শরীরের ওজন কী ভাবে কমানো সম্ভব?
2 Answers
পানি : ওজন কমাতে এটি বেশ কার্যকর। শুধু পানি খেতে ভাল না লাগলে অল্প লেবু বা শসা বা টমেটোও যোগ করে নিতে পারেন। এতে বেশী ক্যালরি যোগ হবে না, তবে অন্যরকম ফ্লেভার পাবেন। এ ছাড়া সবজির শরবত পান করতে পারেন। এতে যেমন দরকারি আঁশ থাকে, তেমনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পুষ্টিও পাওয়া যায়। যা শরীরের জ্বালানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, সোডিয়ামও থাকে কম। ফুড প্ল্যানিং এ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের সহযোগী গবেষণা পরিচালক মোস্তফা ফারুক আল বান্না বলেন, ‘চিনিমুক্ত চা, বিশেষ করে সবুজ চা শরীরকে সজীব করে তোলে। এটি শরীরকে খুব তাড়াতাড়ি চাঙা করে, ফলে আপনি পাবেন ঝরঝরে অনুভূতি।’ খাওয়া শুরুর আগে ১/২ গ্লাস পানি খেয়ে নিন। এতে পেট ভর্তি থাকবে। খাবার কম খাবেন, ফলে ওজন কমবে। খাওয়ার মাঝে পানি খাবেন না। এটি হজমে সমস্যা করে। হজম ভাল না হলে ওজন বাড়বে। দ্রুত খাবেন না : আস্তে আস্তে সময় নিয়ে খান। বেশী সময় নিয়ে খেলে ক্ষুধা কমে যায়। ফলে কম খাওয়া হয়। একবারে বেশী খাবেন না। একবারে বেশী খেলে শরীরে দ্রুত চর্বি জমে, কেননা খাবার হজম হয় না ভালভাবে। সারাদিনে অল্প পরিমাণে ৪/৫ বার খান। শ্বেতসার কম খান : কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার অর্থাৎ ভাত/রুটি কম খাবেন। সবজির পরিমাণ বেশী রাখুন। নাস্তার সময় ফল খান, তেলে ভাজা খাবার বাদ দিন। আঁশ জাতীয় খাবার : ফাইবার বা আঁশ বাড়তি খাদ্য উপাদান শুষে নেওয়ার কাজ করে। খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ালে দেহে মেদ জমতে পারে না। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, ভুট্টা ও কমলালেবু জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে। খাদ্য তালিকায় এই ধরনের খাবারের মাত্রা বাড়ান। ডিম খান : প্রতিদিন সকালের নাস্তায় ডিম রাখুন। যা ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী। ডিম প্রোটিনের ভাল একটি উৎস, অনেকটা সময় পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে কম খাওয়া হয়। ভিটামিন ডি : ভিটামিন ডি ওজন কমানোর ভাল উপাদান। সকালের রোদ দেহে ভিটামিন ডি সরবরাহ করে। যা বাড়তি মেদ দূর করতে সাহায্য করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে রোদের আলোয় বের হওয়ার অভ্যাস করুন। ঘুম : ওজন কমানোর জন্য ঘুমের প্রয়োজন অনেক বেশী। বেশী ঘুমালে যেমন ওজন বাড়ে ঠিক তেমনই কম ঘুমালেও ওজন বাড়ে। তাই প্রতিদিন পরিমিত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস ওজন বাড়তে বাধা দেয়। খাওয়ার সময় টিভি দেখা নয় : অনেকেই টিভির সামনে বসে খান যা ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী। টিভির সামনে বসে খাওয়া শুরু করলে কোনো হিসেব থাকে না। এ ছাড়া টিভির সামনে বসে বেশীরভাগ সময় হালকা মেজাজে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হয়। মাংসে সবজি যোগ করুন : কেউ কেউ মাংস রান্না করলে শুধু ভুনা বা ঝোল করেন। মাংসের সঙ্গে সবজি ব্যবহার শুরু করুন। যা মাংসের ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে। স্বাদেও আসে ভিন্নতা।
বাড়তি ওজন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ওজন কমান প্রাকৃতিক নিয়মে। এ নিয়ম স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝুঁকিবিহীন। কয়েকটি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে ওজন কমান আর ঝুঁকিমুক্ত থাকুন বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে।
++ তাজা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি হলো কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য, তাই যাদের ওজন বেশি তাদের বেশি করে এগুলো খাওয়া উচিত।
++ অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করতে হবে। কারণ, লবণ শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
++ দুধযুক্ত খাবার, যেমন :পনির, মাখন—এগুলো পরিহার করতে হবে। কারণ, এগুলো উচ্চ চর্বিযুক্ত। সঙ্গে মাংস ও আমিষজাতীয় খাবারও নির্দিষ্ট পরিমাণে খেতে হবে।
++ উচ্চ শর্করাসমৃদ্ধ খাদ্য, যেমন—চাল, আলু অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হবে, আর গম (আটা) খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
++ মসলাজাতীয় খাবার, যেমন :আদা, দারুচিনি, কালো মরিচ এগুলো প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে। মসলাজাতীয় খাবার হলো ওজন কমানোর কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি।
++ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওজন কমানোর আরেকটি ভালো উপায় হলো মধু খাওয়া। মধু দেহের অতিরিক্ত জমানো চর্বিকে রক্ত চলাচলে পাঠিয়ে শক্তি উত্পাদন করে, যা ব্যবহূত হয় দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে। মধু খাওয়া প্রথমে শুরু করতে পারেন অল্প পরিমাণে, যেমন—এক চামচ বা ১০০ গ্রাম, যা হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে এর সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন।
++ যারা পথ্য নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে চলেন বা দিনের পর দিন উপবাস করেন ওজন কমানোর জন্য, তাদের জন্য মধু ও লেবুর রস খুবই উপকারী।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy