কীভাবে পড়াশোনায় গভীর মনোযোগী হব?
4 Answers
পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হলে আপনাকে যা করতে হবে -- প্রতিদিন স্কুলে/কলেজে যেতে হবে । সব গুলো ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করতে হবে । মনে রাখবেন ক্লাস সব করতে হবে কোন বিষয়ের ক্লাস বাত দেওয়া যাবে না । আপনি যখন থেকে ক্লাসে মনোযোগী হয়ে যাবেন ঠিক তখনই বাড়ির পড়াতেও মনোযোগী হয়ে উঠবেন । আর সব সময় ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র ছাত্রীদের অনুসরণ করুন । আর মনে সব সময় জেদ রাখুন ভালো ছাত্র ছাত্রী যারা আছে তাদের চাইতে ভালো করার ।
০১. মনস্থিরঃ অমনোযোগীতা আনতে পারে এমন সব বিষয় মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আপনার পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছেই রাখুন যাতে বারবার উঠতে না হয়। অনেকের বারবার ফোন আসে পড়ার সময়।খুব বেশি দরকার না হলে ফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন। পড়তে বসার অন্তত ৫ মিনিট আগ থেকে মনস্থির করুন। ০২. শিক্ষকতাঃ আপনি যে বিষয় পড়বেন সেটা অন্য কাউকে শিক্ষা দিন।এমন কাউকে যে সে বিষয়টা সম্পর্কে জানেনা। শিক্ষকতা নিজের জ্ঞান আহরণের জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায়। যেমন- আপনি যদি গণিত কম বোঝেন বা গণিত নিয়ে পড়তে চান ভবিষ্যতে আপনার উচিত এখন থেকেই গনিতের উপর শিক্ষা দান করা অন্যদের। এতে আপনার নিজেরও চর্চা থাকবে বিষয়টির উপর। ০৩. ইন্দ্রিয় সক্রিয়ঃ আপনার সব ইন্দ্রিয় সক্রিয় করুন। আপনি একটি বিষয় যতই পড়ুন না কেন সারাদিন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি তা মনে রাখতে পারবেন না অথবা বুঝবেন না যতক্ষণ না আপনি বিষয়টি আপনার চারপাশের কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করতে পারছেন। চারপাশের জিনিসের সাথে আপনি আহরণ করা জ্ঞান মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। ০৪. সংযোগঃ প্রত্যেকটি বিষয়, ধারণার মাঝে সংযোগ স্থাপন করতে শিখুন। একটি আরেকটির সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আপনার নিজের জ্ঞানের পরিধিও অনেক বাড়বে। ০৫. নতুন ধারণা ও পরিচিত ধারণার মাঝে সংযোগঃ আপনি যখন নতুন কোন বিষয় বা তথ্য সম্পর্কে জানবেন তখন তা আপনার বর্তমানের পরিচিত কোন জানা তথ্য বা ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করুন। এতে পরীক্ষার সময় আপনার সে নতুন তথ্য ভুলে যাবার আশঙ্কা কম থাকে। ০৬. মস্তিষ্কের উপর চাপ না দেয়াঃ পরীক্ষার আগে কিছুদিন পড়লে আপনার মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়তে পারে। তাই সবসময় অল্প অল্প পড়ার মাঝে থাকবেন। এতে করে আপনার উপর কোন মানসিক চাপও থাকবেনা আর আপনি পরীক্ষার আগে একটু রিভিশন দিলেই আপনার হয়ে যাবে। ০৭. তথ্যের ধরনঃ পড়ার সময় প্রত্যেকটি তথ্যের ধরন বোঝার চেষ্টা করুন। যেমন- যে তথ্য দেয়া আছে সেটা কি গাণিতিক তথ্য, নাকি ঐতিহাসিক কোন তথ্য, নাকি কোন ব্যক্তি বা দেশ সম্পর্কে তথ্য এসব বিষয়ে ভালো করে বুঝে তারপর মুখস্ত করতে হবে। না বুঝে মুখস্ত করলে তা কোনদিন মনে থাকবেনা। ০৮. সুদৃঢ় জ্ঞানের ভিতঃ সব সময় পুস্তকি বিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত করলে হবেনা। অন্যান্য বিভিন্ন বই থেকে আহরিত জ্ঞানের সাথেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সেজন্য দেশ ও দেশের বাইরের অনেক লেখকের বই পড়ার অভ্যাস সব সময় রাখতে হবে। এটা শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং অনেক কিছু সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা যায় আর নিজের জ্ঞানের ভিত্তিটা অনেক মজবুত ও শক্ত করে গড়ে তোলা যায় যাকে ভিত হিসেবে ধরে আপনি আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে নিতে পারেন। ০৯. নিজস্ব রীতিঃ যখন কোন বিষয় পড়বেন তখন নিজের একটা আলাদা রীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করুন আর বিষয়টির একটি ছবি আপনার মনের মধ্যে এঁকে নিন। এতে বিষয়টি আপনার খুব সহজেই মনে থাকবে। ১০. নোটঃ আপনার পড়ার মূল লক্ষ্য কিন্তু সেটাকে বুঝে জ্ঞান আহরণ করা আর পরীক্ষায় ভালো করা। কিন্তু আপনি যদি নাই বোঝেন তাহলে ভালো করার প্রশ্নই আসেনা। তাই যে বিষয়টি বুঝবেন না তার পেছনে একটু বেশি মনোযোগী হন। প্রয়োজনে খাতায় লিখে, করে বোঝেন। কারণ না বুঝে মুখস্ত করে সেটা বেশিক্ষণ মনে রাখা কোন ছাত্রের পক্ষেই সম্ভব নয়।
আপনি আপনার মনকে বুঝান যে আপনি পড়ালেখা না করলে আপনার ভবিষৎ অন্ধকার। এবং মন কে সান্ত করুন এবং পড়াতে বসে প্রতি ঘন্টায় ৫ মিনিট ব্রেক দিয়ে হালকা হাঁটার পর আবার পড়তে বসুন। আর মাঝে মাঝে হেঁটে হেঁটে পড়ুন তাহলে আশা করি আপনার পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। পড়ালেখায় মনযোগ বৃদ্ধি করার সহজ একটা ছোট উপায় হলো আপনি প্রতিদিন পড়াত বসলে মনে করবেন আগামীকাল আপনার পরীক্ষা,আশা করি তাহলেই পড়ালেখার প্রতি আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে!
পড়াশোনার মন বসানোর কিছু উপায় নিচে দেওয়া হলো। • প্রথমে আপনি একটি রুটিন তৈরি করুন। • সময় হিসাব করে নয় টার্গেট নিয়ে পড়ুন। • পড়ার প্রথমে মন শান্ত করুন। ১৫-২০ মিনিট আপনার লক্ষ্য কীভাবে সাজাবেন, তা ভাবুন। • পড়ার সময় মোবাইল অথবা ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখুন। • পড়ার সময়ে শরীর সতেজ থাকার জন্যে মাঝে লেবুর সরবত পান করতে পারেন। • মেডিটেশন মন ও শরীর দুইই প্রাণবন্ত করে তোলে। মেডিটেশনের ফলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজ করা ক্ষমতা বেড়ে যায়। • ১ ঘন্টার পড়ার পর ৫-১০ ব্রেক নিন ব্রেক টা এনালগ নিবেন কোন প্রকার ফেসবুক,মেসেঞ্জার এ ডু মারতে যাবেন না। • অনেক সময় ধরে পড়ছেন তখন কিছু সময় ব্রেক নিয়ে হালকা সাউন্ডের গান শুনুন। • বেশি রাত জেগে পড়বেন না রাত ১০ টা পর্যন্ত পড়ে ঘুমিয়ে পড়বেন পরে ভোর ৪/৫ টাই উঠে ধর্মীয় কাজ শেষ করে পড়তে বসবেন। • নিয়ম করে সারা দিন পড়বেন। • সময় নষ্ট করবেন না। • পড়ার সময় ঘুম ঘুম ভাব হলে এমন গল্প যা আত্মবিশ্বাস জাগায় এধরনের গল্প পড়ুন। • নিয়মিত ক্লাসে যান এবং শিক্ষকের কথা শুনুন। টিফিন টাইম থাকলে সেই সময় পড়া লেখা করতে পারেন।