4 Answers

বলা বাহুল্য যে আল্লাহরই ইচ্ছানুযায়ী মানব বংশ বিস্তার ও তার জন্য দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে স্বামীকে-স্ত্রীকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি শান্ত, নিরালা ও সুশৃঙখল পরিবেশের সৃষ্টি করতে হয় এবং এজন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই যথাযথভাবে আপনাপন কর্তব্যসমূহ সাধন করতে হয়। সহবাসের স্বাভাবিক পন্থা হলো এই যে, স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই স্বাভাবিক পন্থা পরিলক্ষতি হয়। সর্বপরি এ দিকেই অত্যন্ত সুক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে আল কুরআনেও। আর স্বামী যখন স্ত্রীর উপরে থাকবে তখন স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর ঢাকা পড়বে। এতে স্ত্রীরও কষ্ট সহ্য করতে হয়না এবং গর্ভধারণের জন্যেও তা উপকারী ও সহায়ক। কাজেই স্বামী স্ত্রী সহবাস করার সময় কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। তাহলে জেনে নেই বিশেষ কিছু নিয়মগুলি- ১. সহবাসের প্রথমে দোয়া পড়বেন (স্ত্রী সহবাসের দোয়া)। তারপর স্ত্রীকে আলিঙ্গন করবেন। তখন বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবেন। ২. সহবাস করার সময় নিজের স্ত্রীর রূপ দর্শন শরীর স্পর্শন ও সহবাসের সুফলের প্রতি মনো নিবেশ করা ছাড়া অন্য কোনো সুন্দরি স্ত্রী লোকের বা অন্য সুন্দরী বালিকার রুপের কল্পনা করবে না। তার সাথে মিলন সুখের চিন্তা করবেন না। স্ত্রীরও তাই করা উচিৎ। ৩. স্ত্রী যদি ইচ্ছা হয় তখন তাকে ভালোবাসা দিবে এবং আদর সোহাগ দিবে। চুম্বন দিবে। তখন উভয়ের মনের পূর্ণ আশা হবে সহবাস। ৪. রাত্রি দ্বি-প্রহরের আগে সহবাস করবে না। ৫. ফলবান গাছের নিচে স্ত্রী সহবাস করবে না। ৬. রবিবারে সহবাস করবেন না। ৭. চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না। ৮. স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের সময় বা উভয়ের অসুখের সময় সহবাস করবেন না। ৯. বুধবারের রাত্রে স্ত্রীর সহবাস করবেন না। ১০. জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস করবেন না। ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস করবেন না। ১১. উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস করবেন না। স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস করবেন না। ১২. পূর্ব-পশ্চিমদিকে শুয়ে স্ত্রী সহবাস করবেন না। ১৩. বিদেশ যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না। ১৪. স্ত্রীর জরায়ু দিকে চেয়ে সহবাস করবেন না। ইহাতে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়। ১৫. সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা বলবেন না এবং নাপাক শরীরে স্ত্রী সহবাস কবেন না। উলঙ্গ হয়ে কাপড় ছাড়া অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করবেন না। গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাওলানা মিরাজ রহমান

3595 views

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنْ قَضَى اللَّهُ بَيْنَهُمَا وَلَدًا لَمْ يَضُرَّهُ الشَّيْطَانُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ ইবনু আব্বাস (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন লোক যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে আর তখন (মিলনের পূর্বে) বলে, “বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা"। তাদেরকে যদি আল্লাহ তা'আলা তাদের এই সহবাসে সন্তান দেয়ার সিদ্ধান্ত করেন, তবে এ সন্তানের কোনরকম ক্ষতিই শাইতান করতে পারে না । সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৯১৯), বুখারী জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১০৯২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

3595 views

সহবাসের সময় যেসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত, সংক্ষেপে তা নিম্নে পেশ করা হল- 

১. স্ত্রীর সাথে সহবাস করার সময় নিয়ত ঠিক রাখা। অর্থাৎ মুসলিম উম্মার সংখ্যা বৃদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সহবাস।

 ২. সহবাসের সময় স্ত্রীকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। 

৩.স্ত্রীর সাথে যেকোন আসনেই সঙ্গম করা যায়। অর্থাৎ দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) স্ত্রীর যোনিপথে। 

৪.স্ত্রীর সাথে সহবাস করা যেমন সোয়াবের কাজ। আল্লাহ এতে অনেক খুশি হন। কিন্তু মলদ্বার দিয়ে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম। নবিজি হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে, আল্লাহ্ তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকান না।” 

৫.স্ত্রীর যখন পিরিয়ড চলে তখন সহবাস করা ইসলামে হারাম। নবিজি হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলো অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ ﷺ -এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের (আল্লাহ্‌র কিতাবের) বিরুদ্ধাচরণ করলো।

 ৬.স্ত্রীর সাথে দিনে একাধিকবার সঙ্গম করা যায় কিন্তু প্রতিবার সঙ্গমের পূর্বে অজু করে নেওয়া মুস্তাহাব। হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর আবার সহবাস করতে চায় তখন সে যেন এর মাঝখানে ওযু করে নেয়। কেননা, এটি দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক। তবে গোসল করে নেয়া আরো উত্তম।

 চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক সহবাসের সুন্নত নিয়মগুলোঃ ১. স্ত্রী সহবাসের আগে ভালো করে দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করে নেবে। ২. স্বামী ও ভালো করে দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করে নিবে বর্তমানে অনেক যুবক সিগারেট বা অনেক বদ নেশার সঙ্গে যুক্ত তাই এভাবে স্ত্রীর কাছে যাওয়া ঠিক নয়। ৩. স্বামী স্ত্রীর সহবাসের পূর্বে উভাই অজু করে নিবে। ৪. বিসমিল্লাহ সহ সহবাসের দোয়া পড়তে হবে কেননা এটা মুস্তাহাব। ৫. স্বামী স্ত্রী একে অন্যের সুগন্ধি জাতীয় জিনিস বা আতর মেখে নেবে। ৬. সহবাসের সময় কেবলামুখী হয়ে করবে না। ৭. সহবাসের সময় একেবারে উলঙ্গ হয়ে করবে না যদি তৃপ্তি না আসে তাহলে উপরে চাদর বা কাপড় বিছিয়ে নিবে

3595 views

Related Questions