আমি বর্তমানে চীনের একটা প্রদেশে আছি। পড়ালেখার জন্যে আমাকে এখানে ৪ বছর থাকতে হবে। এখানে খাবার-দাবার এর অনেক সমস্যা। বাজারে কোন জীবিত মুরগি বা হাঁস পাওয়া যায় না। তবে জবাই করা গরু, হাঁস ও মুরগির মাংস পাওয়া যায়। এসব পশু পাখি কে বা কারা জবাই করে সেটা ত আমি জানি না।  এখন আমার প্রশ্ন হল বাজারের এসব মাংংস খাওয়া যাবে কিনা???
3095 views

1 Answers

প্রথমেই একটা হাদিসের উদাহরণ দিয়ে বলি! আবূ আব্দিল্লাহ আন নুমান ইবনু বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ নিঃসন্দেহে হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দুইয়ের মধ্যে কিছু সন্দেহজনক বিষয় আছে যা অনেকে জানে না। অতএব, যে ব্যক্তি সন্দিহান বিষয় হতে নিজেকে রক্ষা করেছে সে নিজের দ্বীনকে পবিত্র করেছে এবং নিজের সম্মানকেও রক্ষা করেছে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়ে পতিত হয়েছে সে হারামে পতিত হয়েছে। (আন-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস, হাদিস নম্বরঃ ৬ বুখারীঃ ৫২, মুসলিমঃ ১৫৯৯ হাদিসের মানঃ সহিহ) জনাব! উক্ত খাবার হালাল কি হারাম তা বলা অসম্ভব। তাই সন্দেহযুক্ত বিষয় পতিত হওয়া যাবেনা। তবে কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (মায়েদাঃ ৩) আল্লাহ তায়ালা বলেন, যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়নি, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে-যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে। (সুরা আনআমঃ ১২১) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা জবাই কালে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা নাহলঃ ১১৫) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। (সূরা বাকারাঃ ১৭৩)

3095 views

Related Questions