নতুন করে বিয়ের প্রয়োজন আছে কি না?

একটি মেয়ের সাথে পরকিয়া প্রেম কিছুদিন পর মেয়েটি তার স্বামীকে  ডির্ভোস দিয়ে আমাকে বিয়ে করে ছয় মাস সংসার করার পর মেয়ের আগের স্বামী শালিস বসিয়ে মেয়েটিকে আবার বিয়ে করে সংসার শুরু করে। তারপর মেয়েটি তার স্বামী ও শাশুড়ি দ্বারা নির্যাতিত হতে থাকে এক পর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে আমার কাছে চলে আসে আমি তাকে গ্রহন করি এবং আমরা সিদ্ধান্ত নেই এখন থেকে আমরা একসাথে থাকব সংসার করব। এখন কি আবার আমাদের বিয়ে করা লাগবে কিনা জানতে চাই।আগের কাবিন নামা ডিভোর্স পেপার সবই আমাদের আছে।

2780 views

4 Answers

 আগের স্বামীকে তালাক দিতে হবে।তা নাহলে একত্রে থাকা ব্যাভিচার হবে। আর বিবাহীত ব্যাভিচারের শাস্তি মৃত্যুদন্ড তাই অতি দ্রুত নতুনভাবে বিয়ে করতে হবে। বিবাহের যে সকল শর্ত আছে, তা পূরণ হলে এমন বিবাহ বৈধ। আপনার অভিভাবক, সাক্ষীস্বরূপ কমপক্ষে দুইজন সৎ ব্যক্তি, দেনমোহর ইত্যাদি ।

তালাকের বিষয়টি সকল ক্ষেত্রে এক রকম নয়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে স্থানীয় কাযীর সহযোগিতা প্রয়োজন।


মহান আল্লাহ বলেছেন, “ অতঃপর উক্ত স্ত্রীকে যদি সে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তবে সে পর্যন্ত না ঐ স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ করবে, তার পক্ষে সে বৈধ হবে না। অতঃপর ঐ দ্বিতীয় স্বামী যদি তাকে তালাক দেয় এবং যদি উভয় মনে করে যে, তারা আল্লাহ্‌র সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে, তাহলে তাদের (পুনর্বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে) ফিরে আসায় কোন দোষ নেই। এ সব আল্লহর নির্ধারিত সীমারেখা, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ ঐগুলি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।” (বাকারাহঃ ২৩০)






2780 views Answered

আগের স্বামিকে তালাক দিতে হবে, তার পর আপনাকে বিয়ে করতে পারবে।  

2780 views Answered

তালাক প্রাপ্তাদের স্বামীরা ইদ্দতের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনার অগ্রাধিকার রাখে। এক্ষেত্রে বিবাহের প্রয়োজন নেই। তবে তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেই তাদের আবার বিবাহ আবশ্যক। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) হাসান (রহঃ) থেকে বর্নিত যে, মাকাল ইবনু ইয়াসারেব বোন এক ব্যাক্তির বিবাহাধীন ছিল। সে তাকে তালাক দিল। পুনরায় ফিরিয়ে আনলোনা, এভাবে তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে সে আবার তার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। মাকাল (রাঃ) ক্রোধান্বিত হলেন, তিনি বললেনঃ সময় সুযোগ থাকতে ফিরিয়ে নিল না, এখন আবার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি তাদের মাঝে পুনর্বিবাহে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি অবর্তীর্ন করেনঃ তোমরা যখন স্ত্রীকে তোমরা তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত-কাল পূর্ন করে, তখন তারা নিজেদের স্বামীদেরকে বিবাহ করতে চাইলে তোমরা বাধা দিও না। (বাকারাঃ ২৩২)। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং তার সামনে আয়াতটি পাঠ করলেন। তিনি তার জিদ পরিত্যাগ করে আল্লাহর আদেশের অনুসরণ করেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বরঃ ৪৯৪৫) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তালাকের দুইটি পর্যায় অতিক্রম করে ফেলে তার জন্য এ আয়াতে দুইটি আদেশ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি হচ্ছে এই যে, ইদ্দতের  মধ্যে তালাক প্রত্যাহার করলে বিয়ে নবায়নের প্রয়োজন নেই, বরং তালাক প্রত্যাহার করে নেয়াই যথেষ্ট। এতে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বিয়ের নবায়নের প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয় হচ্ছে এই যে, স্বামী যদি মিল-মহব্বতের সাথে সংসার যাপন করতে চায়, তবে তালাক প্রত্যাহার করবে। অন্যথায় স্ত্রীকে ইদ্দত  অতিক্রম করে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্তি লাভের সুযোগ দেবে, যাতে বিবাহ বন্ধন এমনিতেই ছিন্ন হয়ে যায়। আর তা যদি না হয়, তবে স্ত্রীকে অযথা কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে যেন তালাক প্রত্যাহার না করে। সেজন্যই বলা হয়েছে (تَسْرِيْحٌ بِاِحْسَانٍ) এখানে (تَسْرِيْحٌ) –অর্থ খুলে দেয়া বা ছেড়ে দেয়া। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দ্বিতীয় তালাক দেয়া বা অন্য কোন কাজ করার প্রয়োজন নেই। তালাক প্রত্যাহার ব্যতীত ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাওয়াই বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (تَسْرِيْحٌ) এর সাথে (اِحْسَانٍ) শব্দের শর্ত আরোপের মাধ্যমে উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তালাক হচ্ছে একটি বন্ধনকে ছিন্ন করা। আর সৎ লোকের কর্ম পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, কোন কাজ বা চুক্তি করতে হলে তারা তা উত্তম পন্থায়ই করে থাকেন।  ইবনু আব্বাস (রাঃ) , মুজাহিদ (রহঃ) , মাসরুক (রহঃ) , হাসান বাসরী (রহঃ) , কাতাদাহ (রহঃ) , যাহহাক (রহঃ) , রাবী (রহঃ) , এবং মুকাতিল ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) বলেছেন যে, এক লোক তার স্ত্রীকে তালাক দিতো এবং যখন তার ইদ্দতের সময় প্রায় শেষ হয়ে আসতো তখন সে আবার ফিরিয়ে নিতো। তার এ রকম করার উদ্দেশ্য ছিলো স্ত্রীকে কষ্ট দেয়া এবং অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে না দেয়া। এভাবে সে তালাক দিতে থাকলো এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই ফিরিয়ে নিতে থাকে। মহান আল্লাহ্ তার এ আচরণকে নিষিদ্ধ করে আয়াত নাযিল করেন এবং জানিয়ে দেন, যারা এরূপ করে তারা অত্যাচারী। জনাব! আপনার স্ত্রীকে যদি তালাক দেওয়ার ৯০ দিন না হয় তাহলে তাকে বিবাহ ছাড়াই গ্রহণ করতে পারবেন। নতুবা নয়।

2780 views Answered

মেয়েটি যদি আপনার সাথে থাকতে চায় তাহলে মেয়েটিকে তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিতে হবে এবং তারপর আপনাকে বিয়ে করবে । এক্ষেত্রে আপনাদের পুণরায় বিয়ে করতে হবে

2780 views Answered

Related Questions

Next steps