2 Answers
মৃত্য ব্যক্তির মৃত্যুর তিন দিন পর খাওয়াটা বেদয়াত.রাসুল স.সাহাবায়ে কেরাম রা. বুযুর্গানে দ্বীনের ইতিহাসে এর দলিল নেই.খাওয়ারই প্রশ্ন উঠে না.খেলে ইবাদাতে মজাও পাবে না|
এটি শরীয়ত সম্মত পদ্ধতি নয়। এটি হিন্দুয়ানী পদ্ধতি। হিন্দুরা ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর তিনদিন পর্যন্ত আগুনে জ্বলতে দেয়। তারপর ৪র্থ দিন মৃতের বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার অনুষ্ঠান করে, আবার ৪০দিনের দিনের দিন উক্ত মৃতের হাড্ডিগুলো নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে আরেকটি খাওয়া দাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, আর বৎসরে উক্ত মৃত্যু দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
ইসলামে এসব দিবসের কোন মূল্যই নেই। যদি মূল্য থাকতো, তাহলে রাসূল সাঃ নিজেই তা পালন করতেন। রাসূল সাঃ এর ছেলেগণ নবীজী সাঃ এর জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু নবীজী সাঃ কোন সন্তানের বেলায়ই উক্ত রুসুমগুলো পালন করেননি।
খলীফায়ে রাশেদীনসহ কোন সাহাবী নবীজী সাঃ এর জন্য উপরোক্ত রুসুমগুলো পালন করেননি। কোন মুহাদ্দিস, কোন মুফাসসির, কোন তাবেয়ী, কোন তাবে তাবেয়ী, কোন মুজতাহিদ ইমামগণ উক্ত রুসুম পালন করেননি।
কুরআন ও হাদীস বা ফিক্বহের কিতাবে এরকম রুসুমের কথা উল্লেখ নেই। তাই এসব পালন করা বিদআত। যে অনুষ্ঠান পালন বিদআত, সে অনুষ্ঠানে দান করাও জায়েজ নেই।
তবে মৃতের জন্য এমনিতে দুআর আয়োজন করা যেতে পারে নির্দিষ্ট দিনের পাবন্দী না করে। যেকোন দিন মৃতের ঈসালে সওয়াবের জন্য গরীবদের খাওয়ানো যায়। দান-সদকা করা যেতে পারে। কুরআন পড়ে ঈসালে সওয়াব করা যেতে পারে। কিন্তু ৩য়, ২১ বা চল্লিশা বা মৃত্যুবার্ষিকী ইত্যাদি তারিখ নির্ধারণ পূর্বক এসব রুসুম পালন বিধর্মীর অনুসরণের কারণে নিষিদ্ধ। হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।
তবে কোন দিন নির্দিষ্ট না করে এবং তাতে কোন নাবালেগ ও নাবালেগের সম্পদের সংমিশ্রণ না করে গরীব বা ধনী অনাত্মীয় কিংবা মৃতের আত্মীয় সজন ও বন্ধু-বান্ধবদের খায়ান দোষনীয় কিছু না তার অনুমোদন ইসলামী শরীয়তে আছে। তবে কোন দিবস নিদিষ্ট করা যাবে না।
-সুনানে আবু দাউদ; হাদীস নং ৪০৩১, মুসনাদুল বাজ্জার; হাদীস নং ২৯৬৬, মুসনাদুশ শিহাব; হাদীস নং ৩৯০, মুসনাদুশ শামীন; হাদীস নং ১৮৬২, আলমুজামুল আওসাত; হাদীস নং ৮৩২৭, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা; হাদীস নং ৩৩০১৬, সুনানে ইবনে মাজাহ; হাদীস নং ১৬১২, ফাতহুল কাদীর, ২/ ১০২, রদ্দুল মুহতার, ২/২৪০ ,ইলাউস সুনান, ৮/৩২৯