3 Answers
মহররমের আমলসমূহ #মহররমের প্রথম আমল হচ্ছে . পুরো মাসে যে কোন দিন রোজা রাখা, তাহলে অন্য সময়ে নফল রোজা রাখলে যে সওয়াব তার চেয়ে বেশি সওয়াব লাভ করা যাবে। যেমন- রাসূল সা. ইরশাদ করেন রমযানের রোজার পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। (মুসলিম) . #মহররম মাসের ২য় আমল হল, . দশ তারিখ রোজা রাখা। যেমন। রাসুল সা. ইরশাদ করেন- “আমি আল্লাহর দরবারে আশা রাখি যে, ১০ই মহররমের রোজা পূর্ববর্তী বছরের গুনাহর কাফফরা হবে।” (মুসলিম) এখন কথা হল, এই আশুরার রোজা কোত্থেকে এলো? এ ব্যাপারে হাদিসে আছে, হুজুর সা. যখন হিজরত করে মদিনায় আসলেন, তখন তিনি দেখলেন, মহররমের ১০ তারিখ ইহুদীরা রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কেন এ রোজা রাখো? . উত্তরে তারা বলল . এ দিন আল্লাহতায়ালা মুসা আ. ও বনী ইসরাইলের জন্য সমুদ্রের ভেতরে রাস্তা করে সাগর পাড়ি দিয়ে তীরে উঠিয়ে দিলেন। আর ফেরাউন তার দলবলসহ সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল। সেদিন শুকরিয়া স্বরূপ হযরত মুসা আ. রোজা রেখেছিলেন। তাই আমরা এই দিনে রোজা রাখি। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমরা তোমাদের চেয়ে মুসা আ.-এর অনুসরণের অধিক যোগ্য। তাই তিনি রোজা রাখলেন এবং সাহাবীদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (ইবনে মাজাহ) . তবে সাথে সাথে তিনি একথাও বললেন“ . তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখ এবং এতে ইহুদিদের বিরুদ্ধাচরণ কর।’ অর্থাৎ তারা মাত্র একদিন রাখে। তোমরা আগে বা পরে মিলিয়ে দুদিন রোজা রাখ।’ (জমউল খাওয়াইদ) . সুতরাং আশুরার দিন রোজা রাখা এবং তার আগে পরে আরো একটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। আর কেউ যদি শুধু দশ তারিখে রোজা রাখে তাহলে সেই রোজা হবে মাকরূহে তানযিহী। এই রোজা রাখার তাৎপর্য। . #মহররমের তিন নম্বর আমল হচ্ছে . আশুরার দিন নিজ নিজ পরিবারের খাদ্য খোরাকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু মুক্তহস্ত হওয়া মুস্তাহাব। রাসূল সা. ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আশুরার দিবসে পরিবারের পরিজনের জন্য মুস্তহস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে সারাবছর সচ্ছলতা দান করবেন।” এই হলো মহরমের করণীয় ও বর্জনীয়। কিন্তু বর্তমান সমাজ আশুরাকে কারবালায় পরিণত করে ফেলেছে। তাই মহররম তথা আশুরা এলেই আমাদের বদ্ধমূল ধারণা হয় কারবালার মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক ঘটনা। মূলত এটা ঠিক নয়। কেননা, কারবালার ঘটনার বহুকাল পূর্বে পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা এ দিনে ঘটেছে। অনেক জাতির উত্থান-পতন এ দিনে হয়েছে। আল্লাহতায়ালা তাঁর বিশেষ বান্দাদের প্রতি এ দিনে রহমত করেছেন। এ কারণেই তো রাসূল সা. নিজে রোজা রেখেছেন এবং সাহাবীদেরকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কারবালার সাথে আশুরার কোন সম্পর্ক নেই। কেননা, কারবালার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ৬১ হিজরীতে। রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পর প্রায় অর্ধ শতাব্দি পর। আর কোন দিন বা সময় মর্যাদাবান হওয়া না হওয়ার সম্পর্ক শরীয়তের আল্লাহ ও রাসুল সা. এর সাথে। আর রাসূল সা. আশুরার ব্যাপারে এতো ফযিলত এর কথা বলা সত্ত্বেও কারবালার সম্পর্কে কিছু বলে যাননি। তাহলে বুঝা যায়, কারবালার নামে মানুষ যা করছে এটা নিতান্তই মনগড়া। দ্বীন ও ইসলামের সাথে এর নূন্যতম কোন সম্পর্ক নেই। . প্রিয় উপস্থিতি! আমাদের বুঝতে হবে, কারবালার সাথে আশুরার কোন সম্পর্ক নেই। এর অর্থ এই নয় যে, নবীর দৌহিত্র হযরত হুসাইন রা. এর প্রতি আমাদের অন্তরে কোন দরদ নেই। কোন ভালোবাসা নেই। বরং আমরা বলতে চাই, আশুরার নামে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা যে শোক মিছিল করে মাতম করে, বিলাপ করে, তাযিয়া বানিয়ে ঢোল-তবলা পিটিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জনের ন্যায় বিসর্জন দিচ্ছে এগুলো সম্পূর্ণ বিদআত। অনৈসলামিক কার্যকলাপ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য, মুসলমানদের মৌলিক আবেদন থেকে সরিয়ে গুনাহ এবং নাফরমানীতে লিপ্ত করা। অথচ ইসলামে জন্মদিবস, মৃত্যুদিবস ও শোক দিবস বলতে কিছুই নাই এবং এর কোন গুরুত্বও নেই। বরং এগুলোর ব্যাপারে শরীয়তের পক্ষ থেকে ধিক্কার এসেছে। রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি শোকে-দুঃখে চেহারায় চপেটঘাত করে, জামার বুক ফেঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের ন্যায় হায়- হুতাশ করে, সে আমার উম্মতের অর্ন্তভূক্ত নয়। (মিশকাত) . শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা আশুরার নামে মূলত যে কাজগুলো করছে তা শরীয়তসম্মত নয়। তাদের উদ্দেশ্য মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো। আর শিয়াদের প্রপাগান্ডায় আমরা এতবেশি প্রভাবিত হয়ে পড়েছি যে, আশুরার দিন আসলে আমরা বিভিন্ন মাহফিল, সেমিনারে নবী সা.-এর নাতির প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে রাসূল সা. আরেক জালিনুল কদর সাহাবীর সাথে জঘন্যতম বেয়াদবীমূলক কথা বলে থাকি। যিনি ছিলেন কাতেরে ওহি। বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী।
মুহাররম মাসে একটি রোযা রাখা উত্তম। হান্নাদ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) হাকাম ইবনু আরাজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি তখন যমযমের কাছে তাঁর চাঁদরকে বালিশের মত করে টেক লাগানো অবস্থায় ছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আশুরা সম্পর্কে আমাকে বলুন তো, কোন দিন আমি এর সিয়াম পালন করবো? তিনি বললেন, মুহাররমের চাঁদ যখন দেখবে তখন থেকেই দিন গুনতে থাকবে। পরে নবম তারিখ ভোর থেকে সাওম পালন করবে। আমি বললাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই তা পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। [সূনান তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ৭৫২] আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের তাহাজ্জুদের নামায। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ১১৭৫] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার মুহাররম মাসের দশম দিনে স্বয়ং রোযা রেখেছেন এবং ঐ দিনে রোযা রাখতে আদেশ করেছেন। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ১২৫৯]