ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইয়াহলিফূনা লাহূকামা-ইয়াহলিফূনা লাকুম ওয়া ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ‘আলা-শাইয়িন আলাইন্নাহুম হুমুল ক-যিবূন।উচ্চারণ
যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে জীবিত করে উঠাবেন সেদিন তাঁর সামনেও তারা ঠিক সেভাবে কসম করবে যেমন তোমাদের সামনে কসম করে থাকে ৩৫ এবং মনে করবে এভাবে তাদের কিছু কাজ অন্তত হবে। ভাল করে জেনে রাখো, তারা যারপরনাই মিথ্যাবাদী। তাফহীমুল কুরআন
যে দিন আল্লাহ তাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন, সে দিন তাঁর সামনেও তারা এভাবে কসম করবে, যেমন তোমাদের সামনে কসম করে। তারা মনে করবে কোন (উপকারী) জিনিস পেয়ে গেছে। #%১৩%# মনে রেখ, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।মুফতী তাকী উসমানী
যেদিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সকলকে, তখন তারা তাঁর (আল্লাহর) নিকট সেরূপ শপথ করবে যেরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং তারা মনে করে যে, এতে তারা উপকৃত হবে। সাবধান! তারাইতো মিথ্যাবাদী।মুজিবুর রহমান
যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন। অতঃপর তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে, যেমন তোমাদের সামনে শপথ করে। তারা মনে করবে যে, তারা কিছু সৎপথে আছে। সাবধান, তারাই তো আসল মিথ্যাবাদী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে দিন আল্লাহ্ পুনরুত্থিত করবেন এদের সকলকে, তখন এরা আল্লাহ্ র নিকট সেরূপ শপথ করবে যেরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং এরা মনে করে যে, এতে এরা ভাল কিছুর ওপর রয়েছে। সাবধান! এরাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা আল্লাহর নিকট এমন কসম করবে যেমন কসম তোমাদের নিকট করে থাকে এবং তারা মনে করে যে, তারা কোন কিছুর উপর আছে। জেনে রাখ, নিশ্চয় এরা মিথ্যাবাদী।আল-বায়ান
আল্লাহ যেদিন তাদের সবাইকে আবার জীবিত করে উঠাবেন, তখন তারা আল্লাহর কাছে ঠিক সে রকম শপথই করবে, যেমন শপথ তারা তোমাদের নিকট করে, আর তারা মনে করে যে, তাদের কিছু (কোন ভিত্তি) আছে। জেনে রেখ, তারা খুবই মিথ্যেবাদী।তাইসিরুল
সেইদিন আল্লাহ্ তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে হলফ করবে যেমন তারা তোমাদের কাছে হলফ করছে, আর তারা হিসেব করছে যে তারা নিশ্চয় একটা কিছুতে রয়েছে। তারাই কি স্বয়ং মিথ্যাবাদী নয়?মাওলানা জহুরুল হক
৩৫
অর্থাৎ তারা শুধু দুনিয়াতেই এবং শুধু মানুষের সামনেই মিথ্যা মিথ্যা শপথ করে না। আখেরাতে আল্লাহ তা’আলার সামনেও তারা মিথ্যা শপথ করা থেকে বিরত হবে না। মিথ্যা এবং প্রতারণা তাদের মনের এত গভীরে স্থান করে নিয়েছে যে, মৃত্যুর পরও এরা তা থেকে মুক্ত হতে পারবে না।
অর্থাৎ দুনিয়ায় যেমন মিথ্যা কসম দ্বারা উপকার লাভ করেছে, নিজেদেরকে কতল থেকে রক্ষা করে ফেলেছে, মনে করবে আখিরাতেও সে রকম মিথ্যা কসম করে বেঁচে যাবে, কি করে বাঁচতে পারবে, যখন আল্লাহ তাআলা আলেমুল-গায়েব। মনের গুপ্ত কুফরী তিনি ঠিকই জানেন। কিন্তু মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এই সোজা কথাটাও তাদের মাথায় আসবে না। ফলে আল্লাহ তাআলাকে মানুষের কাতারে ফেলে মনে করবে মিথ্যা কসম দ্বারা সেখানেও উপকার পেয়ে যাবে। -অনুবাদক
১৮. যে দিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সবাইকে, তখন তারা আল্লাহর কাছে সেরূপ শপথ করবে যেরূপ শপথ তোমাদের কাছে করে এবং তারা মনে করে যে, এতে তারা ভাল কিছুর উপর রয়েছে। সাবধান! তারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।(১)
(১) কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, এই আয়াত এক মুনাফিক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সাথে বসা ছিলেন, এমন সময় তিনি বললেনঃ এখন তোমাদের কাছে এক ব্যক্তি আগমন করবে। তার অন্তর নিষ্ঠুর এবং সে শয়তানের চোখে দেখে। এর কিছুক্ষণ পরই এক মুনাফিক আগমন করল। তার চক্ষু ছিল নীলাভ; দেহাবয়ব বেঁটে গোধুম বৰ্ণ এবং সে ছিল হালকা শ্মশ্ৰূমণ্ডিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি এবং তোমার সঙ্গীরা আমাকে গালি দেয় কেন? সে শপথ করে বললঃ আমি এরূপ করিনি। এরপর সে তার সঙ্গীদেরকেই ডেকে আনল এবং তারাও মিছেমিছি শপথ করল। আল্লাহ তা’আলা এই আয়াতে তাদের মিথ্যাচার প্রকাশ করে দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১/২৪০, ২৬৭, ৩৫০)
(১৮) যেদিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সকলকে, সেদিন তারা তাঁর নিকট সেইরূপ শপথ করবে, যেরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে(1) এবং তারা মনে করবে যে, তারা কোন (দলীলের) উপর প্রতিষ্ঠিত।(2) জেনে রেখো যে, নিশ্চয় তারাই হল মিথ্যাবাদী।
(1) অর্থাৎ, তারা এত বড় হতভাগা ও কঠোর-হৃদয় যে, কিয়ামতের দিন যেখানে কোন জিনিস গুপ্ত থাকবে না, সেখানেও আল্লাহর সামনে মিথ্যা কসম খাওয়ার লজ্জাহীন দুঃসাহস প্রদর্শন করবে।
(2) অর্থাৎ, যেভাবে তারা মিথ্যা কসম খেয়ে দুনিয়াতে সাময়িকভাবে কিছু উপকৃত হয়েছে, সেখানেও মনে করবে যে, তাদের এই মিথ্যা কসমগুলো তাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে।