধান্য দিতাম। সে প্রথম দিকে অনেক গুরুত্ত দিত। পরে যখন বুঝেছি যে, আমাদের মানসিকতা আলাদা। আমি বুঝিয়ে বলেছিলাম, আমাদের সামনে যাওয়া ঠিক হবে না। সে বলেছে, সে আমাকে ছাড়া থাকতে পারবেনা। তারপর আমিও আগাই...
আমি তাকে অন্ধবিশ্বাস করতাম। সে এই বিশ্বাস নস্ট করেছে। তবুও আমি তাকে সুযোগ দিয়ে থেকেছি। কারন তাকে ছাড়া আমি থাকতে পারিনা। এই দুর্বলতা টা হয়ত বুঝে গিয়েছিলো। আমি আবিষ্কার করি যে সে আমাকে আগে বেশ কয়েকটা বিষয়ে মিথ্যা বলেছে, কথা লুকিয়েছে। আমি এগুলা মাফ করে সুযোগ দিয়েও তার সাথেই আছি। তাকে ছাড়তে পারিনা দেখে।
কিছুদুন আগে সে উপরের নীললেখা গুলার কথাগুলা বলার পর, আমি আর কিছু বলিনাই। পরে সে সরি বলছে, আর বলছে, এমন আর বলবে না। ২-১ দিন ধরে সে বলতাছে, মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে সে আমাকে বিয়ে করতে পারবে না। আমি যদি তাদের রাজি করাতে পারি, তবেই সম্ভব। এছাড়া সে আর কিছু করতে পারবেনা। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি যে, যেকোনো মূল্যে আমি তোমাকে চাই। তুমি আমাকে চাও কিনা যেকোনো মূল্যে? মা-বাবা কে রাজি করানোর ক্ষমতা আছে কিনা তোমার বা তারা রাজি না হলে, তাদের বিপক্ষে যাইতে পারবা কিনা আমার জন্য?
সে বলছে, "না"
এতদিনে সে এই কথা কেন বলে? যদি আমার জন্য কিছু করার ই না থাকে রিলেশন কেন করছে? আমার জীবন নিয়ে খেলার জন্য? আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারি না, সেই সুযোগ এর সৎ ব্যবহার এর জন্য?
এখন আমি কী করব? কিছুদিন পর হসচ রেজাল্ট দিবে, পাস না ফেল, তার ই ঠিক নাই। আমি জানি, রিলেশন না করলে আমার ইঞ্জিনিয়ার হউয়ার স্বপ্ন ভাংত না। ফেল করমু এমন চিন্তাও মাথায় আসতো না। তার অনেক বিষয় আমি মানতে বাধ্য হয়ছি, যেগুলা আমি মরে গেলেও মানতাম না। বন্ধুদের থেকে, মাবাবার থেকেও বেশি প্রায়োরিটি দিছি। দিনের সবটা সময় তাকেই দিছি। কোনো দিন একবারের বেশি দুইবার আমাকে ফোন দিতে হয় নাই। মেসেজ দিয়ে ২মিনিট তার অপেক্ষা করতে হয়েছে কিনা সন্দেহ। সে যাতে মেসেজ দিয়ে অপেক্ষা না করে, চিন্তা না করে, তার জন্য গোসল করতে গেলেও ফোন সাথে নিয়ে যাই আমি। আমার কোনো ভুল সে আজ পর্যন্ত ধরতে পারে নাই, কোনো মিথ্যা বলিনাই আমি, কথা ভঙ্গ করি নাই, অন্য মেয়ের প্রতি আগ্রহ দেখানোর মতো কাজ তো জিবনেও করি নাই।
যার জন্য এত কিছু, সে এখন এগুলা বললে আমি কী করব??? আমার জীবনটা কি সব দিক থেকে এভাবে শেষ হয়ে যাবে? আমি কি ঝুলে থাকবো তার এইরকম কথার কাছে?
5 Answers
জানিনা ভাল নিবেন নাকি খারাপ ভাবে। আমি আপনাকে একটি কথায় বলবো, এই মেয়ে কে এভয়েড করতে শিখুন। আগে যেমন ভাল ছাত্র ছিলেন সেই ভাবে পড়াশুনা করুন। বাবা মা অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করায়। তাদের কথা ভাবুন। তাদের কষ্টের কথা ভাবুন। এই মেয়ে আপনাকে ভালবাসলে আপনার কথা শুনতো, হা তার ইচ্ছার কথা আপনাকে বুঝিয়ে বলতো। সো এসব করে জীবন নষ্ট না করে পড়াশুনা করুন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে অনেক সুন্দর এবং ভদ্র মেয়ে পাবেন। আর কিছু করতে না পারলে যে মেয়ের জন্যে পাগলামি করছেন সেও ভাগবে। যে মেয়ে যাই বলুক না কেন। বিয়ে করার সময় প্রতিষ্ঠিত কাউকেই চাই। সো নিজেই ভাবুন আপনার কি করা উচিৎ। (জানি আমার কথায় আপনার যাই আসেনা, সেই মেয়ে একটু বুঝিয়ে বললেই সব ভুলে যাবেন। বাট এই মেয়ে যেহেতু আপনার যোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছে সো সাবধান। যাই করেন পড়াশুনা ঠিক রাখেন। নইলে জীবনে অনেক বেশি পস্তাবেন লিখে রাখুন) আমার কথায় কিছু মনে করবেন না। আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকেই বললাম।
আরে ভাই নিজের ভালো পাগলেও বোঝে।আসলে মেয়েটি হচ্ছে ওভার স্মার্ট।সে চাইছে আপনাকে ব্যাবহার করতে।তার থেকে সরে আসুন।তাকে তার মত ছেড়ে দিন।আর তাকে ভোলার চেষ্টা করুন।আমিও জীবনে এমন কিছু মানুষের ধোঁকায় পড়েছি।কিন্তু আমি আবার উঠে দারিয়েছি।তাদের মন থেকে মুছে দিয়েছি।ভেবে দেখুন আপনার সাথে যে এখনি এমন ব্যাবহার করছে,যদি আপনাদের বিয়ে হয়(বিয়ের কথা বলাটা ঠিক হয়নি হয়তো।তবুও ভেবে দেখুন)।সে যদি আপনার জীবনে আসে তাহলে সে আপনার সাথে কি কি করতে পারে?অতএব সব কিছু আপনার হাতে।যদি সুন্দর জীবন চান তবে তাকে ভোলার চেষ্টা করুন।
আপনার বক্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে মেয়েটি প্রকৃতপক্ষে আপনাকে ভালোবাসে না। মেয়েটি চাইছে আপনাকে ব্যবহার করতে। এরকম দুভাষী মেয়েকে আপনি কখনই বিয়ে করবেন না। তাই বলছি আপনি তাকে ভুলে যান আর নিজের পড়াশুনার প্রতি মনযোগ দিন। এতে আপনার ভবিষ্যৎ ভালো হবে।
সম্পর্কের মাঝে একটি বড় বিষয় হচ্ছে স্যাক্রিফাইজ।একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে উভয়কেই কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।এক্ষেত্রে বরাবরই আপনি একাই ত্যাগ স্বীকার করবেন তাতো হবে না।এরফলে বোঝা যায় অন্য ব্যক্তিটির কাছে আপনার সম্পর্কের মূল্য কম।ব্যক্তিটি যদি রাগের কারণেও নীল লেখার অংশটুকু বলে থাকে তারপরেও ঐ কথার মাধ্যমে তার মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।তবে বিয়ের ব্যাপারটা আলাদা।পরিবারকে কষ্ট দিয়ে অন্যের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া তো কোন ভাল বিষয় নয়।যদিও এক্ষেত্রে তার মানসিকতা অন্যরকম ছিল।অর্থাৎ,সে হয়তো পরিবার নয় বরং নিজের ভালোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।এখন মূল কথাটা হচ্ছে যেহেতু প্রেম-ভালবাসা মানুষকে ধ্বংস করে তাই এটা থেকে দূরে থাকাই উত্তম।আর যেহেতু মেয়েটা আপনাকে ব্যবহার করেছে বা স্বেচ্ছায় আপনি ব্যবহার হতে চেয়েছেন সেটা আপনার বিষয়।আমি একটাই পরামর্শ দিতে পারি,তা হচ্ছে প্রেম-ভালবাসার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন।