4 Answers

বড় কোন প্রভাব সৃষ্টিকারী সমস্যা নাই। কিন্তু কাচা না খাইয়ায় ভাল কারন এতে একটিভ হরমোন থাকে যা মানব দেহের জন্য ভাল নয়, মাঝে মাঝে কাচা খাবার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।এবং কাচা ডিম থেকে ব্যাকটেরিয়া দুষনের আশঙখা থাকে।

2978 views Answered

কাঁচা ডিম সম্পর্কে উচ্চ ধারণা অনেক আগে থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে। সিদ্ধ কিংবা ভাজা ডিমের চেয়ে কাঁচা ডিম বেশি পুষ্টিকর— এটি একটি প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস। প্রকৃতপক্ষে এর উল্টোটাই সত্যি। কাঁচা ডিম সম্পর্কে এতটা উচ্চমত পোষণ না করাই ভালো। ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে কাঁচা ডিম খেলে তা উল্টো স্বাস্থ্যহানি ঘটিয়ে দিতে পারে। প্রথমত, কাঁচা ডিম রান্না করা ডিমের মতো সহজে হজম হয় না। ডিমের সাদা অংশটিতে থাকে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিন। কাঁচা অবস্থায় ডিমের সাদা অংশের মধ্য পরিপাকবিরোধী ক্ষমতা থাকে যা উত্তাপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সিদ্ধ বা ভাজা ডিম সহজপাচ্য হয়। দ্বিতীয়ত, কাঁচা ডিম খেলে শরীর বায়োটিন নামক ভিটামিন ‘বি’ গ্রুপের একটি ভিটামিন থেকে বঞ্চিত হয়। এ বায়োটিন ডিমের সাদা অংশে উপস্থিত প্রোটিন, এভিডিনের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে। এভিডিন-বায়োটিনের যুক্ত মিশ্রণ পরিপাকতন্ত্রে শোষিত হয় না। কিন্তু উত্তাপে এ যুক্ত মিশ্রণটি ভেঙে এভিডিন এবং বায়োটিন পৃথক হয়ে যায় এবং তখন বায়োটিন পৃথকভাবে পরিপাকতন্ত্রে শোষিত হতে পারে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা বলছেন, কাঁচা ডিম খেলে শরীরে বায়োটিনের অভাব হতে পারে। বায়োটিনের অভাবজনিত এ অবস্থার নাম— এগ হোয়াইট ইনজুরি। কাঁচা ডিম নিয়ে সমস্যা আরও আছে। খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায় এমন ব্যাকটেরিয়ার উপযুক্ত বাসস্থান হচ্ছে কাঁচা ডিম। এরকম একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম সালমোনেলা, যা ডিমের খোলসে অবস্থিত অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ডিমের ভিতরে ঢুকে পড়ার ক্ষমতা রাখে। আর সালমোনেলাযুক্ত ডিম খেলে সংক্রমণে হঠাৎ বমি, পেটের পীড়া থেকে শুরু করে টাইফয়েড পর্যন্ত হতে পারে। অথচ ডিম ভালোভাবে রান্না করলে অর্থাৎ ৫-৭ মিনিট গরম বা সিদ্ধ করলে সালমোনেলা ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু হালকাভাবে গরম করা মিনিট তিনেকের ওমলেট এবং পোচ করা সালমোনেলা সংক্রমিত ডিমের সালমোনেলা ধ্বংস নাও হতে পারে। তবে সব ডিমে যেহেতু সালমোনেলা থাকে না তা এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। শুধু অপরিষ্কার স্থানে পড়ে থাকা ডিমেই এ জীবাণু থাকতে পারে। তথ্যসূত্রঃ পূর্ব পশ্চিম

2978 views Answered

ডিমের মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। ডিম ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রনের ভালো উৎস। ডিম খেলে শরীরে মিনারেল ও ভিটামিনের চাহিদার অনেকটাই পূরণ হয়। ডিমের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২। এগুলো শরীরের জন্য খুবই জরুরি। ডিম মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করে। ডিমের প্রোটিন পেশিশক্তি বাড়াতে এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। এই শক্তি বাড়াতে অনেকে আবার ডিমকে কাঁচাই খাওয়া শুরু করেন। কখনো কখনো হয়তো তিন-চারটে কাঁচা ডিম এক বসাতেই খেয়ে ফেলেন। ভাবেন, রান্না করলে হয়তো ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য কাঁচা ডিম খান। তবে কাঁচা ডিম খেলে কি শক্তি বাড়ে? ‘কাঁচা ডিম খেলে বেশি শক্তি পাওয়া যায় বা শক্তি বাড়ে, কথাটি একেবারে ভুল। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা নেই; বরং এ থেকে নানা রোগব্যাধি হতে পারে।’ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘কাঁচা ডিম সহজে হজম হয় না। কাঁচা ডিম খেলে শরীরে বায়োটিনের অভাব হয়। এতে ওজন কমা, জিহ্বার রুক্ষতা, ত্বকের প্রদাহের সমস্যা হয়। কাঁচা ডিমের মধ্যে অধিকাংশ সময় এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, যার নাম সালমোনেল। এটি খেলে পেটের অসুখ, বমি, এমনকি টাইফয়েড পর্যন্ত হতে পারে।’ তাই ডিম কাঁচা নয়, বরং রান্না করে খাওয়া প্রয়োজন জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, ‘ডিমকে আধা সেদ্ধ, ভাজা, সেদ্ধ করে খেতে পারেন। ডিম রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না। কাঁচা ডিম খেলে বিভিন্ন রোগবালাই হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

2978 views Answered

আমাদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, কাঁচা ডিমে সেদ্ধ বা রান্না করা ডিমের তুলনায় বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। কিন্তু পাশাপাশি আমরা এ হুঁশিয়ারিও শুনে আসছি, রান্না না করে ডিম খাওয়াটা একটি মৃত্যুফাঁদের মতো। এখন প্রশ্ন হলো কোনটা ঠিক? একথা সত্যি যে, রান্না করার সময় ডিমে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি উপাদানগুলো কিছুটা নষ্ট হয়। কাঁচা ডিমে ভিটামিন বি (বি৬ এবং ফোলেট), ভিটামিন ই, খনিজ পুষ্টি উপাদান চোলিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ‍লুটেইন এবং জেএক্সানথিন একটু বেশিই থাকে। কিন্তু এই পার্থক্য খুবই নগন্য। উদারহণত একটি কাঁচা ডিম থেকে আপনি ভিটামিন বি ৬ পাবেন .০৮৫ মাইক্রোগ্রাম, চোলিন পাবেন ১৪৬.৯ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে একটি রান্না করা ডিমে ভিটামিন বি থাকে ০.৭২ মাইক্রোগ্রাম, চোলিন থাকে ১১৭ মিলিগ্রাম। কিন্তু প্রোটিনের বেলায় রান্না করা ডিমই বেশি উপকারি। কাঁচা ডিম থেকে আমাদের দেহ মাত্র ৫০% প্রোটিন শুষে নিতে পারে। অন্যদিকে, রান্না করা ডিম থেকে আমাদের দেহ ৯১% প্রোটিন শুষে নিতে পারে। জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রান্না করার সময় তাপ দেওয়ার ফলে ডিমের প্রোটিন অণুগুলোর কাঠামো এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে তা আরো বেশি হজমযোগ্য হয়ে ওঠে। একটি কাঁচা ডিম থেকে আমাদের দেহ মাত্র ৩ গ্রাম হজমযোগ্য প্রোটিন পায়; অন্যদিকে একটি রান্না করা ডিম থেকে পায় ৬ গ্রাম। আর তা ছাড়া কাঁচা ডিমে স্যালমোনেলা নামের এমন একটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু রয়েছে যা ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর অন্তত ১০ লাখ মানুষ খাদ্যের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন কাঁচা ডিম খেয়ে। তবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী জীবাণু স্যালমোনেলা শুধু কাঁচা ডিমই নয় বরং পোল্ট্রি, মাংস, কাঁচা দুধ, পনির এবং এমনকি পঁচা ফল-মুল এবং সবজিতেও থাকে। ডিম সেদ্ধ বা রান্না করলে এই ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি দূর হয়।

2978 views Answered

Related Questions

Next steps