কাযা নামাজ সম্পর্কে জানতে চাই?
আমার কলেজ এ ক্লাস ১:১৫ থেকে শুরু হয় এবং শেষ হয় ৬:০০ কখনও আরো বেশি মাঝে কোনো বিরতি থাকে না।১)আমার ক্লাস যখন শেষ হয় তখন আসর এর ওয়াক্ত পার হয়ে যায় ক্লাস থেকে বের হয়ে কলেজ এর মসজিদে নামাজ পড়ি আমার কাযা নামাজ আদায় হবে?।২)মাঝে মাঝে কলেজ থেকে আসার সময় গাড়িতে মাগরিব এর আযান দিয়ে দেয় আসতে আসতে নামাজ শেষ হয়ে যায় গাড়ি থেকে নেমে বাসায় হেটে আসার সময় রাস্তায় মসজিদে পড়ে নেই আমার নামাজ আদায় হবে?
৩)কোরবানীর ঈদের দিন আপুর সাথে তার বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম বাসায় পৌছে মাগরিব এর আযান দিয়ে দেয়।বাসায় নামাজ পরার অবস্থা না থাকায় এবং মসজিদ দূরে থাকায়(যেতে যেতে নামাজ শেষ হয়ে যেত)নামাজ কাযা করে এশা এর আগে পরি আমার কাযা আদায় হয়েছে?
দয়া করে আমার এই ৩ টি অবস্থা বিবেচনা করে উত্তর দিবেন।
2 Answers
নামাযের জন্য একটি ওয়াক্ত রয়েছে। সেই ওয়াক্ত অনুযায়ী যদি আপনি পড়েন তবে তা কাযা হবে না। যেমন ধরুন, জোহর নামাযের আযান হলো 1 টায়, কিন্তু ওয়াক্ত হয় প্রায় 11:56 তে। শেষ হয় 4:25 (আজকের তারিখ অনুযায়ী) তো আপনি যখনি কোথাও অনিশ্চিত হবেন যে, আমার নামায কাযা হবে, বা আযান পর্যন্ত অপেক্ষা করলে নামায পড়া হবে না বা কাযা হয়ে যাবে তখন আপনি ওয়াক্ত দেখে আযানের আগেই পড়ে নিবেন। আর যদি শুরুতে না পাড়েন তবে ওয়াক্তের শেষ প্রান্তে হলেও পড়ে নিবেন। আর আপনি যদি কলেজে পড়াশুনা করেন তবে, আপনি চাইলেই স্যারকে বলে বা প্রস্রাব ইত্যাদির কথা বলে বের হয়ে নামায আদায় করে নিতে পারেন। সাথে সব সময় একটি বড় রোমাল বা কাপড় রাখবেন যেন তা বিছিয়ে নামায আদায় করে ফেলতে পারেন যে কোন জায়গায় যদি নামায পড়ার মত সুন্দর কোন জায়গা না থাকে। সেটা, কোন জমিতে হোক বা কোন রাস্তা।
প্রতিদিনের নামাযের সঠিক সময় জানতে আপনি এই অ্যাপটি প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিন। লিংকের “ট“ অনুচ্ছেদের ৩ নং অ্যাপটি
আপনার প্রশ্নের
১ নং- কাযা হচ্ছে।
২নং- মাগরিব নামায কাযা হবে না (যদি আযানের প্রায় এক ঘন্টার ভিতরই আদায় করে নেন)
৩নং- মসজিদ দূরে হলে সে হিসাবে আপনাকে আগেই রওনা দেয়া উচিত। তবে যেতে যেতে যদি জামাত শেষ হয়ে যায়, আপনি একাকি পড়ে নিন। ইচ্ছাকৃত ভাবে এশার আগে পড়া ঠিক না। কাযা আদায় মানেই হচ্ছে তা নির্দিষ্ট সময়ে আদায় না করে পরে যে কোন সময় পড়া। সেই হিসাবে অবশ্যই কাযা আদায় হয়েছে।
প্রথমে বলে রাখি,
আছরের ওয়াক্ত সুর্যদয়ের আগ পর্যন্ত থাকে।
মাগরিবের ওয়াক্ত এশার ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত থাকে।
>>>>
নির্দিষ্ট ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায় করলে সেটা কাজা নামাজ বলা হয়না। নির্দিষ্ট ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায় করলে আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
>>>>
যদিও কোনোদিন আছরের নামাজ না পেয়ে থাকেন তাহলে তা সুর্যদয়ের আগে আদায় করলে তা কাজার মধ্যে পরবেনা। তখন আপনার ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
>>>>
যদিও কোনো কারণে, আছরের নামাজ কাজা হয়ে থাকে তাহলে আপনি আছরের নামাজ আগে আদায় করে তারপর মাগরিবের নামাজ আদায় করবেন। যদি এমন হয় যে, কাজা নামাজ পড়তে গিয়ে ওয়াক্তিয়া নামাজ পাবেন না তাহলে ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করে কাজা নামাজ আদায় করবেন।
>>(ফতওয়ায়ে আলমগীরি - ১ম খন্ড- কাজা নামাজ আধ্যায়)
>>>>
শরীয় আইন অনুযায়ী, কাজা নামাজের বিধান হলঃ
যে নামাজ আগে কাজা হয়েছে তা আগে আদায় করে তারপর পরবর্তী নামাজ আদায় করতে হবে। এই যেমন: যদি ফজরের নামাজ কাজা হয় তাহলে তা কাজা আদায় করে তারপর আপনাকে যোহরের নামাজ আদায় করতে হবে। এইভাবে আপনাকে তারতীব বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং তারতীব বজায় রাখা ফরজ বা ওয়াজিব । যদি ৫ ওয়াক্ত বা তার বেশী নামাজ কাজা থাকে তাহলে তারতীবের প্রতি খেয়াল না রাখলেও চলবে। (ফতওয়ায়ে আলমগীরি - ১ম খন্ড)
বিঃদ্রঃ- কাজা নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই যখন খুশি (নিষিদ্ধ সময় বাদে) আদায় করা করা যায়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy