পড়াশোনায় মনযোগ নেই, পরিক্ষা সামনে, কি করব?
5 Answers
সমস্যা আমাদের সবারই একই জায়গায়, পড়তে বসলেই মাথায় আসে যত ধরনের চিন্তা। মনোযোগ যে কোথায় গায়েব হয়ে যায় কে জানে! পড়ায় মনোযোগ থাকলে যেটা একবার পড়লেই হয়, মনোযোগ না থাকলে সারাদিন পড়েও লাভ নেই। চলুন প্রিয় পাঠক আমরা জেনে নিই পড়াশোনায় মনোযোগী হবার কিছু উপায় অমনোযোগীতা আনতে পারে এমন সব বিষয় মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আপনার পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছেই রাখুন যাতে বারবার উঠতে না হয়। অনেকের বারবার ফোন আসে পড়ার সময়।খুব বেশি দরকার না হলে ফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন। পড়তে বসার অন্তত ৫ মিনিট আগ থেকে মনস্থির করুন। আপনি যে বিষয় পড়বেন সেটা অন্য কাউকে শিক্ষা দিন।এমন কাউকে যে সে বিষয়টা সম্পর্কে জানেনা। শিক্ষকতা নিজের জ্ঞান আহরণের জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায়। যেমন- আপনি যদি গণিত কম বোঝেন বা গণিত নিয়ে পড়তে চান ভবিষ্যতে আপনার উচিত এখন থেকেই গনিতের উপর শিক্ষা দান করা অন্যদের। এতে আপনার নিজেরও চর্চা থাকবে বিষয়টির উপর। আপনার সব ইন্দ্রিয় সক্রিয় করুন। আপনি একটি বিষয় যতই পড়ুন না কেন সারাদিন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি তা মনে রাখতে পারবেন না অথবা বুঝবেন না যতক্ষণ না আপনি বিষয়টি আপনার চারপাশের কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করতে পারছেন। চারপাশের জিনিসের সাথে আপনি আহরণ করা জ্ঞান মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। প্রত্যেকটি বিষয়, ধারণার মাঝে সংযোগ স্থাপন করতে শিখুন। একটি আরেকটির সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আপনার নিজের জ্ঞানের পরিধিও অনেক বাড়বে। আপনি যখন নতুন কোন বিষয় বা তথ্য সম্পর্কে জানবেন তখন তা আপনার বর্তমানের পরিচিত কোন জানা তথ্য বা ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করুন। এতে পরীক্ষার সময় আপনার সে নতুন তথ্য ভুলে যাবার আশঙ্কা কম থাকে। পরীক্ষার আগে কিছুদিন পড়লে আপনার মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়তে পারে। তাই সবসময় অল্প অল্প পড়ার মাঝে থাকবেন। এতে করে আপনার উপর কোন মানসিক চাপও থাকবেনা আর আপনি পরীক্ষার আগে একটু রিভিশন দিলেই আপনার হয়ে যাবে। পড়ার সময় প্রত্যেকটি তথ্যের ধরন বোঝার চেষ্টা করুন। যেমন- যে তথ্য দেয়া আছে সেটা কি গাণিতিক তথ্য, নাকি ঐতিহাসিক কোন তথ্য, নাকি কোন ব্যক্তি বা দেশ সম্পর্কে তথ্য এসব বিষয়ে ভালো করে বুঝে তারপর মুখস্ত করতে হবে। না বুঝে মুখস্ত করলে তা কোনদিন মনে থাকবেনা। সব সময় পুস্তকি বিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত করলে হবেনা। অন্যান্য বিভিন্ন বই থেকে আহরিত জ্ঞানের সাথেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সেজন্য দেশ ও দেশের বাইরের অনেক লেখকের বই পড়ার অভ্যাস সব সময় রাখতে হবে। এটা শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং অনেক কিছু সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা যায় আর নিজের জ্ঞানের ভিত্তিটা অনেক মজবুত ও শক্ত করে গড়ে তোলা যায় যাকে ভিত হিসেবে ধরে আপনি আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে নিতে পারেন। যখন কোন বিষয় পড়বেন তখন নিজের একটা আলাদা রীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করুন আর বিষয়টির একটি ছবি আপনার মনের মধ্যে এঁকে নিন। এতে বিষয়টি আপনার খুব সহজেই মনে থাকবে। আপনার পড়ার মূল লক্ষ্য কিন্তু সেটাকে বুঝে জ্ঞান আহরণ করা আর পরীক্ষায় ভালো করা। কিন্তু আপনি যদি নাই বোঝেন তাহলে ভালো করার প্রশ্নই আসেনা। তাই যে বিষয়টি বুঝবেন না তার পেছনে একটু বেশি মনোযোগী হন। প্রয়োজনে খাতায় লিখে, করে বোঝেন। কারণ না বুঝে মুখস্ত করে সেটা বেশিক্ষণ মনে রাখা কোন ছাত্রের পক্ষেই সম্ভব নয়। উপরোক্ত ১০টি উপায় মেনে চললে আপনি খুব মনোযোগের সাথে লেখাপড়া করতে পারবেন আশা করি আর আপনার পরীক্ষায়ও আশানুরূপ ফল প্রদানে এটি সহায়ক হবে।
এইরকম প্রব্লেম প্রায় অনেকেরই হয়ে থাকে প্রথম অবস্থায় খালি মোবাইল চাপে সময় শেষ করে দিয়েছে। আর যখন এক্সাম চলে আসে ঠিক তখনই তাদের সামনে চলে আসে ঝামেলা পূর্ণ পরিস্থিতি। যেখানে অনেক দিনেও কিছু করা সম্ভব হয় নি সেখানে মাত্র দু এক মাসে খুব বেশি একটা করা সম্ভব যে হবে তা নির্দিধায় বলা যাবে না। তবে চেষ্টা করলে এই শর্ট সময়েও অনেক কিছু করা যেতে পারে। যেহেতু আপনার এই অবস্থার প্রধাণ কারণ হল আপনার ফোন, তাই চেষ্টা করুন আপনার ফোনটাকে পড়ার টেবিল থেকে একেবারে দূরে রাখার। অনেকে হয়ত বলবেন যে ফোনটাকে সুইচ অফ করলেই হয়ে যায়!! আসলে এটা কোনো সমাধান না। কারণ ফোনটা সুইচ অফ করাটা যত সহজ সুইচ অন করা টা আরও বেশি সহজ। তাই চেষ্টা করুন ফোনটাকেই একেবারে দূরে রাখার। একটা নির্দিষ্ট সময় ফিক্স করে ফোনটা ইউজ করবেন। আর আপনার পড়া লেখা যেহেতু অনেক পিছিয়ে তাই এখন একদম খামখেয়লাই করবেন না। বেশি বেশি করে পড়বেন। কম করে ৮/৯ ঘণ্টা পড়বেন। রাতে বেশিক্ষন জেগে থাকবেন না। যখনই চোখে ঘুম চলে আসবে ঠিক তখনই ঘুমাতে চলে যাবেন। ঘুমাবেন ৫/৬ ঘণ্টা। এরপর আরও শুরু করবেন স্টাডি। এভাবে চালিয়ে যান, হতাশ হবেন না। কোনো প্রব্লেম ফেস হলে প্রাইভেট টিচার বা স্কুলের টিচারের কাছ থেকে সমাধান করে নিন। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। ধন্যবাদ।
আপনার যেসময় অবসর থাকে সেসময় আপনি ফোনটাকে বন্ধ করে পড়ার টেবিল থেকে দূরে রাখবেন। তারপর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপনি মনোযোগ দিয়ে অন্তত ১ ঘন্টা করে সকালে ও রাতে পড়াশুনা করবেন। এতেই উপকার পাবেন।
প্রথম কথা হলো মোবাইল ত্যাগ করুন। একটি আদর্শ রুটিন তৈরি করুন। আর সে মুতাবেক পড়াশুনা চালিয়ে যান। ভাল ফল পাবেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy