কোয়ান্টাম সম্পর্কে?
1 Answers
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনঃ অজানা অধ্যায় (INSIDE QUANTUM FOUNDATION) বিভিন্ন মানুষের মুখে কোয়ান্টাম সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য শুনতে পাই, যার ৯৫ ভাগই ভ্রান্ত এবং ধারনাপ্রসূত। দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে জানতে পেরেছি এর ভেতরটা। তাই সত্য জানানোর উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা। অধিকাংশই মনে করে এটি ইহুদি-খ্রিষ্টানদের একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে এটি জামায়াত সমর্থিত ব্যক্তিবর্গ দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে জামায়াতের কোন অংগপ্রতিষ্ঠান নয় এটি। তাদের একটি স্বপ্ন আছে। সেটি হল পুরো বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রনের স্বপ্ন। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয় যেন তাদের নীল নকশা প্রকাশিত হয়ে না পরে এবং যেন ঘুনাক্ষরেও কেউ তা বুঝতে না পারে। তাই মানুষ এটাকে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের প্রতিষ্ঠান ভাবুক এটাই ওরা চায়। সেভাবেই ফাউন্ডেশনের সবকিছু সাজানো হয়েছে। তবে ইদানিং তারা খোলস ছেড়ে একটু একটু করে তাদের স্বরূপে আর্বিভূত হচ্ছে আভ্যন্তরীন পরিমন্ডলে। নিচে ধাপে ধাপে আপনাদের সামনে উন্মোচন করব কোয়ান্টাম রহস্যের জাল। ক। প্রতিষ্ঠাতাঃ ওনার নাম শহীদ আল বোখারী মহাজাতক। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন দৈনিক আজাদী পত্রিকায়। দৈনিক ইত্তেফাকেও কাজ করেছেন। যোগ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। জ্যোতিষী হিসেবেও কাজ করেছেন। জোতিষী হিসেবে প্রতারণা মামলার মূল আসামী হয়ে অবশেষে এই পেশা ছেড়ে দেন (তার নিজের মুখের বক্তব্য অনুযায়ী)। তারপর ১৯৯২ সালে মাহী কাজী পরিচালিত সিলভা মেথড মেডিটেশন কোর্স সম্পন্ন করেন এবং পরের বছর ১৯৯৩ সালে নিজেই কোয়ান্টাম মেথড নামে মেডিটেশন কোর্স পরিচালনা শুরু করেন। তিনি মূলত সিলভা মেথডের কোর্স মোডিফাই করে ব্যবসা শুরু করেন। শুরু থেকেই তিনি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এ সব-ই আমাদের বেশিরভাগেরই জানা কথা। ওনার আরও একটি পরিচয় আছে যা আমরা ৯৯.৯৯ ভাগ মানুষ-ই জানিনা। তা হল তিনি জামায়াতে ইসলামীর ‘সাথী’। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি এর বিরোধী শক্তির পক্ষে ছিলেন এবং এখনও আছেন। একটু পর্যবেক্ষন করলেই দেখতে পারবেন ওনার প্রতিষ্ঠানের দ্বায়িত্বশীলরা (যারা সরাসরি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে) ৯৯.৯৯ ভাগ-ই শিবির-জামায়াত মাইন্ডসেট। ওনার প্রধান সহযোগী মাওলানা সায়ীদুল হক জামায়াতের রোকন একথা সবার জানা। তবে মানুষের নজর সরিয়ে রাখার জন্য তারা অন্য মতাদর্শের কিছু লোককেও ব্যবহার করছে। তবে প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারনের কাজে এদের অংশগ্রহন করতে দেওয়া হয়না। এদের রাখা হয়েছে আই -ওয়াশ হিসেবে। মহাজাতক রচিত বই ‘চেতনা, অতিচেতনা, নিরাময় এবং প্রশান্তি’-এ লেখক পরিচিতি দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে তিনি বঙ্গবন্ধুর অপঘাতে মৃত্যুসহ অনেক ভবিষ্যৎবানী নির্ভুলভাবে করেছেন। মূলত দেশবিরোধী শক্তি সমর্থিত সাংবাদিক হওয়ার কারনে তিনি তা আগেই জানতে পেরেছিলেন। তাছাড়া আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগেই শেখ মুজিবরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। তাই এটা ভবিষ্যতবানী করে কেরামতি দেখানোর কিছু নেই। আর তিনি যে ভবিষ্যতবানী করেছিলেন তার প্রমান কী? কোন পত্রিকায় লিখেছিলেন? কোন উত্তর নেই। এভাবেই মানুষকে বোকা বানাচ্ছে মহাজাতক। খ। ফাউন্ডেশনের অনিয়ম ও কু-কীর্তি সমূহঃ ১) স্কুল পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় নিয়ম লঙ্ঘনঃ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল স্কুলকে পতাকা অর্ধনমিত রাখতে বলা হলেও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল’-এর হাই সেকশনের দ্বায়িত্বশীল জনাব শরীফুল আলম এই নির্দেশ অমান্য করে পতাকা সম্পূর্ণরুপে উত্তোলন করে। এক শিক্ষক তা ফাউন্ডেশন নির্ধারিত দৈনিক লগ বইতে লিখলে পুরো বইটি গুম করে নতুন লগ বই অফিসে দেওয়া হয়। এবং উক্ত শিক্ষককে হয়রানি করা হয়। অতঃপর বাধ্য করা হয় তাকে স্কুল ছেড়ে চলে যেতে। অথচ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারী মহাজাতক তার বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলো শুরু করছে রাষ্ট্রপতির সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রপতিকে সম্বোধন করে তিনি বলছেন- ‘বড় ভাল মানুষ ছিল’। আসলে এ-সবকিছুই লোক দেখানো। এমনকি স্কুলে প্রায় দুই বছরের অধিক সময় এসেম্বলী এবং জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারী ছুটিগুলোর দিনেও ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে স্কুলের নৈতিক (?) শিক্ষার দ্বায়িত্বশীল(?) অর্গানিয়ার জনাব জহুরুল ইসলাম জবাব দেন- “এই পাহাড়ে কে দেখবে?” এই হল তাদের নৈতিকতার হাল। যখন মহাজাতক সাহেব-কে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হল, উনি কোন ব্যবস্থা তো নিলেন-ই না বরং তার পক্ষে ওকালতি শুরু করলেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় (বৌদ্ধ, খৃষ্টান, হিন্দু) ছুটি এবং সরকারী ছুটির দিনগুলোতেও প্রায়ই এসেম্বলী হয়, পতাকা উত্তোলিত হয় এবং শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর কারণ কোয়ান্টাম রাষ্ট্রের প্রতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। ২) দ্বায়িত্ব ও পদ বন্টন পদ্ধতিঃ দ্বায়িত্ব বন্টন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মানা হয়না। যে যত তৈল মর্দন করতে পারে, চামচামি করতে পারে, অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে অন্যায় কাজে হাত মেলাতে পারে এবং যার যত ভাল লিংক আছে এবং জামায়াত সমর্থক তারাই শুধু দ্বায়িত্বশীল হিসেবে নিয়োগ পায়। শিবির-জামায়াত ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকাটাকেই এখানে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই তো কেউ কেউ ছাত্রজীবন থেকে প্রো-কোয়ন্টিয়ার (ভলান্টিয়ার) হিসেবে বহু বছর কাজ করার পরে ফাউন্ডেশনে জয়েন করে অনেক বছর আন্তরিকতার সাথে কাজ করার পরও নিয়মিতকরণ হচ্ছেনা (অর্গানিয়ার হওয়া তো পরের কথা)। আবার অনেকে কাজে আন্তরিক না হয়েও শুধুমাত্র জামায়াতপন্থী হওয়ার কারণে জয়েন করেই সাথে সাথে নিয়মিতকরণ হচ্ছে। কেউ ১৬ ঘন্টা কাজ করেও শুধু শোষিতই হয়ে যাচ্ছে শুধু জামায়াতপন্থী না হওয়ার কারণে, আবার কেউ খেয়ে বসে ঘুমিয়েই পদোন্নতি পাচ্ছে এবং অন্যান্য সুবিধাদি পাচ্ছে। এদের কাজ একটাই- যারা জামায়াতপন্থী নয় তাদের উপর নজরদারি করা। এরা আভ্যন্তরীন গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করে। ৩) মাটির ব্যাংক এবং মসজিদ ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎঃ মাটির ব্যাংক ও মসজিদ ফান্ডের টাকা মহাজাতক শীর্ষ স্থানীয় অর্গানিয়ারদের সাথে ভাগাভাগি করে খায়। বরিশালে মহাজাতক তার স্ত্রী'র বাবার নামে ভুয়া মাজার তৈরি করেছে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং পুরো টাকাটাই এসেছে মসজিদ ফান্ড এবং মাটির ব্যাংকের টাকা থেকে। তাদের শুধু মুখে নীতি কথা আর ধর্মীয় কথার খই ফোটে। কাজের বেলায় ঠনঠন। এককথায় যাকে বলে ধর্মবানিজ্য। ৪) লামায় কোরবানী ও স্কুল তৈরীর পেছনের ইতিহাসঃ প্রচার করা হয় যে পাহাড়ি মানুষের দুঃখ দুর্দশা দূর এবং জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকাকে একটি আলোকিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে স্কুল তৈরী করা হয়েছে এবং দরিদ্র মানুষদের মাঝে বিতরন করার জন্য কোরবানী দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল পাহাড়ের মানুষের কোয়ান্টাম সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব দূর করতেই এই উদ্যোগগুলি নেওয়া হয়েছিল। তা না হলে সেখানে টিকে থাকা সম্ভব হত না। তাই কৌশল হিসেবে তারা এই পথ বেছে নেয়।স্থানীয়দের বোকা বানানো এবং তাদের কাছ থেকে পানির দামে জমি ক্রয় করার জন্যই এত কৌশল। পরবর্তীতে এই স্কুল দেখিয়ে এখন জনগনের নিকট থেকে মাটির ব্যাংকের সাহায্যে টাকা সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ৫) খেলার মাঠ তৈরীর পেছনের ইতিহাসঃ বিভিন্ন সংবাদপত্রে কোয়ান্টামের পাহাড় কাটা এবং পঞ্চাশটি পরিবারকে ঘরছাড়া করা নিয়ে যখন প্রতিবেদন ছাপা হল তখন প্রশাসনের লোক আসার আগের রাতে সারারাত কাজ করে উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে বুল্ডোজার এনে এটিকে খেলার মাঠে রূপান্তরিত করা হয় এবং পরের দিন প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানিয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর এর নাম দেওয়া হয় ভ্যালী অলিম্পিয়ান এবং অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে দিয়ে এটি উদ্বোধন করানো হয়। স্লোগান তৈরী করা হয়-‘অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবোই।’ যা কিনা আদৌ তাদের উদ্দেশ্য ছিলনা। এমনকি এই পাহাড়ে বসবাসরত পঞ্চাশটি পরিবারকেও করা হয়েছে গৃহহারা। এভাবেই এই ‘রাহু’ গ্রাস করে চলছে পাহাড়ের পর পাহাড়। ৬) সাধারণ কর্মীদের প্রতি জুলুম-শোষন-অবিচার করছে। ৭) অবৈধ যৌনাচারঃ স্কুলের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ তার পা-চাটা কিছু শিক্ষিকাদের (শাহানাজ, রওশন আরা মুক্তা, বনানী দেবনাথ) অন্যায় আচরণ, ছাত্রদের প্রতি অত্যাচার, যৌন হয়রানি, ব্যভিচার ইত্যাদি দোষ দেখেও না দেখার ভান করে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনৈতিকতার জয় ও নৈতিকতার পরাজয় দেখে বড় হচ্ছে এবং নিজেরাও জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপকর্মে। অতঃপর বলা হচ্ছে যে এই সকল পাহাড়ি শিশুদের নাকি নৈতিকতা নেই। তাদের ডিএনএ-তে নাকি সমস্যা আছে। অথচ সূচনা শ্রেণি থেকে তারা এখানেই থাকে। নৈতিকতার শিক্ষাও তারা পেয়ে থাকে এখানকার অর্গানিয়ারদের কাছ থেকেই। তাহলে সমস্যাটা আসলে কাদের ডিএনএ-তে? অর্গানিয়ার জহুরুল, শাহ আলম অফিসে বসে কম্পিউটারে নীল ছবি দেখে এবং শিক্ষিকা বনানী দেবনাথ প্রাইমারি শাখার কোয়ান্টাদের যৌন হয়রানি করেছে। অর্গনিয়ার এবং শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্বরত রওশন আরা মুক্তা একজন এসএসসি শিক্ষার্থীর সাথে গড়ে তুলেছে প্রেমের সম্পর্ক। তার কথা মত অবৈধ কাজে সাড়া না দিলে প্রচন্ডভাবে মারা হয় এবং অভিযোগের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এমনকি কর্তৃপক্ষের নিকট ছাত্রকে ফেইল দেখিয়ে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেওয়া হয় না। তাছাড়া বনানী দেবনাথ বেশ কয়েকজন অর্গানিয়ারের সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। প্রো-অর্গানিয়ার নুপুর দে লামায় কাজ করার সময় এক অর্গানিয়ারের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল যৌন সম্পর্কে। কিন্তু কারও চাকরী যায়নি এবং নিরাপদে পরিবেশ দূষিত করে যাচ্ছে। আর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব দেখে দেখে অসুস্থ মন মানসিকতার অধীকারী হয়ে বেড়ে উঠছে। কিন্তু ছালেহ আহমেদের এসব দেখার সময় নেই। কারণ তার গুপ্তচর হিসেবে কাজ করে ওই সব বেশ্যাগুলো। তিনি শুধু ভাল ভাল শিক্ষকদের নামে বানোয়াট অভিযোগ তৈরী করে কীভাবে ঘায়েল করতে হবে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কারণ এরা তার অন্যায় কাজের সাক্ষী। ৮। লামার শিশুদের অত্যাচার করছে। ৯। আধ্যাত্মিকতার আড়ালে বস্তুবাদঃ আডিডাস, নাইকি, দামী দামী ব্র্যান্ডের পোশাক, পন্য-দাসত্ব ইত্যাদি বিষয়ে মহাজাতক বড় বড় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। অথচ তিনি বিদেশী ক্যাপ, জুতো, ওভারকোট, পরিধান করেন এবং সানব্লক ক্রিম ব্যবহার করেন। ব্র্যান্ডের পন্যের সমাহার দেখতে পাওয়া যায় অর্গানিয়ারদের গায়ে। তারা কথায় কথায় বলে যে ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অথচ লাভ ছাড়া তাদের কোন কাজ তারা পরিচালনা করে না। যে খাতে ক্ষতির সম্মুখীন হয় সেটাই বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে লামায় লাভজনক খাতগুলো হল- দরবার (ডাইনিং, এখানে চড়া মুল্যে খাবার বিক্রি হয়), মুরগী পালন, আম, কাঁঠাল, আমলকি, আনারস, ভেড়া পালন, বেকারী, ক্যান্টিন, ফেব্রিকান ইত্যাদি। ১০। শৃঙ্খলমুক্তি নাকি দাসত্বঃ ধ্যান বা আত্মনিমগ্নতা ততক্ষনই কল্যানকর যতক্ষন আপনার নিয়ন্ত্রন আপনার হাতে আছে। যখনই আপনি সম্মোহিত অবস্থায় অন্য কারও ওপর আপনার নিয়ন্ত্রন হস্তান্তর করবেন তখনই আপনি রুপান্তরিত হবেন একজন আধুনিক ডিজিটাল ‘দাস’-এ। কোয়ান্টাম মেথড-এর চেয়ারম্যান মহাজাতক এই কাজটিই করছেন। তিনি মানুষকে মানসিকভাবে দাসে রুপান্তরিত করছেন। তিনি মেডিটেশনের নামে মানুষকে মিষ্টি মিষ্টি চটকদার কথা বলে সম্মোহন করছেন, দাসে রুপান্তরিত করছেন এবং তাদের দিয়ে নিজের খুশি মত কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। এটা মানবতার প্রতি একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তার সম্মোহিত হওয়া মুরিদদের কাজ হল ভুলিয়ে-ভালিয়ে যেভাবেই হোক মহাজাতকের কোর্সে হাজির করানো। অতঃপর চার দিনের কোর্সে মহাজাতক সম্পন্ন করেন তার নতুন ব্যাচের সম্মোহন প্রক্রিয়া। তারপর হাতে ধরিয়ে দেন মাটির ব্যাংক। অর্থাৎ দশ হাজার টাকা দিয়ে কোর্স করলেও এরপর আজীবন টাকা দিয়েই যেতে হবে। আর এই টাকা ব্যয় হয় শীর্ষস্থানীয় অর্গানিয়ারদের ভোগবিলাসপূর্ন জীবন-যাপনে এবং বাকিটা যায় অন্যান্য অর্গানিয়ার ও দ্বায়িত্বশীলদের পকেটে। আর কিঞিত পরিমান ব্যয় হয় কসমো স্কুলে। ১১। মাজার ও পীর ব্যবসার আদলে ফাউন্ডেশন পরিচালনার কারণঃ অর্থ সংগ্রহের এটি একটি অব্যর্থ ও সহজ উপায়। যার প্রমাণ এদেশের শত শত মাজার। তাই ফাউন্ডেশন সমাজের এই দুর্বল দিকটি কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এক দিকে মাজার, তাবীজ ও পীর ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলছেন আবার অন্যদিকে তাদের মত একই কায়দায় মাটির ব্যাংকের মাধ্যমে সমস্যা মুক্তির কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। ১২। মাটির ব্যাংকের টাকা কোথায় যায়ঃ লামায় কাজের পরিধি দেখে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগবে মাটির ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা কোথায় যায়। আয়ের হিসাব দেখাতে পারলেও ব্যয়ের হিসাব তারা দেখাতে পারে না। এই টাকা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায়না। সরকারের উচিত হবে এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সকল কর্মকান্ড নিজ তত্ত্বাবধানে নিয়ে নেওয়া। তা না হলে অতীতে পাকিস্তানে যেভাবে টাকা পাচার হয়েছে সেভাবেই বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের টাকা পাচার হয়ে যাবে। সরকারের উচিত এখানে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা অথবা গোয়েন্দা নিয়োগ দেওয়া। তাহলে এদের সম্পর্কে সরকার সহজেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে এবং দেশ ও জাতিকে এই দেশদ্রোহী, প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে। ১৩। সোলার সিস্টেম দুর্নীতিঃ প্রাইমারি স্কুলে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল। কিন্তু সরেজমিনে যদি কোন সোলার বিষেশজ্ঞ অনুসন্ধান করতে যায় তাহলে কর্তৃপক্ষ কোন হিসেব দিতে পারবেনা যে ১ কোটি টাকা কোথায় কীভাবে ব্যয় হল। এই সোলার সিস্টেম দিনে মাত্র তিন ঘন্টা পাওয়ার সরবরাহ করতে পারে। মাত্র পাচটি কম্পিউটার চলে। এবং একশটি এনার্জী বাল্ব জ্বলে। তাই এখন জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। সোলার সিস্টেমের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মহাজাতকের ভাইয়ের ছেলেকে। এভাবেই মাটির ব্যাংকের টাকা মেরে খাচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। ১৪। যাকাত ফান্ডের দুর্নীতিঃ যাকাতের টাকায় হয় গরু ভাগা প্রকল্প। সেখান থেকে ফাউন্ডেশন মুনাফা করে। এ যেন যাকাতের আড়ালে ক্ষুদ্র ঋন। যাকাত থেকে মুনাফা (!) কেউ কখনও শুনেছে? যাকাতের টাকা কোথায় কীভাবে ব্যয় হয় তার হিসাব তারা দিতে পারেনা। কয়েকজনকে গরু, ট্রাকটর, সেলাই মেশিন দিয়ে ভিডিও করে ডকুমেন্টারি তৈরী করে মানুষ জনকে দেখানো হচ্ছে। অথচ প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার