3 Answers

সঠিক হাদিস মতে তারাবি নামায বিশ রাকাত পড়তে হবে।

3055 views

 তারাবি সালাত নিয়ে ড. জাকির নায়েকের লেকচারে বিস্তারিত দেখুন এই লিঙ্কে 

3055 views


বিশ রাকাত তারাবিহর নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। পুরুষদের জন্য তারাবিহর নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করা সুন্নত। তারাবিহর নামাজে পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার পাঠ করা সুন্নত। একে খতমে তারাবিহ বলে। পূর্ণ কোরআন না পড়ে বিভিন্ন সুরা দিয়ে তারাবিহর নামাজ আদায় করাকে সুরা তারাবিহ 


বলা হয়। সুরা তারাবিহ পড়লেও বিশ রাকাত পড়া সুন্নত। একা পড়লেও বিশ রাকাতই পড়া সুন্নত। নারীদের জন্যও বিশ রাকাত তারাবিহ সুন্নত। এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত তারাবিহর নামাজ পড়া যায়। শিশুরাও তারাবিহর নামাজ পড়তে পারে।


হাসান (রা.) বলেন, হজরত উমর (রা.) মানুষকে একত্র করলেন হজরত উবাই ইবনে কাআব (রা.)–এর পেছনে; তখন তিনি তাদের ইমামতি করে বিশ রাকাত নামাজ পড়তেন। (আবু দাউদ, খণ্ড: ২, হাদিস: ১৪২৯)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বিশ রাকাত তারাবিহ পড়তেন তারপর বিতর পড়তেন। (মাকতুবাতু ইবনে তাইমিয়া, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৯৩)। হজরত আবুজার গিফারি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলে করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে তারাবিহর নামাজ পড়ল, ইমাম প্রস্থান করা পর্যন্ত সমাপ্ত করে গেল; তার কিয়ামে লাইল বা রাত জাগরণের সওয়াব পূর্ণরূপে লিখিত হবে। (তিরমিজি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ৮০৬)। হজরত ইবনে রুমান (র.) বলেন, হজরত উমর (রা.)–এর খিলাফতের সময় মানুষ ২৩ রাকাত (বিতরসহ তারাবিহর নামাজ) দ্বারা রাত জাগরণ করত। (মুআত্তা মালিক, খণ্ড: ১, হাদিস: ২৮১; আবু দাউদ, খণ্ড: ১, হাদিস: ৪২৮৯)।


মিরকাত গ্রন্থে মোল্লা আলী কারি (র.) বলেন, তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাত, এ বিষয়ে সব সাহাবির ইজমা (মতৈক্য) হয়েছে। (মিরকাত শারহে মিশকাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৯৪)। শাঈখ উসাইমিন (র.) বলেন: ইমামের অনুসরণ করাই সুন্নত; যদি ইমাম তারাবিহ সম্পূর্ণ করার পূর্বে মুক্তাদি চলে যায়, তখন সে কিয়ামে লাইলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন: ইমামের বিশ রাকাত তারাবিহ সমাপ্ত হওয়ার আগেই চলে যাওয়া অনুচিত; শরিয়তের বিধানমতে, ইমামের অনুকরণই বড় ওয়াজিব, এর বিপরীত করা মন্দ কাজ। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২০০-২০১)।


বিশ রাকাত তারাবিহর নামাজ হাজার বছরের প্রতিষ্ঠিত অবিসংবাদিত সুন্নত। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (র.) বলেন: তবে তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, নিশ্চয় উবাই ইবনে কাআব (রা.) রমজানে রাত জাগরণে বিশ রাকাতে তারাবিহর নামাজে ইমামতি করতেন এবং তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়তেন। তাই উলামায়ে কিরাম মনে করেন, এটাই সুন্নত; কেননা তা আনসার ও মুহাজির সব সাহাবির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত, কেউ তা অস্বীকার করেননি। অন্যান্য ইমাম বিতরসহ তারাবিহর উনচল্লিশ রাকাত পড়া পছন্দ করেন; কারণ, তা হলো মদিনার আমল। ইবনে তাইমিয়া (র.) আরও বলেন: সুতরাং বিশ রাকাত তারাবিহই উত্তম এবং এটাই অধিকাংশ মুসলমানের আমল; আর নিশ্চয় এটি দশ (সর্বনিম্ন) ও চল্লিশের (সর্বোচ্চ) মাঝামাঝি। তবে যদি কেউ চল্লিশ রাকাত বা অন্য কোনো সংখ্যা আদায় করেন, তবে তা–ও জায়েজ হবে। এ বিষয়ে অন্যান্য ইমামও আলোকপাত করেছেন। (মজমুআ ফাতাওয়া, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ২৭২; খণ্ড: ২৩, পৃষ্ঠা: ১১২)।


মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী:বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক


smusmangonee@gmail.com


প্রথম আলো (০৮/০৫/২০১৯)

3055 views

Related Questions