ইসলামে নারী নেতৃত্ব হালাল নাকি হারাম? রেফারেন্স সহ জানতে চাই।
2534 views

1 Answers

ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম। ইসলামই মূলত নারীর প্রকৃত মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু তাই নয়, এ মর্যাদা ও অধিকার ইসলামের স্বর্ণযুগে ছিল যথাযথভাবে বাস্তবায়িত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে নারীর মর্যাদা পুরুষের উপরে নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, "পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের মধ্যে একজনকে অপরের উপর (পুরুষকে নারীর উপর) গুনগত বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।”- (সূরা নিসাঃ-৩৪)। নারীদের তুলনায় পুরুষের মর্যাদা অধিক হওয়ার কারণ হলোঃ সৃষ্টিগতভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে গুনগত বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব। পরিবার পরিচালনা ও আর্থিক প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষরাই সাধারণত দায়ী এবং তাদেরকেই তা করতে হয়। সকল প্রকার ভারী ও কঠিন কাজ কর্ম, নির্মাণ কাজ, যুদ্ধবিগ্রহ, গবেষণা ও আবিষ্কার পুরুষদের দ্বারা সাধিত হয়। তাই স্বাভাবিক ও সঙ্গত কারণেই নেতৃত্ব পুরুষের জন্য, নারীর জন্য নয়। তাছাড়া আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে যত নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, তাঁরা সবাই ছিলেন পুরুষ। উল্লেখ্য, সকল নবী-রাসূলই ছিলেন মানব জাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ এবং তাঁদের নেতৃত্ব ছিল সঠিক ও একমাত্র নিষ্কলুষ। এভাবে ইসলামের ইতিহাসে কোন সময় পুরুষের উপর নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল না। নবী করিম (সঃ) ইরশাদ করেন, "সে জাতি কখনো সফলকাম হতে পারে না, যারা কোনো নারীর হাতে স্বীয় নেতৃত্ব অর্পন করে।" (বুখারী)। উল্লেখিত হাদীসে এ কথা সুস্পষ্ট রূপে উল্লেখ রয়েছে যে, নারীদেরকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া যাবে না। যদি দেয়া হয় তাহলে যে জাতি বা সম্প্রদায় দেবে, সে জাতি নিজেরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে। দেশ ও জনগণের উন্নতি সাধনের জন্য নেতা নির্বাচন করে যদি সে নেতা দ্বারা উপকারের স্থলে অপকার হয়, তাহলে সে নেতা নির্বাচন না করাই শ্রেয় বা যুক্তিসঙ্গত। অন্য এক বর্ণনায় রাসূল (সঃ) বলেছেন, "পুরষ জাতি তখনই ধ্বংস হয়, যখন তারা নারীদের আনুগত্য করতে থাকে।" (তিরমিযী)। তিনি আরো বলেছেন, "আমার পরে আমার উম্মতের জন্য সর্বাধিক ক্ষতিকর ফিতনা বিপর্যয় পুরুষদের উপর আসতে পারে নারীদের প্রাধান্যের কারণেই।" (বুখারী,মুসলিম)। তাই, উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী এক কথায় বলা যায় যে, নারী নেতৃত্ব হারাম।

2534 views

Related Questions