2 Answers

আন-নাহল : (32) الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ طَیِّبِیۡنَ ۙ یَقُوۡلُوۡنَ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمُ ۙ ادۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۳۲﴾ আল্লাযীনা তাতাওয়াফফা-হুমুল মালাইকাতুতাইয়িবীনা ইয়াকূলূনা ছালা-মুন ‘আলাইকুমু দ খুলুল জান্নাতা বিমা-কুনতুম তা‘মালূন। ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে যাদের পবিত্র থাকা অবস্থায় ফিরিশতাগণ প্রাণ হরণ করে; ফিরিশতাগণ (তাদেরকে) বলে, ‘তোমাদের প্রতি শান্তি![১] তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।’ [২]  [১] এই আয়াতগুলিতে যালেম মুশরিকদের বিপরীতে ঈমানদার ও মুত্তাকীদের চরিত্র এবং তাদের উত্তম পরিণতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁদের দলভুক্ত করুন। আমীন। [২] সূরা আ'রাফের ৭:৪৩ নং আয়াতের টীকায় এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি নিজ আমলের জোরে জান্নাতে যেতে পারবে না, যতক্ষণ তার প্রতি আল্লাহর দয়া না হবে। কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে যে, তোমরা নিজ আমলের বিনিময়ে বা ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর। আসলে এর মধ্যে কোন পরস্পর-বিরোধিতা নেই। কারণ আল্লাহর রহমত ও দয়া পেতে হলে সৎকর্ম একান্ত জরুরী। সৎকর্ম আল্লাহর রহমত পাওয়ার একমাত্র উপায়। অতএব আমলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। আমল ছাড়া পরকালে আল্লাহর রহমত কোনক্রমেই সম্ভব নয়। সুতরাং উক্ত হাদীসের অর্থ নিজ জায়গায় সঠিক এবং আমলের প্রয়োজনীয়তাও স্বস্থানে বহাল। সেই কারণে অন্য এক হাদীসে বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আকার-আকৃতি ও ধন-সম্পদ দেখবেন না, বরং তিনি দেখবেন তোমাদের হৃদয় ও কর্ম।" (মুসলিমঃ কিতাবুল বির্র)  

2965 views Answered
সুরা আন-নাহল এর ৩২ নাম্বার আয়াত এর বাংলা অনুবাদঃ যাদের পবিত্র থাকা অবস্থায় ফিরিশতাগণ প্রাণ হরণ করে, ফিরিশতাগণ 'তাদেরকে' বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।

এখানে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর সময় ঈমানদারগণের যে অবস্থা হয় এবং ফিরিশতাগণ তাদেরকে কিভাবে সাদর সম্ভাষণ জানায় তা বর্ণনা করছেন।

এখানে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেন যে, উত্তম কর্মের প্রতিদান কখনো মন্দ হতে পারে না। যারা দুনিয়াতে ভাল কাজ করবে তারা সর্বদা তাদের ভাল কাজের জন্য উত্তম প্রতিদানই পাবে। দুনিয়াতে তাদের জন্য রয়েছে হাসানাহ তথা উত্তম রিযিক ও সকল সমস্যার সমাধান।

আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিন অবস্থায় পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎ কর্ম করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব। (সূরা নাহলঃ ১৬:৬৭)

আর আখিরাতের জীবন তাদের জন্য আরো উত্তম এবং সেখানকার প্রতিদান পরিপূর্ণ।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা মঙ্গলকর কাজ করে তাদের জন্য আছে মঙ্গল এবং আরও অধিক। কলঙ্ক ও হীনতা তাদের মুখমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না। (সূরা ইউনূসঃ ১০:২৬)

অর্থাৎ যারা মুত্তাকি তাদেরকে আল্লাহ তাআলা এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকেন। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে এসব নেয়ামত তারাই পাবে যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে চলে।

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, এ সেই জান্নাত, যার অধিকারী বানাবো আমার বান্দাদের মধ্যে মুত্তাকীদেরকে। (সূরা মারইয়ামঃ ২০:৬৩)

অর্থাৎ এ আয়াতগুলো জালিম মুশরিকদের সম্পূর্ণ বিপরীত। মুশরিকদের মৃত্যুকালীন অবস্থায় ফেরেশতা তাদের সাথে যে আচরণ করবে, মুমিনদের সাথে তার বিপরীত আচরণ করবে। মুমিনদের রূহ হরণ করার সময় ফেরেশতারা বলবেঃ তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা যা করেছ তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর। এ সুসংবাদ দেয়া হবে মৃত্যুর সময় এবং জান্নাতে প্রবেশের সময়। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন, যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে তখন এর দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের দারোয়ানরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম; তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য। (সূরা যুমারঃ ৩৯:৭৩)

সুতরাং যদি আমরা ঈমান ও সৎ আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি তাহলে আমাদের জন্য এরূপ সুসংবাদ হবে মৃত্যুকালীন ও জান্নাতে প্রবেশ কালে।
2965 views Answered

Related Questions

Next steps