আমার/আমাদের কি করা উচিত?
2 Answers
আপনারা কুরআন সাক্ষী রেখে নিজে নিজে কবুল বলে বিয়ে করেছেন, এই বিবাহ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। কারন বিবাহ করতে গেলে যা লাগে তা হাদিসে দেখুন, ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ আল-বাসরী (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তারা হলো ব্যভিচারিনী যারা সাক্ষী ছাড়া নিজেরাই নিজেদের বিবাহ করে নেয়। সূনান তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১১০৩-১১০৪ ইবনু আবী উমার (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেন, যে কোন মহিলা তার ওলীর অনুমতি ব্যতিরেকে বিয়ে করবে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল। যদি এরপর স্বামী-তার সাথে সঙ্গত হয় তবে স্ত্রী মহরানার হকদার হবে। যেহেতু তার স্বামী তার লজ্জাস্থানকে হালাল মনে করে ভোগ করেছে। ওলীরা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে, শাসকই ওলী হবে, যার ওলী নেই। সূনান তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১১০২ আপনাদের বিবাহ জায়েজ-হালাল হয়নি। তাই দুই পক্ষের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওটাই ভাল মনে করি।
প্রিয় বোন ! প্রথমে প্রেম ভালোবাসা সম্বন্ধে একটু বলি।
প্রেম অর্থ ভালোবাসা। এ ভালোবাসা একটি কাঙ্ক্ষিত ও বৈধ বিষয় । কিন্তু স্থান কাল পাত্র ভেদে এই কাঙ্ক্ষিত বিষয়টিও হারাম হয়ে যায়। দীন ও ঈমানের ক্ষেত্রে ভালোবাসা অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হিসেবে পরিগণিত। ভালোবাসা ব্যতিরেকে দীন ও ঈমান পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। কারণ আল্লাহকে ভালোবাসা ঈমানের জন্য অলঙ্ঘনীয় প্রথম শর্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা ঈমানদার তারা সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে আল্লহকে। ( সূরা বাকারা-১৬৫) আর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা আবশ্যক। কুরআনে কারীমে এ বিষয়টি বেশ স্পষ্ট করেই বলে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ কর”। (সূরা আলে ইমরান- ৩১) অর্থাৎ আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে আমাকে অনুসরণ করার মাধ্যমে আমার সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করো।
অন্যদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পবিত্র ঐ সত্তার সপথ যার হাতে আমার প্রাণ সমর্পিত, তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা ও সকল মানুষ থেকে প্রিয় হবো। (সহীহ বুখারী; হা.নং ১৩, ১৪)
পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয় স্বজন সহ সকল মানুষেক আল্লাহর জন্য ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ। এগুলোই হল বস্তুনিষ্ঠ প্রেম-ভালোবাসা। কিন্তু বর্তমানে প্রেম-ভালোবাসার নামে যা চলে তাকে কোন ক্রমেই প্রেম-ভালোবাসা নামে অভিহিত করা যায় না। কারণ প্রকৃত ভালোবাসার সাথে পাপাচারের সমন্বয় ও সহাবস্থান হতে পারে না। ভালোবাসা হবে নিরেট পূতঃপবিত্র। যাবতীয় পাপাচার থেকে মুক্ত। সুতরাং শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রচলিত প্রেম-ভালোবাসা কোন ক্রমেই বৈধতার পর্যায়ে পড়ে না। কারণ এখানে পর্দা-বিধান লঙ্ঘন, পরনারীর প্রতি আসক্তি, অনর্থক সময় ও অর্থ ব্যয়সহ হাজার রকমের পাপাচারের সংমিশ্রণ ঘটে। ইসলামী শরীয়ত মতে জৈবিক প্রেম-ভালোবাসার একমাত্র সূত্র হল বৈবাহিক বন্ধন। বিবাহপূর্ব নারী-পুরুষের তথাকথিত প্রেম-ভালোবাসাকে ইসলাম আদৌ সমর্থন করে না।
সারকথা, প্রেম ভালোবাসা চার শ্রেণীতে বিভক্ত- (১) ফরয ভালোবাসা, যেমন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা। (২) ওয়াজিব ভালোবাসা, যেমন মাতা-পিতা,স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালোবাসা। (৩) মুস্তাহাব ভালোবাসা, যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি ভালোবাসা। (৪) হারাম বা নিষিদ্ধ ভালোবাসা, যেমন প্রচলিত আবেগী প্রেম-ভালোবাসা। এ জাতীয় আবেগী ভালোবাসা কখনো কুফর পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আবেগী এ কদর্য প্রেম-ভালোবাসার পাপাচার থেকে হিফাযতে রাখুন। (সূত্রঃ সূরা আলে ইমরান- ৩১, সহীহ বুখারী; হা.নং ১৩, ১৪, তাসহীলুল আফহাম ফী হুকমিল ইশকি ওয়ালগরাম; পৃষ্ঠা ২)
দ্বিতীয়ত কুরআন সাক্ষী রেখে আপনারা গোপনে যে বিবাহ করেছেন তা শুদ্ধ হয় নি। কারণ বিবাহের ক্ষেত্রে দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি, বর কণের আন্তরিক সম্মতি, ইজাব কবুল তথা প্রস্তাব প্রদান ও গ্রহণ ও মহর নির্ধারণের কাজগুলো আবশ্যক। উপরন্তু বিবাহের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি সুন্নাহপরিপন্থী কাজ। এতে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে গেলেও তা সুন্নাহপরিপন্থী হয়ে যায়। আর মাতা পিতাকে না জাননোটা অনেক বড় একটি অন্যায় কাজ। শরীয়াতসঙ্গত কোনো কারণ ব্যতিরেকে যদি মাতা পিতাকে না জানিয়ে বিবাহ করে তাদের মনে কষ্ট দেয়া হয় তাহলে কবিরা গুনা হবে। এতে আল্লাহ ভীষণ অসন্তুষ্ট হবেন। উল্লেখ্য, মেয়ে যদি অর্থ, বংশ ইত্যাদিত বিবেচনায় ছেলে থেকে উচ্চ মর্গের হয় তাহলে এ বিবাহের শুদ্ধতা মেয়ের অভিভাবকের সম্মতির উপর নির্ভর করবে। তারা সম্মতি দিলে বিবাহ শুদ্ধ হবে। নতুবা শুদ্ধ হবে না।
বিবাহের ক্ষেত্রে কুরআন কিংবা আল্লাহকে সাক্ষী রাখা বড় গুনাহের কাজ। আর আপনারা বিবাহ বহির্ভূত যে দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয়েছেন তা মহা অন্যায় কাজ হয়েছে। এর জন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজে রত না হওয়ার সংকল্প করে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করা আবশ্যক। এতে আশা করা যায় আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
সব বিষয় বিবেচনা করে এখন আপনার জন্য করণীয় হলো, আপাতত দুজন দুজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, কোনো ধরনের সংযোগ ও সম্পর্ক রক্ষা না করা। আর যদি এটা সম্ভব না হয় তবে মা বাবাকে জানিয়ে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান। আর যদি বিবাহের বিষয়টি এ মুহূর্তে অভিভাবকদের জানানো কোনো ক্রমেই সম্ভব না হয় এবং আপনাদের দুজনের মাঝে অর্থ, বংশ ইত্যাদি দিক থেকে সমতা বজায় থাকে তাহলে বিবাহের শর্ত মেনে গোপনে হলেও বিবাহ করে নেন। গোপনে ও অভিভাবকদেরকে না জানিয়ে বিবাহ করাটা যদিও অন্যায় হবে তবে বিবাহ বিহর্ভূত পাপাচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য এ পন্থা গ্রহণ করতে পারেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy