ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের প্রতিকৃতি অঙ্কন করা বা ছবি তোলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন দরকারি কাজে ছবি তুলতে হয়?
3 Answers
অহেতুক প্রাণীর ছবি আকা ও তোলা উভয়ই হারাম। এতে কোন সন্দেহ নেই। কুরআন ও হাদীসে আলোকে তা দিবালোকের ন্যায় পরিস্কার। কিন্তু কুরআন নির্ধারিত একটি মূলনীতি হল, তীব্র প্রয়োজন হারামকে সাময়িক হালাল করে দেয়। কুরআনে ইরশাদ হচ্ছেঃ ﻭَﻗَﺪْ ﻓَﺼَّﻞَ ﻟَﻜُﻢ ﻣَّﺎ ﺣَﺮَّﻡَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﺍﺿْﻄُﺮِﺭْﺗُﻢْ ﺇِﻟَﻴْﻪِۗ [ ٦ :١١٩ যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন;কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল,যখন তোমরা নিরূপায় হয়ে যাও। [সূরা আনআমঃ ১১৯] মৃত জীব, রক্ত, শুকরের গোস্ত এবং গাইরুল্লাহ নামে জবাইকৃত পশু হারাম হওয়া সত্বেও তীব্র প্রয়োজনের সময় তা ভক্ষণ করার অনুমতি প্রদান করে ইরশাদ হচ্ছেঃ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺣَﺮَّﻡَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟْﻤَﻴْﺘَﺔَ ﻭَﺍﻟﺪَّﻡَ ﻭَﻟَﺤْﻢَ ﺍﻟْﺨِﻨﺰِﻳﺮِ ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻫِﻞَّ ﺑِﻪِ ﻟِﻐَﻴْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِۖ ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺿْﻄُﺮَّ ﻏَﻴْﺮَ ﺑَﺎﻍٍ ﻭَﻟَﺎ ﻋَﺎﺩٍ ﻓَﻠَﺎ ﺇِﺛْﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻪِۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَّﺣِﻴﻢٌ [ ٢ :١٧٣ ] তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন,মৃত জীব,রক্ত,শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়,তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। [সূরা বাকারা-১৭৩] আরেক আয়াতে কারীমায় এসেছেঃ ﻗُﻞ ﻟَّﺎ ﺃَﺟِﺪُ ﻓِﻲ ﻣَﺎ ﺃُﻭﺣِﻲَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣُﺤَﺮَّﻣًﺎ ﻋَﻠَﻰٰ ﻃَﺎﻋِﻢٍ ﻳَﻄْﻌَﻤُﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﻣَﻴْﺘَﺔً ﺃَﻭْ ﺩَﻣًﺎ ﻣَّﺴْﻔُﻮﺣًﺎ ﺃَﻭْ ﻟَﺤْﻢَ ﺧِﻨﺰِﻳﺮٍ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺭِﺟْﺲٌ ﺃَﻭْ ﻓِﺴْﻘًﺎ ﺃُﻫِﻞَّ ﻟِﻐَﻴْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻪِۚ ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺿْﻄُﺮَّ ﻏَﻴْﺮَ ﺑَﺎﻍٍ ﻭَﻟَﺎ ﻋَﺎﺩٍ ﻓَﺈِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَّﺣِﻴﻢٌ [ ٦ :١٤٥ ] আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে,তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে,যা সে ভক্ষণ করে;কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্গন করে না, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু। [সূরা আনআম-১৪৫] উপরোক্ত আয়াতে কারীমা পরিস্কার হারাম বস্তুও তীব্র প্রয়োজন দেখা দিলে সাময়িক হালাল হবার কথা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় প্রকাশ করছে। যা আমাদের একটি মূলনীতি শিক্ষা দিচ্ছে যে, তীব্র প্রয়োজন দেখা দিলে হারাম বস্তুও সাময়িকভাবে জায়েজ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সকলউলাময়ে কেরাম একমত যে, নিষ্প্রয়োজনে ছবি তোলা সম্পূর্ণ না জায়েয। তবে, হাঁ প্রয়োজেনের খাতিরে ছবি তোলা যাবে। কারণ ইসলামী শরীয়তে নিরুপায় অবস্থায় হারাম প্রাণীর গোশত বক্ষণ করাকে বৈধ রাখা হয়েছে।
প্রাণীর ছবি আকা ও তোলা উভয়ই হারাম যা হাদিস দ্বারা প্রমানিত। কিন্তু প্রয়োজনে হলে ছবি তোলা জায়েজ আছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে ব্যক্তি আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চায়। তাদের শক্তি থাকলে তারা একটা অনু সৃষ্টি করুক অথবা একটি খাদ্যের দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি গমের দানা তৈরী করুক। (বুখারি ও মুসলিম) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে শাস্তি পাবে তারাই যারা আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মতো ছবি বা চিত্র অঙ্কন করে। (বুখারি ও মুসলিম) অনেকেই বলেছেন, ক্যামেরার ছবি নিষেধের পর্যায়ভুক্ত নয়। কিন্তু নিষেধের কারণ বিশ্লেষণ করলেই তা অবৈধ মনে হয়। তবে পরিচয়পত্র ইত্যাদির প্রয়োজনে তা বৈধ। ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলাতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ এ জন্য হাতে কোন প্রকার কাজ করতে হয়না। এভাবে ছবি উঠালে নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে প্রশ্ন এই যে, ছবি তোলার উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য যদি হয় ছবিকে সম্মান করা, তা হলে হারাম হবে। কারণ নিষিদ্ধ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যম ও উপকরণ ব্যবহার করাও হারাম। তাই স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ছবি সংগ্রহ করা নিষেধ। রাসুল (সাঃ) বলেনঃ যে ঘরে ছবি রয়েছে, সেই ঘরে আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। এই হাদীছটি প্রমাণ করে যে, ঘরে ছবি রাখা অথবা দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা জায়েয নয়। আসলে ক্যামেরার মাধ্যমে যে ছবিগুলো তোলা হয়ে থাকে, সেগুলো অনেকটাই ইমেজ এবং এই ইমেজ গুলোতে সুস্পষ্টভাবে কোনো প্রতিকৃতি অথবা পরিপূর্ণ আকার ধারণ করা হয় না। ক্যামেরায় এমন একটি ছবি আসে, যেখানে তেমন কিছুই থাকে না। রাসুল (সাঃ) যেখানে ছবির কথা হারাম করেছেন, সেখানে কি তিনি এই ছবির কথা বলেছেন, নাকি একজন মানুষের মূর্তি আবিষ্কার করা বা পরিপূর্ণ ছবি ধারণ করা সেটা বুঝিয়েছেন? এই নিয়ে পরবর্তী যুগের আলেম বা এই যুগের আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। মূল কথা হচ্ছে, ক্যামেরার যে ইমেজগুলো আছে, রাসুল (সাঃ)-এর হাদিস দ্বারা সেগুলোকে বোঝানো হয়নি। তাই এই ইমেজ যদি কেউ ধারণ করে থাকেন, সেটাকে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ছবির আকার না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি ধারণ করা জায়েজ, নাজায়েজ নয়। ক্যামেরার মাধ্যমে এটি করতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আলেমদের একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি ইশতেহাদি বিষয়, সেটি হচ্ছে, সুস্পষ্ট কোনো দলিলের মাধ্যমে বা রাসুলের (সাঃ) কোনো সুস্পষ্ট হাদিসের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়নি, সেটি হল অপ্রয়োজনীয়, অহেতুক কারণে বারবার ছবি তোলা বা ছবির কাজেই লিপ্ত থাকা। অনেক সময়ই দেখা যায় যে, হজ করার সময় আল্লাহর ঘরে তাওয়াফ করছেন, তখন তিনি ছবি তুলছেন। অথচ তাওয়াফের ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়, ইবাদত কবুলের সময়, তখন আপনি ছবি তুলবেন কেন! তাই প্রয়োজন যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে ছবি না তুলে, প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা আপনার জন্য উত্তম। প্রয়োজনীয় সময়ে ছবি তোলা বৈধ, এটি জায়েজ, আপনি ছবি তুলতে পারেন। এটি রাসুল (সাঃ) যে নিষেধ করেছেন, তার আওতাভুক্ত হবে না। (সংগ্রহে গুগল)
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy