আল্লাহ্ তায়ালার নাম নিয়ে টয়লেট এ যাওয়া যাবে?
3 Answers
না, এই কাগজ নিয়ে বাথরুমে যাওয়াটা জায়েজ নেই। উচিতও নয়। কারণ, এতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নাম লেখা আছে। চেষ্টা করবেন, এটাকে বাইরে কোথাও রেখে যাওয়ার জন্য। যদি দেখেন যে এমন কোনো টয়লেটে যাচ্ছেন বা এমন জায়গায় যাচ্ছেন যে বাইরে রেখে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাহলে চেষ্টা করবেন খুলে এটাকে হেফাজতে কোথাও রেখে যাওয়া যায় কি না। যেমন : পকেটে অথবা ব্যাগের ভেতর। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জাতের, সত্তার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সম্মানিত নাম হচ্ছে আল্লাহ। সুতরাং এটাকে কোনোভাবেই অপমানিত করা, কোনোভাবেই অবমাননা করা ইমানদার ব্যক্তিদের এটা না করাটাই উচিত এবং এর দিকে লক্ষ রাখা উচিত। এ জন্যই মূলত এই নাম নিয়ে টয়লেটে যাওয়া উচিত নয়।
কিন্তু কোনো কোনো বিষয় আছে, যেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। যেমন : আপনি বাজারে গেছেন। এখন আপনার টয়লেটে যেতে হবে, পারছেন না। উপায় নেই, এখন সেটি কোথায় রাখবেন? এ ধরনের পরিস্থিতিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ইসতেগফার করতে হবে, ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কারণ যখন সম্ভব নয়, তখন আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করবেন।
অন্যদিকে, এই লকেট ঝোলানো, গাড়িতে আল্লাহ, মুহাম্মদের (সা.) নাম ঝোলানো, অনেক সময় ঘরেও ঝুলিয়ে রাখা হয়, এই কাজগুলো শুদ্ধ নয়, সুন্দর নয়; বরং এগুলো আবেগ। কিন্তু এই আবেগকে উপেক্ষাও করা যায় না। এটি খুব কঠিন বিষয়। কারণ একজনের আবেগ আছে যে আমি ‘আল্লাহ’ শব্দটা ঝুলিয়ে রাখব। এ ক্ষেত্রে শরিয়ার বিধান হলো, যেখানে ‘আল্লাহ’ শব্দটা ব্যবহার করলে অবমাননার আশঙ্কা থেকে যায়, সেখানে পরিহার করাটা ওয়াজিব হবে।
এগুলো আবেগের বিষয়, ধর্মীয় কোনো বিধান নয় এবং গভীরভাবে চিন্তা করতে গেলে এগুলো ব্যবহার না করাটাই উত্তম। কিন্তু মানুষের আবেগ থাকার কারণে হয়তো অনেকেই মনে করবেন, আমি আল্লাহ শব্দ লাগাতে চাইছি। আর অন্যজন বলবেন, লাগানো যাবে না। তখন বিষয়টাকে মানুষ অন্যভাবে বোঝার চেষ্টা করবে।
কিন্তু শরিয়ার বিধান খুবই স্পষ্ট। শরিয়া আল্লাহ নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আল্লাহর বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইসলাম আমাদের আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আনুগত্য, তাঁর জিকির, সবকিছুর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে এবং পদ্ধতি জানিয়ে দিয়েছে। রাসূল (সা.) আল্লাহর জিকিরের কথা বলেছেন, ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।’
কিন্তু রাসূল (সা.) এ কথা বলেন নাই যে, আল্লাহর স্মরণের জন্য তোমরা এগুলোর লকেট তৈরি করে বুকে ঝুলিয়ে রাখো।
তাহলে বোঝা গেল যে, এগুলো যদি সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের স্মরণের জন্য উত্তম কাজ হতো, যার মধ্যে মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে অথবা যেটা খুব ভালো কাজ হতে পারে, তাহলে নবী (সা.) অবশ্যই সাহাবিদের বলতেন যে তোমরা এই কাজটি করো। এই নির্দেশনা অবশ্যই থাকত। কারণ, কেয়ামত পর্যন্ত যে ভালো কাজ হবে, সেগুলোর নির্দেশনা আল্লাহর নবী (সা.) দিয়ে গেছেন।
তাই সে ক্ষেত্রে আমাদের আবেগটা একটু সংযত করতে হবে। যদি আমরা আবেগের সঙ্গে নিজেদের বিবেকটি একটু খাটাই, তাহলে বিষয়টি উপলব্ধি করতে সহজ হবে।
সুত্র:বিস্তারিত
5টি জিনিষ নিয়ে টয়লেটে যাওয়া নিষেধ। তার মধ্য থেকে আল্লাহর নাম নিয়ে ও টয়লেটে যাওয়া নিষেধ। তবে সেটি যদি চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তাহলে অন্যকথা। কারণ ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তার আংটি খুলে রেখে যেতেন।’ (আবু দাউদ) কেননা ঐ আংটির মধ্যে আল্লাহর নাম লিখা ছিল।
আল্লাহর নাম সম্বলিত কোন কিছু নিয়ে পেশাব-পায়খানায় প্রবেশ করা যাবে না। কেননা, ছয় জিনিস নিয়ে ইস্তিঞ্জায় যাওয়া নিষেধ। ১. আল্লাহ তাআলার নাম। ২. নবীগণের নাম। ৩. ফেরেস্তাগণের নাম। ৪. কুরআনের আয়াত। ৫. হাদিসের টুকরা। ৬. দুআ কালাম লিখিত বা অঙ্কিত। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটিতে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ অংকিত ছিল। মুহাম্মাদ এক লাইনে, রাসূল এক লাইনে এবং আল্লাহ এক লাইনে। (সহীহ শামায়েলে তিরমিযী, হাদিস নম্বরঃ ৭২, সহীহ বুখারীঃ ৫৮৭৮ হাদিসের মানঃ সহিহ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশের আগে তার আংটি খুলে রাখতেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ৩০৩ তিরমিযীঃ ১৭৪৬, নাসায়ীঃ ৫২১৩, আবূ দাঊদঃ ১৯ মিশকাতঃ ৩৪৩ হাদিসের মানঃ যঈফ)। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।