يَوۡمَ يَبۡعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعٗا فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوٓاْۚ أَحۡصَىٰهُ ٱللَّهُ وَنَسُوهُۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدٌ

ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইউনাব্বিউহুম বিমা-‘আমিলূ আহসা-হুল্লা-হু ওয়া নাছূহু ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।উচ্চারণ

(এই অপমানকর শাস্তি হবে) সেই দিন যেদিন আল্লাহ‌ তাদের সবাইকে জীবিত করে উঠাবেন এবং তারা কি কাজ করে এসেছে তা জানিয়ে দেবেন। তারা ভুলে গিয়েছে কিন্তু আল্লাহ‌ তাদের সব কৃতকর্ম সযত্নে সংরক্ষণ করেছেন। ১৭ আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বাধিক অবহিত। তাফহীমুল কুরআন

সেই দিন, যে দিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনর্জীবিত করবেন, তারপর তারা যা-কিছু করত সে সম্বন্ধে তাদেরকে অবহিত করবেন। আল্লাহ তা গুণে গুণে সংরক্ষণ করেছেন। আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী।মুফতী তাকী উসমানী

সেদিন, যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে একত্রে পুনরুত্থিত করবেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত; আল্লাহ উহার হিসাব রেখেছেন, যদিও তারা তা বিস্মৃত হয়েছে। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।মুজিবুর রহমান

সেদিন স্মরণীয়; যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত। আল্লাহ তার হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহর সামনে উপস্থিত আছে সব বস্তুই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেদিন, যেদিন এদের সকলকে একত্রে উত্থিত করা হবে এবং এদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে যা এরা করত; আল্লাহ্ এর হিসেব রেখেছেন, আর এরা তা বিস্মৃত হয়েছে। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে দিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুজ্জীবিত করে উঠাবেন অতঃপর তারা যে আমল করেছিল তা তাদেরকে জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা হিসাব করে রেখেছেন যদিও তারা তা ভুলে গেছে। আর আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।আল-বায়ান

সেদিন, যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে আবার জীবিত করে উঠাবেন এবং তাদের কৃতকর্মের সংবাদ তাদেরকে জানিয়ে দিবেন, আল্লাহ তা হিসেব করে রেখেছেন যদিও তারা (নিজেরা) ভুলে গেছে। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী।তাইসিরুল

একদিন আল্লাহ্ তাদেরকে একই সঙ্গে উঠিয়ে আনবেন, তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন কি তারা করেছিল। আল্লাহ্ এর হিসাব রেখেছেন যদিও তারা তা ভুলে গেছে। বস্তুত আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৭

অর্থাৎ তারা ভুলে গেছে বলেই ব্যাপারটা মিটে যায়নি। আল্লাহর অবাধ্যতা ও তাঁর বিধানের বিরুদ্ধাচরণ তাদের কাছে এমন মামুলী বিষয় বিবেচিত হতে পারে যা করে তারা মনেও রাখে না এমনকি তাদের আদৌ কোন আপত্তিকর জিনিসই মনে করে না যে, তারা তার কিছুমাত্র পরোয়া করবে। কিন্তু আল্লাহর কাছে তা মোটেই মামুলী জিনিস নয়। তাঁর কাছে তাদের প্রতিটি তৎপরতা নিবন্ধিত হয়ে গেছে। কোন্ ব্যক্তি কখন, কোথায় কি কাজ করেছে তা করার পর নিজের প্রতিক্রিয়া কি ছিল, আর অন্যত্র কোথায় কোথায় তার কি কি ফলাফল কি কি আকারে দেখা দিয়েছে, এই সবই সবিস্তরে তার রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথাকার ইয়াহুদীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। কিন্তু ইয়াহুদীদের অন্তরে মুসলিমদের প্রতি যে হিংসা-বিদ্বেষ বদ্ধমূল ছিল, সে কারণে তারা তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম অপতৎপরতা চালাত ও তাদেরকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করত। মুসলিমদেরকে উত্যক্ত করার একটা কৌশল তাদের এই ছিল যে, মুসলিমদেরকে দেখলেই তারা পরস্পরে এমনভাবে কানাকানি করত ও ইশারা দিত, যা দেখে মুসলিমদের মনে হত তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোন কোন মুনাফেকও এ রকম করত। এতে যেহেতু মুমিনদের কষ্ট হত, তাই তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তারা এরূপ করেই যাচ্ছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. সে দিন, যেদিন আল্লাহ্‌ তাদের সবাইকে পুনরুজ্জীবিত করে উঠাবেন। অতঃপর তারা যা আমল করেছিল তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন; আল্লাহ্‌ তা হিসেব করে রেখেছেন যদিও তারা তা ভুলে গেছে। আর আল্লাহ্‌ সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে একত্রে পুনরুত্থিত করবেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তারা করত; আল্লাহ ওর হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। (1) আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা। (2)

(1) এটা মস্তিষ্কে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান। অর্থাৎ, পাপ এত প্রচুর এবং এত প্রকারের যে, তা গণনা করা বাহ্যিকভাবে অসম্ভব মনে হচ্ছে। মহান আল্লাহ বললেন, তোমাদের জন্য তা অবশ্যই অসম্ভব, বরং তোমাদের তো নিজেদের কৃতকর্মও স্মরণে থাকবে না। কিন্তু আল্লাহর জন্য এটা কোন সমস্যার ব্যাপার নয়। তিনি প্রত্যেকের আমলকে হিসাব করে সুরক্ষিত রেখেছেন।

(2) তাঁর কাছে কোন জিনিস গুপ্ত নয়। পরের আয়াতে এ কথার আরো তাকীদ স্বরূপ বলা হয়েছে যে, তিনি সব কিছুই জানেন।