يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا تَنَٰجَيۡتُمۡ فَلَا تَتَنَٰجَوۡاْ بِٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِ وَمَعۡصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَتَنَٰجَوۡاْ بِٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-তানা-জাইতুম ফালা-তাতানা-জাও বিল ইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রছূলি ওয়া তানা-জাও বিলবিররি ওয়াত্তাকওয়া- ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযীইলাইহি তুহশারূন।উচ্চারণ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন পরস্পরে গোপন আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হও তখন পাপ, জুলুম ও রসূলের অবাধ্যতার কথা বলাবলি করো না, বরং সততা ও আল্লাহভীতির কথাবার্তা বল এবং যে আল্লাহর কাছে হাশরের দিন তোমাদের উপস্থিত হতে হবে, তাঁকে ভয় কর। ২৪ তাফহীমুল কুরআন

হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরে যখন কানে কানে কথা বল, তখন এমন বিষয়ে কানাকানি করবে না, যাতে গুনাহ, সীমালংঘন ও রাসূলের অবাধ্যতা হয়। বরং কানাকানি করবে সৎকর্ম ও তাকওয়া সম্বন্ধে এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার কাছে তোমাদেরকে একত্র করে নিয়ে যাওয়া হবে।মুফতী তাকী উসমানী

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, সেই পরামর্শ যেন পাপাচরণ, সীমা লংঘন ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে না হয়। কল্যাণকর কাজ ও তাকওয়া অবলম্বনের পরামর্শ কর এবং ভয় কর আল্লাহকে যাঁর নিকট তোমরা সমবেত হবে।মুজিবুর রহমান

মুমিনগণ, তোমরা যখন কানাকানি কর, তখন পাপাচার, সীমালংঘন ও রসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে কানাকানি করো না বরং অনুগ্রহ ও খোদাভীতির ব্যাপারে কানাকানি করো। আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর কাছে তোমরা একত্রিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, সে পরামর্শ যেন পাপাচরণ, সীমালংঘন ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে না হয়। তোমরা কল্যাণকর কাজ ও তাক্ওয়া অবলম্বনের পরামর্শ কর, এবং ভয় কর আল্লাহ্কে যাঁহার নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মুমিনগণ, তোমরা যখন গোপনে পরামর্শ করবে তখন তোমরা যেন গুনাহ, সীমালঙ্ঘন ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণের ব্যাপারে গোপন পরামর্শ না কর। আর তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার বিষয়ে গোপন পরামর্শ কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।আল-বায়ান

হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, তখন পাপাচার, সীমালঙ্ঘন আর রসূলকে অমান্য করার পরামর্শ কর না। তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়া অবলম্বনের ব্যাপারে পরামর্শ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যাঁর কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।তাইসিরুল

ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমরা কোনো গোপন পরামর্শ-সভা পাতো তখন তোমরা পরামর্শ করো না পাপাচরণ ও শত্রুতা ও রসূলের প্রতি অবাধ্যতার জন্য, বরং তোমরা পরামর্শ করো সৎকর্মের ও ধর্মভীরুতার জন্যে, আর আল্লাহ্‌কে ভয়-ভক্তি করো যাঁর কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৪

এ বক্তব্য থেকে বুঝা গেল যে, পরস্পর আলাপ-আলোচনা করা মূলত কোন নিষিদ্ধ কাজ নয়। যারা এ ধরনের আলাপ-আলোচনা করে তারা কেমন চরিত্রের লোক, যে পরিবেশ ও পরিস্থিতেতে এরূপ আলোচনা করা হয় তা কি ধরনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি এবং যে কথাবার্তা এভাবে গোপনে অনুষ্ঠিত হয় তা কি ধরনের কথাবার্তা, তার ওপরই এর বৈধতা বা অবৈধতা নির্ভরশীল। সমাজে যাদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা ও নির্মল চরিত্রের সর্বব্যাপী-খ্যাতি ও পরিচিতি বিরাজমান, তারা কোথাও গোপন পরামর্শে লিপ্ত দেখলে কারো মনে এরূপ সন্দেহ জন্মে না যে, তারা কোন দুরভিসন্ধিতে বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে সমাজে যারা অনাচার ও অপকর্মের হোতা এবং দুশ্চরিত্র রূপে খ্যাত, তাদের গোপন সলাপরামর্শ যে কোন মানুষের মনে এরূপ খটকা ও শংকার জন্ম দেয় যে, একটা কিছু গোলযোগ পাকানোর প্রস্তুতি নিশ্চয়ই চলছে। ঘটনাচক্রে কখনো দু’চার ব্যক্তি কোন ব্যাপারে চুপিসারে কিছু আলোচনা সেরে নিলে সেটা কোন আপত্তিকর ব্যাপার হয় না। কিন্তু কিছু লোক যদি নিজেদের একটা আলাদা স্থায়ী দল বানিয়ে নেয় এবং সাধারণ মুসলামানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হরহামেশা গোপন সলাপরামর্শ চালাতে থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই একটা দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ। আর না হোক, এ দ্বারা অন্তত এতটুকু ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী যে এতে মুসলমানদের মধ্য দলাদলির ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। সর্বোপরি, যে জিনিসের ওপর এসব গোপন সলাপরামর্শের বৈধ বা অবৈধ হওয়া নির্ভর করে। তা হচ্ছে এ গোপন সলাপরামর্শের উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু। দুই, ব্যক্তি যদি কোন ঝগড়া বিবাদের মীমাংসা করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে কারো কোন ন্যায্য প্রাপ্য আদায় করিয়ে দেয়ার মানসে অথবা কোন ভালো কাজে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে গোপন আলাপ আলোচনা করে, তবে তা কোন অন্যায় কাজ নয়, বরং তা সওয়াবের কাজ। পক্ষান্তরে একাধিক ব্যক্তির সলাপরামর্শের উদ্দেশ্য যদি হয় কোন গোলযোগ ও নাশকতা সংঘটিত করার চক্রান্ত করা, কারো অধিকর নষ্ট করা কিংবা কোন পাপকাজ সংঘটিত করার ফন্দি আঁটা--তাহলে এরূপ অসদুদ্দেশ্য পোষণ করাটাই যে এক দুষ্কৃতি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই অসদুদ্দেশ্য নিয়ে গোপন সলাপরামর্শ করা দ্বিগুণ পাপ ও দুষ্কৃতি।

এ ব্যাপারে যে মজলিসী রীতিনীতি রসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন তা এই যে,

اذا كنتم ثلاثة فلا يتناجى اثنان دون صاحبهما فان ذالك يحزنه

“যখন তিন ব্যক্তি এক জায়গায় বসা থাকবে, তখন তাদের মধ্য থেকে দু’জনের তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে গোপন সলাপরামর্শ করা উচিত নয়। কেননা, এটা তৃতীয় ব্যক্তির মনোকষ্টের কারণ হবে। (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ)

অপর হাদীসে রসূল ﷺ বলেনঃ

فلا يتناجى اثنان دون الثالث الا باذنه فان ذلك يحزنه

“তৃতীয় ব্যক্তির অনুমতি না নিয়ে তাকে বাদ দিয়ে দু’জনে গোপনে আলোচনা করা চাই না। কারণ সেটা তার জন্য মনোপীড়াদায়ক হবে।” (মুসলিম)

দুই ব্যক্তি যদি তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতিতেই সে বুঝতে পারে না এমন ভাষায় কথা বলে, তাবে সেটাও এ অবৈধ গোপন সংলাপের আওতায় আসে। এর চেয়েও জঘন্য অবৈধ কাজ--হলো গোপন সংলাপের সময় কারো দিকে এমনভাবে তাকানো বা ইশারা করা, যাতে বুঝা যায় যে, তাকে নিয়েই তাদের কথাবার্তা চলছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৯. হে মুমিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ করবে তখন সে গোপন পরামর্শ যেন পাপাচরণ, সীমালঙ্ঘন ও রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে না কর।(১) আর তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়া অবলম্বনের পরামর্শ করো। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর যার কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।

(১) এ ব্যাপারে যে মজলিসী রীতিনীতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন তা এই যে, “যখন তিন ব্যক্তি এক জায়গায় বসা থাকবে, তখন তাদের মধ্য থেকে দু’জনের তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে গোপন সলা পরামর্শ করা উচিত নয়। কেননা, এটা তৃতীয় ব্যক্তির মনোকষ্টের কারণ হবে।” (বুখারী: ৬২৮৮, মুসলিম: ২১৮৩, মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩৭৫)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯) হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, সে পরামর্শ যেন পাপাচরণ, সীমালংঘন ও রসূলের বিরুদ্ধাচরণ সম্পর্কে না হয়।(1) তোমরা কল্যাণমূলক কাজ ও আল্লাহভীরুতা অবলম্বনের পরামর্শ কর।(2) আর সেই আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নিকট তোমরা সমবেত হবে।

(1) যেমন ইয়াহুদী এবং মুনাফিকদের স্বভাব। এটা ঈমানদারদেরকে তরবিয়ত দান ও তাঁদের চরিত্র গঠনের জন্য বলা হচ্ছে যে, যদি তোমরা তোমাদের ঈমানের দাবীতে সত্য হও, তাহলে তোমাদের কানাকানি ইয়াহুদী এবং মুনাফিকদের মত পাপ ও অন্যায়ের জন্য হওয়া উচিত নয়।

(2) অর্থাৎ, যে কাজে মঙ্গলই মঙ্গল আছে, যার বুনিয়াদ হয় আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের উপর। কেননা, এটাই হল কল্যাণমূলক ও আল্লাহভীরুতার কাজ।