إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ كُبِتُواْ كَمَا كُبِتَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ وَقَدۡ أَنزَلۡنَآ ءَايَٰتِۭ بَيِّنَٰتٖۚ وَلِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٞ مُّهِينٞ

ইন্নাল্লাযীনা ইউহাদ্দূনাল্লা-হা ওয়া রছূলাহূকুবিতূকামা-কুবিতাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া কাদ আনঝালনাআ-য়া-তিম বাইয়িনা-তিওঁ ওয়ালিলক-ফিরীনা ‘আযা-বুম মুহীন।উচ্চারণ

যারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে ১৪ তাদেরকে ঠিক সেইভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা হবে যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা হয়েছে। ১৫ আমি পরিষ্কার ও স্পষ্টভাবে সব নির্দেশ নাযিল করেছি। কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানকর শাস্তি। ১৬ তাফহীমুল কুরআন

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হবে, যেমন লাঞ্ছিত হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীগণ। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। কাফেরদের জন্য আছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।মুফতী তাকী উসমানী

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদেরকে অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে; আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেছি; কাফিরদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।মুজিবুর রহমান

যারা আল্লাহর তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে, যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদেরকে অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে; আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেছি; কাফিরদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি- ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে তাদেরকে অপদস্থ করা হবে যেভাবে অপদস্থ করা হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। আর আমি নাযিল করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক আযাব।আল-বায়ান

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে তাদেরকে লাঞ্ছিত করা হবে যেমন লাঞ্ছিত করা হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেছি আর (অস্বীকারকারী) কাফিরদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি,তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়ে ছিল তাদের যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী, আর আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করেই দিয়েছি। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪

বিরোধিতা করার অর্থ হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমরেখা বা বিধি-নিষেধ না মেনে তার পরিবর্তে অন্য কতকগুলো মনগড়া সীমারেখা ও বিধি-নিষেধ নির্ধারণ করা।

ইবনে জারীর তাবারী এ আয়াতের তাফসীর করেছেন এভাবেঃ

اى يخالفون فى حدوده وفرائضه فيجعلون حدودا غير حدوده

“তারা আল্লাহর সীমানা ও তাঁর বিধানসমূহের ব্যাপারে তাঁর বিরোধিতা করে এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমার পরিবর্তে অন্যান্য সীমা নির্ধারণ করে।”

আল্লামা বায়যাবী এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেনঃ

اى يعادونهما ويشاقونهما او يضعون او يختارون حدودا غير حدودهما-

“আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে দুশমনি ও বিবাদে লিপ্ত হয়, অথবা আল্লাহ ও রসূলের নির্ধারিত সীমারেখার পরিবর্তে অন্যান্য সীমারেখা নির্ধারণ করে। অথবা অন্যদের নির্ধারিত সীমারেখাকে মেনে নেয়।”

আল্লামা আলূসী রুহুল মায়ানীতে বায়যাবীর উক্ত তাফসীরের সাথে মতৈক্য প্রকাশ করে শায়খুল ইসলাম সা’দুল্লা চালপীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, “এ আয়াতে সেসব রাজা বাদশাহ ও স্বেচ্চাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে, যারা শরীয়াতের নির্ধারিত আইনবিধির পরপন্থী বহু আইনবিধি প্রবর্তন করেছে এবং তাকে আইন নামে আখ্যায়িত করেছে।” এ প্রসঙ্গে আল্লাম আলূসী শরীয়াতী আইনের মোকাবিলায় মানব রচিত আইনের সাংবিধানিক অসারতা (অর্থাৎ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সাংবিধানিক অসারতা) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেনঃ

“সে ব্যক্তিতো নিঃসন্দেহে কাফের, যে মানব রচিত আইনকে উত্তম ও শরীয়াতের চেয়ে ভালো বলে আখ্যায়িত করে এবং বলে যে, এ আইন অপেক্ষাকৃত বিজ্ঞজনোচিত ও জাতির জন্য অধিকতর উপযোগী। অধিকন্তু তাকে যখন কোন ব্যাপারে বলা হয় যে, শরীয়াতের আদেশ এ ব্যাপারে এরূপ তখন সে রাগে ফেটে পড়ে। এ ধরনের চরিত্র সম্পন্ন কিছু লোক আমরা দেখেছি, যাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ পড়েছে।”

১৫

মূল আয়াতে ব্যবহৃত শব্দটি হচ্ছে كبت অর্থ হচ্ছে লাঞ্ছিত করা, ধ্বংস করা। অভিসম্পাত দেয়া, দরবার থেকে বিতাড়িত করা, ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া, অপমানিত করা। আল্লাহর এ উক্তির মর্মার্থ এই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা এবং তাঁর আইন লংঘনের যে পরিণতি পূর্ববর্তী নবীগণের উম্মতেরা ভোগ করেছে, আজকের মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা সে আচরণ করবে তারা সে পরিণতি থেকে কোনমতেই রক্ষা পাবে না। তারাও যখন আল্লাহর শরীয়াতের বিরুদ্ধে নিজেদের মনগড়া আইন অনুসরণ করেছে অথবা অন্যদের কাছ থেকে মানব রচিত আইন গ্রহণ করেছে, তখন তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও অনুকম্পা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অধিকন্তু এর ফলে তাদের জীবন এমন সব বিভ্রান্তি, অনাচার এবং নৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অপকীর্তি ও পাপাচারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে যে, দুনিয়ার জীবনেই তারা চরম লাঞ্ছনা গাঞ্জনার শিকার হয়েছে। উম্মাতে মুহাম্মাদী যদি আজ এই একই ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়, তাহলেও তারা আল্লাহর প্রিয়ই থাকবে এবং আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছনা গাঞ্জনার গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতেই থাকবেন---এর কোনই কারণ নেই। পূর্ববর্তী রসূলগণের উম্মাতদের সাথেও আল্লাহর কোন শত্রুতা ছিল না, আর শেষ নবীর উম্মতের সাথেও আল্লাহর কোন বিশেষ আত্মীয়তা নেই।

১৬

বাক্যের প্রেক্ষিতে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে বুঝা যায় যে, এখানে এ আচরণের দুটো শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে অবমাননা ও লাঞ্ছনা---যার শিকার এ দুনিয়াতেই হতে হয়েছে এবং হতে হবে। অপরটি হচ্ছে অপমানজনক আযাব---যা আখেরাতে ভোগ করতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫. নিশ্চয় যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তাদেরকে অপদস্থ করা হবে যেমন অপদস্থ করা হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে;(১) আর আমরা সুস্পষ্ট আয়াত নাযিল করেছি; আর কাফিরদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি—

(১) মূল আয়াতে ব্যবহৃত শব্দটি হচ্ছে كُبِتُوا এর অর্থ হচ্ছে লাঞ্ছিত করা, ধ্বংস করা, অভিসম্পাত দেয়া, দরবার থেকে বিতাড়িত করা, ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া, অপমানিত করা। (ইবন কাসীর, বাগভী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদেরকে অপদস্থ করা হবে,(1) যেমন অপদস্থ করা হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে।(2) অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।

(1) كُبِتُوا কর্মবাচ্যসূচক ক্রিয়াপদ। ভবিষ্যতে ঘটবে এমন ঘটনাবলীকে অতীত কালের ক্রিয়া দ্বারা বর্ণনা করে এ কথা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, তার ঘটা ও বাস্তবায়ন এত সুনিশ্চিত যে, যেন তা হয়েই গেছে। বাস্তবে হলও তাই। মক্কার এই মুশরিকরা বদরের দিন লাঞ্ছিত হল। কিছুকে হত্যা এবং কিছুকে বন্দী করা হল। মুসলিমরা তাদের উপর জয়লাভ করলেন। মুসলিমদের বিজয়ই ছিল তাদের জন্য বড় লাঞ্ছনাদায়ক ব্যাপার।

(2) অর্থাৎ অতীতের উম্মতদেরকে এই বিরোধিতার কারণেই অপদস্থ, লাঞ্ছিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।