6 Answers
আপনি একটি আদর্শ মানুষের মতো আচরণ করলেই হবে।
পরিবেশ এবং পরিস্থিতি বুঝে কাজ করুন। আপনি যখন যে পরিবেশে থাকবেন, সেই পরিবেশের সাথে নিজেকে ক্ষাপ খাইয়ে নিন। যেমনঃ সেখানে সবাই কি পছন্দ করে, আপনি সেই কাজটি করুন এবং কি অপছন্দ করে, সেই কাজটি বর্জন করুন। যারা বন্ধু সূলভ, তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন এবং যারা বন্ধুসূলভ নয়, তাদের সাথে ভিন্ন আচরণ করুন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
সকলের পছন্দের মানুষ হওয়া তো আসলে সম্ভব না সে ক্ষেত্রে খারাপ মানুষদের পছন্দের তালিকায় থাকতে হলে তো আপনাকে খারাপ হতে হবে আর সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না। ভালো মানুষদের পছন্দের তালিকায় থাকতে হলে নিজেকে ভালো থাকতে হবে ,ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে, সৎ পথে থাকা সত্য কথা বলা, বড়দের সম্মান করা, সময়ের গুরুত্ব দেয়া ইত্যাদি।
কেউ যেমন একেবারে পারফেক্ট হতে পারে না।তেমনিভাবে কেউ সবার প্রিয় হতে পারবে না।মানুষের মানসিকতার উপর নির্ভর করে তার প্রিয় মানুষ আলাদা হয়ে থাকে।অর্থাৎ,কারো কাছে ভালো বা আদর্শ ব্যক্তি প্রিয় মানুষ।আবার অনেকের কাছে মন্দ চরিত্রের ব্যক্তিও প্রিয় ব্যক্তি হতে পারে।তাই কারো কাছে প্রিয় হবার চেষ্টা না করে আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন।এটাই আপনাকে প্রায় সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
সকলের পছন্দ হওয়ার সহজ কয়েকটি উপায়..... *সম্মানিত হবার জন্য নিজেকে তৈরী করুন । আপনি অভদ্র, বিশৃঙ্খল হলে আপনাকে কেউ সম্মান করবে না এইটা সহজ কথা। তাই নিজেকে সংযত করতে হবে। আপনি সবার সম্মান আদায় করে নিতে চাইলে আপনাকে সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। দয়ালু হোন, অন্যকে উৎসাহিত করুন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। অন্যের কোন ক্ষতি করবেন না এবং যেকোন কথার বলার আগে ভেবে বলবেন। তাহলেই ধীরে ধীরে মানুষের সম্মান লাভ করতে পারবেন। *চ্যালেঞ্জ নিন চ্যালেঞ্জ সবাই নিতে পারে না। আর যারা পারে তারা আমাদের চোখে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। তাই নিজের নিরাপদ স্থান থেকে বের হয়ে এসে কিছু করে দেখান। মানুষ তাকেই সম্মান করে যে চ্যালেঞ্জ নিতে এবং ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। অন্যদিকে যারা ভয়ে কাতর হয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকে তাদের মানুষ সম্মান করে না এবং তারা সেটার যোগ্যও না। তাই জীবনে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে শিখুন। এবং এতে করে অন্যের সামনে দৃষ্টান্ততে রূপান্তরিত হতে পারবেন। এবং সম্মানের ভাগিদার হয়ে উঠবেন। *কথার সত্যতা বজায় রাখুন কিন্তু কৌশলী হোন মিথ্যাবাদীদের কেউ পছন্দ করে না। যারা অনবরত মিথ্যা বলে যায় তারা মানুষেত সম্মানের যোগ্য নয়। তাই সবার কাছে সম্মানিত ব্যক্তি হতে হলে, যা বলবেন সত্যি বলবেন। মিথ্যাচার করে নিজের গুনগান বা নিজের প্রভাব বিস্তার করে সম্মান অর্জন করতে যাবেন না এতে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। দেখাযাবে এই মিথ্যেগুলোই আপনার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সব সময় সত্যি বলাই শ্রেয়। আবার এমন সত্যি বলবেন না যেটা মানুষের ক্ষতিসাধন করবে। এক্ষেত্রে আপমানে একটু কৌশলী হয়ে উঠতে হবে। হ্যা সত্যি বলবেন তবে কৌশলে যাতে অন্যের ক্ষতি না হয়। *পজেটিভ হয়ে উঠুন পজেটিভিটি মানুষকে যেমন সাফল্যের শীর্ষচূড়ায় পৌঁছে দিতে পারে ঠিক তেমনি বয়ে আনতে পারে সম্মানও। এবং এই পজেটিভিটি আপনার জীবনে বয়ে সুখের অনাবিল ঝর্না। তাই সম্মান পেতে এবং জীবনে সফল হতে এই গুনে গুণান্বিত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তাই জীবনকে পজেটিভলি দেখুন, মানুষকে সম্পর্কে পজেটিভ হোন এবং অবশ্যই নিজের সামর্থ্য সম্পর্কেও। *উৎসাহিত করুন আমাদের সমাজের লক্ষ্যই হচ্ছে অন্যকে টেনে নামানো। আমি পারিনি সেহেতু ও পারবে না এই ধারনাটা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পরেছে। কিন্তু কাউকে কাজে উৎসাহ দেয়ার ক্ষমতাটুকু হারিয়ে ফেলেছি। হিংসার চাদরে ঢাকা পরে গেছে সেই মহৎ গুনটি। কিন্তু এসব মন মানসিকতা পুষে রাখলে সমাজে সম্মান অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই হিংসাকে পাস কাটিয়ে আমাদের মানুষকে কাজে উৎসাহ দিয়ে যেতে হবে তাহলে ফলসরূপ সম্মান তো পাবোই সাথে সাথে আমাদের দেশটাও এগিয়ে যাবে সব ভালো উদ্যোগের দৌতলে। *সরি/ দুঃখিত বলতে শিখুন সরি বললেই আমাদের সম্মান কমে যাবে, আমাদের পারসোনালিটিতে আঘাত হানবে, আমি ছোট হয়ে যাবো ইত্যাদি আমাদের অনেকেই এসব ভুল ধারনা মনের মধ্যে পোষণ করি। যেটা সম্পূর্ণ আমাদের ভুল ধারনা থেকে সৃষ্টি। আর এই ভুল ধারনা থেকেই আমরা ভুল করলে, মানুষের মনে কষ্ট দিলে দুঃখ প্রকাশ করি না। যাতে করে মানুষগুলোর আমাদের উপর থেকে সম্মান নষ্ট হয়ে যায়। অন্যের ভুলের কারনে আমরা যেমন তাদের থেকে সরি আশা করি এবং সেটা না হলে মনঃক্ষুণ্ণ হই ঠিক তেমনিভাবে আমাদের করা ভুলের জন্য তারাও ঠিক একই জিনিশ আশা করে। আর নিজের ভুল কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা মোটেও অস্মমানের কাজ নয় এটা বরং সম্মান জনিত কাজই। এবং সম্মানীয় ব্যক্তিদের দিকে তাকালে আমরা এই দৃষ্টান্তই দেখতে পাই। আশা করি সাহায্য করতে পেরেছি ধন্যবাদ