তারাবীহর নামাজের আগে বিতর নামাজ পড়ে ফেললে,পরে তারাবীহ নামাজ পড়া যাবে। মানে আগে বিতর নামাজ পড়ে ফেললে,পরে যদি কয় রাকাত তারাবীহ পড়তে চাই সেক্ষেত্রে? 
2674 views

1 Answers

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য বিতরের নামায ইশা ও ফযরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন। মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আয়িশাহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিতর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, তিনি রাতের সকল ভাগেই বিতর আদায় করেছেন, হয় রাতের প্রথম ভাগে অথবা মধ্যভাগে অথবা শেষ ভাগে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিতর ভোর রাত পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। তারাবীহ নামাযের পর রাতের সর্বশেষ সালাত বিতর আদায় করতে হয়। মুসাদ্দাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ৯৪৪ হাদিসের মানঃ সহিহ) যেহেতু ভূলক্রমে তারাবীহর নামাযের আগে বিতর নামায পড়েই ফেলছেন তাই এর পরেও তারাবীহ নামায পড়া যাবে। আগে বিতর নামায পড়ে ফেললে পরে তারাবীহ নামায পড়তে পারবেন। তবে আর বিতর পড়তে পারবেন না। কেননা, একরাতে দুইবার বিতর নেই। হান্নাদ (রহঃ) তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, এক রাতে দুইবার বিতর নেই। (সূনান তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ৪৭০ সহিহ আবু দাউদঃ ১২৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭০) কতক ফকীহ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম বলেনঃ কেউ যদি প্রথম রাতে বিতর আদায় করে নেয় এবং ঘুমিয়ে যায়, এর পর শেষরাতে উঠে, তবে তার যত পরিমাণ ইচ্ছা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে পারে। এতে তার প্রথম রাতে আদায়কৃত বিতর বিনষ্ট হবে না। সে তার বিতরকে পূর্বাবস্থায় রেখে দেবে। কেননা বিভিন্ন সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিতর আদায়ের পরও অনেক সময় নফল সালাত আদায় করেছেন।

2674 views

Related Questions