2 Answers

বিষাক্ততা এবং উদ্বায়ী, অপব্যবহারের প্রেক্ষিতে ফরমালিন মানব স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকারক পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ১০ জুন, ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রাম কর্তৃক ফরমালিনকে মানুষের ক্যান্সার রোগ সৃষ্টিতে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানায়।

2976 views

ফরমালিনের ব্যাবহারে কি কি অসুখ বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক ভাবে ফরমালিন যুক্ত ফলমূলসহ অন্যান্য খাবার গ্রহণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, আ্যাজমা, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগের উপদ্রব দেখা দেয় এবং পর্যায় ক্রমে যা দেখা দিয়ে থাকে। ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে– এই রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য। মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটিবাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায় বা কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা সহ শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমিয়ে দিতে পারে । গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে বা প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে। অনেক সময় এ রকম ও দেখা যায়, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, ঘন ঘন চর্মরোগে আক্রান্ত হইতেছেন । অর্থাৎ দীর্ঘ দিন ফরমালিন বা ঐ জাতীয় কেমিক্যাল পদার্থ দীর্ঘদিন যাহারা খেয়ে থাকেন তিনিদের ৮৭% সম্বাভনা আছেই পাকস্থলী, ফুসফুস , শ্বাসনালি, ও অস্থিমজ্জায় ক্যানসারের মত মারাত্মক অসুখ হওয়ার ।"ল্যাব রিসাচ"

2976 views

Related Questions