قَدۡ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوۡلَ ٱلَّتِي تُجَٰدِلُكَ فِي زَوۡجِهَا وَتَشۡتَكِيٓ إِلَى ٱللَّهِ وَٱللَّهُ يَسۡمَعُ تَحَاوُرَكُمَآۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٌ

কাদ ছামি‘আল্লা-হু কাওলাল্লাতী তুজা-দিলুকা ফী ঝাওজিহা-ওয়া তাশতাকীইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ইয়াছমা‘উ তাহা-উরকুমা- ইন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।

আল্লাহ্ আলবৎ তার কথা শুনেছেন যে তার স্বামী সন্বন্ধে তোমার কাছে অনুযোগ করছে আর আল্লাহ্‌র নিকট ফরিয়াদ করছে, আর আল্লাহ্ তোমাদের দুজনের কথোপকথন শুনেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।

ٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَآئِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَٰتِهِمۡۖ إِنۡ أُمَّهَٰتُهُمۡ إِلَّا ٱلَّـٰٓـِٔي وَلَدۡنَهُمۡۚ وَإِنَّهُمۡ لَيَقُولُونَ مُنكَرٗا مِّنَ ٱلۡقَوۡلِ وَزُورٗاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٞ

আল্লাযীনা ইউজা-হিরূনা মিনকুম মিনিছাইহিম মা-হুন্না উম্মাহা-তিহিম ইন উম্মাহাতুহুম ইল্লাল লাঈ ওয়ালাদনাহুম ওয়া ইন্নাহুম লাইয়াকূলূনা মুনকারম মিনাল কাওলি ওয়াঝূর- ওয়া ইন্নাল্লা-হা লা‘আফুওউন গাফূর।

তোমাদের মধ্যের যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে 'যিহার’ করে, -- তারা তাদের মা নয়। তাদের মায়েরা তো শুধু যারা তাদের জন্মদান করেছে তারা বৈ তো নয়। আর তারা তো নিঃসন্দেহ কথা বলছে এক গর্হিত কথা ও একটি ডাহা মিথ্যা। আর নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ নিশ্চিত মার্জনাকারী, পরিত্রাণকারী।

وَٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِن نِّسَآئِهِمۡ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُواْ فَتَحۡرِيرُ رَقَبَةٖ مِّن قَبۡلِ أَن يَتَمَآسَّاۚ ذَٰلِكُمۡ تُوعَظُونَ بِهِۦۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ

ওয়াল্লাযীনা ইউজা-হিরূনা মিন্নিছাইহিম ছু ম্মা ইয়া‘ঊদূ না লিমা-ক-লূফাতাহরীরু রকাবাতিম মিন কাবলি আইঁ ইয়াতামাছছা- যা-লিকুম তূ‘আজূনা বিহী ওয়াল্লাহু বিমা-তা‘মালূনা খাবীর।

আর যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে 'যিহার’ করে, তারপর তারা যা বলেছে তা প্রত্যাহার করে, সেক্ষেত্রে একে-অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসের মুক্তিদান। এইটির দ্বারাই তোমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো। আর তোমরা যা করছ সে-সন্বন্ধে আল্লাহ্ চির- ওয়াকিফহাল।

فَمَن لَّمۡ يَجِدۡ فَصِيَامُ شَهۡرَيۡنِ مُتَتَابِعَيۡنِ مِن قَبۡلِ أَن يَتَمَآسَّاۖ فَمَن لَّمۡ يَسۡتَطِعۡ فَإِطۡعَامُ سِتِّينَ مِسۡكِينٗاۚ ذَٰلِكَ لِتُؤۡمِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۚ وَتِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِۗ وَلِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ

ফামাল্লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মুশাহরইনি মুতাতা-বি‘আইনি মিন কাবলি আইঁ ইয়াতামাছছা- ফামাল্লাম ইয়াছতাতি‘ ফাইত‘আ-মুছিত্তীনা মিছকীনা- যা-লিকা লিতু’মিনূবিল্লাহি ওয়া রছূলিহী ওয়া তিলকা হুদূদুল্লা-হি ওয়া লিল ক-ফিরীনা ‘আযা-বুন আলীম।

কিন্ত যে খোঁজে পায় না, তবে একে-অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে পরপর দুই মাস রোযা রাখা। কিন্ত যে শক্তি রাখে না, তা’হলে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়ানো। এ এজন্য যে তোমরা যেন আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, আর এগুলো হচ্ছে আল্লাহ্‌র বিধি-নিষেধ। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ كُبِتُواْ كَمَا كُبِتَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ وَقَدۡ أَنزَلۡنَآ ءَايَٰتِۭ بَيِّنَٰتٖۚ وَلِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٞ مُّهِينٞ

ইন্নাল্লাযীনা ইউহাদ্দূনাল্লা-হা ওয়া রছূলাহূকুবিতূকামা-কুবিতাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া কাদ আনঝালনাআ-য়া-তিম বাইয়িনা-তিওঁ ওয়ালিলক-ফিরীনা ‘আযা-বুম মুহীন।

নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়ে ছিল তাদের যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী, আর আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করেই দিয়েছি। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

يَوۡمَ يَبۡعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعٗا فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوٓاْۚ أَحۡصَىٰهُ ٱللَّهُ وَنَسُوهُۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدٌ

ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইউনাব্বিউহুম বিমা-‘আমিলূ আহসা-হুল্লা-হু ওয়া নাছূহু ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।

একদিন আল্লাহ্ তাদেরকে একই সঙ্গে উঠিয়ে আনবেন, তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। আল্লাহ্ এর হিসাব রেখেছেন যদিও তারা তা ভুলে গেছে। বস্তুত আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন।

أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۖ مَا يَكُونُ مِن نَّجۡوَىٰ ثَلَٰثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمۡ وَلَا خَمۡسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمۡ وَلَآ أَدۡنَىٰ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكۡثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمۡ أَيۡنَ مَا كَانُواْۖ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُواْ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ

আলাম তার আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মাইয়াকূনুমিন নাজওয়া-ছালা-ছাতিন ইল্লা-হুওয়া র-বি‘উহুম ওয়ালা-খামছাতিন ইল্লাহুওয়া ছা-দিছুহুম ওয়ালাআদনা-মিন যা-লিকা ওয়ালাআকছার ইল্লা-হুওয়া মা‘আহুম আইনা মা-ক-নূ ছু ম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা-‘আমিলূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

তুমি কি লক্ষ্য কর নি যে আল্লাহ্ জানেন যা-কিছু আছে মহাকাশমন্ডলে ও যা-কিছু রয়েছে পৃথিবীতে? তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ-সভা নেই যেখানে তিনি তাদের চতুর্থজন নন, আর পাঁচজনেরও নেই যেখানে তিনি তাদের ষষ্ঠজন নন, আর এর চেয়ে কম হোক অথবা বেশী হোক, সর্বাবস্থায় তিনি তাদের সঙ্গে রয়েছেন যেখানেই তারা থাকুক না কেন। তারপর তিনি কিয়ামতের দিনে তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সব-কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ نُهُواْ عَنِ ٱلنَّجۡوَىٰ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا نُهُواْ عَنۡهُ وَيَتَنَٰجَوۡنَ بِٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِ وَمَعۡصِيَتِ ٱلرَّسُولِۖ وَإِذَا جَآءُوكَ حَيَّوۡكَ بِمَا لَمۡ يُحَيِّكَ بِهِ ٱللَّهُ وَيَقُولُونَ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ لَوۡلَا يُعَذِّبُنَا ٱللَّهُ بِمَا نَقُولُۚ حَسۡبُهُمۡ جَهَنَّمُ يَصۡلَوۡنَهَاۖ فَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ

আলাম তার ইলাল্লাযীনা নুহূ‘আনিন্নাজওয়া-ছু ম্মা ইয়া‘ঊদূ না লিমা-নুহূ ‘আনহু ওয়া ইয়াতানা-জাওনা বিলইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়া মা‘সিয়াতিররছূলি ওয়া ইযাজাঊকা হাইইয়াওকা বিমা-লাম ইউহায়িকা বিহিল্লা-হু ওয়া ইয়াকূলূনা ফী আনফুছিহিম লাওলা-ইউ‘আযযি বুনাল্লা-হু বিমা-নাকূলু হাছবুহুম জাহান্নামু ইয়াসলাওনাহা- ফাবি’ছাল মাসীর।

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যাদের নিষেধ করা হয়েছিল গোপন পরামর্শ-সভা পাততে, তারপর তারা ফিরে গিয়েছিল তাতে যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল? আর তারা সলা-পরামর্শ করছে পাপাচরণে ও শত্রুতায় ও রসূলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণের জন্য, আর যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তারা তোমাকে সম্ভাষণ করে এমনভাবে যেভাবে আল্লাহ্ তোমাকে সম্ভাষণ করেন না। আর তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে -- "কেন আল্লাহ্ আমাদের শাস্তি দেন না আমরা যা বলি সেজন্য?" তাদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট -- তারা তাতেই প্রবেশ করবে, সুতরাং কত নিকৃষ্ট এই গন্তব্যস্থল!

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا تَنَٰجَيۡتُمۡ فَلَا تَتَنَٰجَوۡاْ بِٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِ وَمَعۡصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَتَنَٰجَوۡاْ بِٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-তানা-জাইতুম ফালা-তাতানা-জাও বিল ইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রছূলি ওয়া তানা-জাও বিলবিররি ওয়াত্তাকওয়া- ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযীইলাইহি তুহশারূন।

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমরা কোনো গোপন পরামর্শ-সভা পাতো তখন তোমরা পরামর্শ করো না পাপাচরণ ও শত্রুতা ও রসূলের প্রতি অবাধ্যতার জন্য, বরং তোমরা পরামর্শ করো সৎকর্মের ও ধর্মভীরুতার জন্যে, আর আল্লাহ্‌কে ভয়-ভক্তি করো যাঁর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।

إِنَّمَا ٱلنَّجۡوَىٰ مِنَ ٱلشَّيۡطَٰنِ لِيَحۡزُنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَيۡسَ بِضَآرِّهِمۡ شَيۡـًٔا إِلَّا بِإِذۡنِ ٱللَّهِۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلۡيَتَوَكَّلِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ

ইন্নামান্নাজওয়া-মিনাশশাইতা-নি লিয়াহঝুনাল্লাযীনা আ-মানূওয়া লাইছা বিদারিহিম শাইআন ইল্লা-বিইযনিল্লা -হি ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

নিঃসন্দেহ সলা-পরামর্শ কেবল শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে, যেন সে যন্ত্রণা দিতে পারে তাদের যারা ঈমান এনেছে, বস্তুত তাদের কোনো অনিষ্ট হতে পারে না আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত। কাজেই আল্লাহ্‌র উপরেই তবে নির্ভর করুক বিশ্বাসিগণ।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قِيلَ لَكُمۡ تَفَسَّحُواْ فِي ٱلۡمَجَٰلِسِ فَٱفۡسَحُواْ يَفۡسَحِ ٱللَّهُ لَكُمۡۖ وَإِذَا قِيلَ ٱنشُزُواْ فَٱنشُزُواْ يَرۡفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ دَرَجَٰتٖۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-কীলা লাকুম তাফাছ ছাহূফিল মাজা-লিছি ফাফছাহূ ইয়াফছাহিল্লা-হু লাকুম ওয়া ইযা-কীলানশুঝূফানশুঝূইয়ারফা‘ইল্লা-হুল্লাযীনা আমানূমিনকুম ওয়াল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা দারজা-তিও ওয়াল্লা-হু বিমা- তা‘মালূনা খাবীর।

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমাদের বলা হয় মজলিস-গুলোয় জায়গা করে দাও, তখন জায়গা করে দিয়ো, আল্লাহ্ তোমাদের জন্য জায়গা করে দেবেন। আর যখন বলা হয় উঠে দাঁড়াও, তখন উঠে দাঁড়িয়ো, তোমাদের মধ্যের যারা ঈমান এনেছে ও যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে আল্লাহ্ তাদের স্তরে স্তরে মর্যাদায় উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করছ সে-সন্বন্ধে আল্লাহ্ চির-ওয়াকিফহাল।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نَٰجَيۡتُمُ ٱلرَّسُولَ فَقَدِّمُواْ بَيۡنَ يَدَيۡ نَجۡوَىٰكُمۡ صَدَقَةٗۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ لَّكُمۡ وَأَطۡهَرُۚ فَإِن لَّمۡ تَجِدُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-না-জাইতুমুর রছূলা ফাকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকাতান যা-লিকা খাইরুল্লাকুম ওয়া আতহারু ফাইল্লাম তাজিদূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রহীম।

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন রসূলের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ কর তখন তোমাদের পরামর্শের আগে দান-খয়রাত আগবাড়াবে, এইটি তোমাদের জন্য শ্রেয় ও পবিত্রতর। কিন্ত যদি তোমরা না পাও তবে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

ءَأَشۡفَقۡتُمۡ أَن تُقَدِّمُواْ بَيۡنَ يَدَيۡ نَجۡوَىٰكُمۡ صَدَقَٰتٖۚ فَإِذۡ لَمۡ تَفۡعَلُواْ وَتَابَ ٱللَّهُ عَلَيۡكُمۡ فَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥۚ وَٱللَّهُ خَبِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ

আ আশফাকতুম আন তুকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাক-তিন ফাইযলাম তাফ‘আলূওয়া তা-বাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাআকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাক-তা ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া রছূলাহূ ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

কী! তোমরা কি তোমাদের ব্যক্তিগত পরামর্শের আগে দান-খয়রাত আগবাড়াতে ভয় করছ? সুতরাং যখন তোমরা কর না, আর আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি ফেরেন, তখন নামায কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো, আর আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আজ্ঞাপালন করো। আর তোমরা যা করছ সে-সন্বন্ধে আল্লাহ্ চির-ওয়াকিফহাল।

۞أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ تَوَلَّوۡاْ قَوۡمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مَّا هُم مِّنكُمۡ وَلَا مِنۡهُمۡ وَيَحۡلِفُونَ عَلَى ٱلۡكَذِبِ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ

আলাম তার ইলাল্লাযীনা তাওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম মা-হুম মিনকুম ওয়ালা-মিনহুম ওয়া ইয়াহলিফূনা ‘আলাল কাযিবি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।

তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য কর নি যারা এমন এক জাতির সহিত বন্ধুত্ব পাতে যাদের উপরে আল্লাহ্ রুষ্ট হয়েছেন? তারা তোমাদের দলভুক্ত নয় আর তাদেরও অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তারা জেনে-শুনেই মিথ্যা হলফ করে।

أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمۡ عَذَابٗا شَدِيدًاۖ إِنَّهُمۡ سَآءَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ইন্নাহুম ছাআ মা-ক-নূইয়া‘মালূন।

আল্লাহ্ তাদের জন্য তৈরি করেছেন ভীষণ শাস্তি। বস্তুত তারা যা করে চলেছে তা কত মন্দ!

ٱتَّخَذُوٓاْ أَيۡمَٰنَهُمۡ جُنَّةٗ فَصَدُّواْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ فَلَهُمۡ عَذَابٞ مُّهِينٞ

ইত্তাখাযূআইমা-নাহুম জূন্নাতান ফাসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ফালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।

তারা তাদের শপথগুলোকে আবরণ হিসেবে গ্রহণ করেছে, ফলে তারা আল্লাহ্‌র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

لَّن تُغۡنِيَ عَنۡهُمۡ أَمۡوَٰلُهُمۡ وَلَآ أَوۡلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيۡـًٔاۚ أُوْلَـٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালাআওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআন উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

আল্লাহ্‌র মোকাবিলায় তাদের ধনদৌলত কোনো প্রকারেই তাদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সন্তানসন্ততিও না। এরা হচ্ছে আগুনের অধিবাসী। তারা তাতেই অবস্থান করবে।

يَوۡمَ يَبۡعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعٗا فَيَحۡلِفُونَ لَهُۥ كَمَا يَحۡلِفُونَ لَكُمۡ وَيَحۡسَبُونَ أَنَّهُمۡ عَلَىٰ شَيۡءٍۚ أَلَآ إِنَّهُمۡ هُمُ ٱلۡكَٰذِبُونَ

ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইয়াহলিফূনা লাহূকামা-ইয়াহলিফূনা লাকুম ওয়া ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ‘আলা-শাইয়িন আলাইন্নাহুম হুমুল ক-যিবূন।

সেইদিন আল্লাহ্ তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে হলফ করবে যেমন তারা তোমাদের কাছে হলফ করছে, আর তারা হিসেব করছে যে তারা নিশ্চয় একটা কিছুতে রয়েছে। তারাই কি স্বয়ং মিথ্যাবাদী নয়?

ٱسۡتَحۡوَذَ عَلَيۡهِمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ فَأَنسَىٰهُمۡ ذِكۡرَ ٱللَّهِۚ أُوْلَـٰٓئِكَ حِزۡبُ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ أَلَآ إِنَّ حِزۡبَ ٱلشَّيۡطَٰنِ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

ইছতাহওয়াযা ‘আলাইহিমুশশাইতা-নুফাআনছা-হুম যিকরল্লা-হি উলাইকা হিঝবুশশাইতা-নি আলাইন্না হিঝবাশশাইতা-নি হুমুল খা-ছিরূন।

শয়তান তাদের উপরে কাবু করে ফেলেছে, সেজন্য সে তাদের আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা ভুলিয়ে দিয়েছে। এরাই হচ্ছে শয়তানের দল। এটি কি নয় যে শয়তানের সাঙ্গোপাঙ্গরা নিজেরাই তো ক্ষতিগ্রস্ত দল?

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُوْلَـٰٓئِكَ فِي ٱلۡأَذَلِّينَ

ইন্নাল্লাযীনা ইউহাদ্দূনাল্লা-হা ওয়া রছূলাহূউলাইকা ফিল আযাল্লীন।

নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্‌র ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তারাই হবে চরম লাঞ্ছিতদের মধ্যেকার।

كَتَبَ ٱللَّهُ لَأَغۡلِبَنَّ أَنَا۠ وَرُسُلِيٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٞ

কাতাবাল্লা-হু লাআগলিবান্না আনা ওয়া রুছুলী ইন্নাল্লা-হা কাবিইয়ুন ‘আঝীঝ।

আল্লাহ্ বিধান করেছেন -- "অবশ্য আমি ও আমার রসূলগণ বিজয়ী হবই।" নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ মহাবলীয়ান, মহাশত্তি শালী।

لَّا تَجِدُ قَوۡمٗا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ يُوَآدُّونَ مَنۡ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوۡ كَانُوٓاْ ءَابَآءَهُمۡ أَوۡ أَبۡنَآءَهُمۡ أَوۡ إِخۡوَٰنَهُمۡ أَوۡ عَشِيرَتَهُمۡۚ أُوْلَـٰٓئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٖ مِّنۡهُۖ وَيُدۡخِلُهُمۡ جَنَّـٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ رَضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُۚ أُوْلَـٰٓئِكَ حِزۡبُ ٱللَّهِۚ أَلَآ إِنَّ حِزۡبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

লা-তাজিদুকাওমাইঁ ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ইউওয়াদ্দূনা মান হাদ্দাল্লা-হা ওয়া রছূলাহূওয়া লাও ক-নূআ-বাআহুম আও আবনাআহুম আও ইখওয়া-নাহুম আও ‘আশীরতাহুম উলাইকা কাতাবা ফী কুলূবিহিমুল ঈমা-না ওয়া আইয়াদাহুম বিরূহিম মিন হু ওয়া ইউদখিলুহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খা-লিদীনা ফীহা- রদিআল্লা-হু ‘আনহুম ওয়ারদূ‘আনহু উলাইকা হিঝবুল্লাহি আলাইন্না হিঝবাল্লা-হি হুমুল মুফলিহূন।

তুমি আল্লাহ্‌তে ও পরকালে বিশ্বাস করে এমন কোনো জাতি পাবে না যারা বন্ধুত্ব পাতছে তাদের সঙ্গে যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করছে। হোক না কেন তারা তাদের পিতা-পিতামহ অথবা তাদের সন্তানসন্ততি অথবা তাদের ভাই-বিরাদর অথবা তাদের আ‌ত্মীয়-স্বজন। এরাই -- এদের অন্তরে তিনি ধর্মবিশ্বাস লিখে দিয়েছেন এবং তাদের বলবৃদ্ধি করেছেন তাঁর কাছ থেকে প্রেরণা দিয়ে। আর তিনি তাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, তাতে তারা থাকবে চিরকাল। আল্লাহ্ তাদের উপরে প্রসন্ন থাকবেন, আর তারাও তাঁর প্রতি প্রসন্ন রইবে। এরাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র দলের। এটি কি নয় যে আল্লাহ্‌র দলীয়রাই তো খোদ সাফল্যপ্রাপ্ত?