আমার পাইলস এর সমস্যা আছে। ঘুম কম হলে এই সমস্যা তীব্র হয়। ঘুমে পাকস্থলী ঠিক থাকে এবং হজম শক্তি ঠিক থাকে মর্মে ঘুম যখন পূর্ণ হয়, তখন সমস্যা থাকেনা। রাতে দুধ খাওয়া প্রতিদিন সম্ভব হয়না। আবার দুধ খেলেও ঘুম হয়না। এই সমস্যার জন্য আমি কিছুদিন ঘুমের ঔষধ খেয়ে দেখেছি। এতে ঘুম ভালো হয় এবং পাইলস সমস্যা ততটা থাকেনা। রিভোট্রিল ০.৫, এপিক্লোন. ২ খেয়েছি (এপিক্লোন ক্লোজিপাম এখন খাইনা, দূর্বল হয়ে যাই) । আরো কিছু ঔষধ খেয়েছি কিন্তু অনেক ঔষধই খাবার পর দু একদিনের স্মৃতি ভুলে যাই। এমনিতেই আমার রাগ, বিরক্তি একটু বেশি। সেজন্য ঔষধ খেয়ে আরামদায়ক ঘুম হলে মেজাজ খিটখিটে ভাব থাকে না। নিয়মিত ঔষধ খেয়ে ঘুমালে আমি যদিও ভালো থাকি,  প্রশ্ন হলো এভাবে আমার ওষুধ খাওয়া ঠিক হচ্ছে? অথবা আমি ঘুম পুরোপুরি হবার জন্য এবং পাইলস ও খিটখিটে মেজাজ থেকে মুক্তি পেতে কী করতে পারি। 
3057 views

2 Answers

এভাবে ঘুমের ওষুধ সেবন করা একদম উচিত হয়নি|রেজিস্টার্ড ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবন করা যাবে না|নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ সেবন করলে প্রচুর ক্ষতি হয়ে থাকে| তাই আপনার সমস্যার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন||পাইলসের জন্য রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নিলে উপকৃত হবেন|

3057 views

এভাবে ঘুমের ঔষধ খাওয়া ঠিক নয়। আমাদের দিনে ৭-৮ ঘন্টার টানা ঘুম সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন। তবে সবার ক্ষেত্রে সহজ ঘুমটা হয় না। ঘুম ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হয়। আর ঘুমোর জন্য তাদের ওষুধের প্রয়োজন হয়। ঘুমের ওষুধ মূলত মস্তিষ্কের চাপ হালকা করে আপনাকে ধীরে ধীরে ঘুমতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শে এই ধরণের ওষুধ নেওয়া যেতে পারে।কিন্তু নিয়মমাফিক রোজ ঘুমের ওষুধ খেলে অনেক রকম সমস্যা হতে পারে। কী কী সমস্যা তৈরি হতে পারে সেগুলো আমি লিখছি। ০১. তন্দ্রাচ্ছন্নতা :যদি ভুল সময়ে আপনি ঘুমের ওষুধ খান তাহলে আপনার শরীরে তা প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আগের দিন রাতে আপনি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরেও ভাল ঘুম না হয়, তার প্রভাব পরেরদিন বেলা অবধি থাকতে পারে। কিংবা অনেক রাতে ওষুধ খেলেও পরের দিন সকাল পর্যন্ত তার ০২. ব্যবহারে পরিবর্তন :অনেক সময় ঘুমের ওষুধের নিয়মিত সেবন মানুষের আচার-ব্যবহারে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। মুড সুইং, খিটখিটে মেজাজ প্রভৃতি নানারকমের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ০৩. নির্ভরশীলতা :নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে ওই ধরনের ওষুধে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়, ফলে একটা সময়ের পর ওষুধ শরীরে কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ওষুধের মাত্রা বাড়াতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে তা সত্যিই শরীরের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। ০৪. অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে খারাপ করে :দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে থাকলে তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকেও খারাপ করতে থাকে। শরীরের বর্জ্যও বিনা বাধায় শরীর থেকে বেরতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরকে অসুস্থই করে। ০৫. নেশা :নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে ওষুধের প্রতি একটা আসক্তি তৈরি হয়। ওষুধ ছাড়া ঘুমই হতে চায় না। তাই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কখনওই ঘুমের ওষুধ খাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ০৬. মৃত্যু :অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আবার অনেকসময় অতিরিক্তি ঘুমের ওষুধ খেলে প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে, কোমায় চলে যেতে পারে, স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। ০৭. অবসাদ :ঘুমের ওষুধের কারণে, কারও কারও ক্ষেত্রে, মানসিক রোগের সমস্যা, চণ্ডালে রাগ, হতাশার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। সুতারং, আপনি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঘুমের ঔষধ খান।

3057 views

Related Questions