6 Answers
আপনি বিস্ময়ের এই দুটি উত্তর দেখুন https://www.bissoy.com/qa/147786/ https://www.bissoy.com/qa/176757/
হাতের লেখা ‘সুন্দর’ করার সহজ উপায়: সত্য বলতে, হাতের লেখা ‘সুন্দর’ বা ভালো করা মোটেও কোন কঠিন কাজ নয়। হাতের লেখা ‘সুন্দর’ করতে মূলতঃ যে তিনটি বিষয় প্রয়োজন সেগুলো হলো: ১.‘সুন্দর’ করে লেখার বিষয়ে নিজের আগ্রহ বা ইচ্ছে থাকা, ২. হাতের লেখা ‘সুন্দর’ করার সঠিক ও সহজ কৌশল বা উপায় জানা, ও ৩. নিয়মিত হাতের লেখার চর্চা করা। হাতের লেখার মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষের মনোযোগ, স্থিরতা ও চিন্তা করার ক্ষমতা। ‘সুন্দর’ হাতের লেখার প্রশংসা সবাই করে। আর হাতের লেখা ‘সুন্দর’ হলে পরীক্ষায়ও ভালো নম্বর পাওয়া যায়। নীচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে হাতের লেখা অবশ্যই ‘সুন্দর’ হবে। • প্রতিটি অক্ষর বা বর্ণ স্পস্ট হতে হবে, যাতে আলাদা-আলাদা ভাবে বোঝা যায় যে, ঠিক কোন অক্ষর লেখা হয়েছে। বাংলা লেখার ক্ষেত্রে, মাত্রার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। ইংরেজির ক্ষেত্রে ‘ক্যপিটাল’ ও ‘স্মল’ লেটার সঠিকভাবে লিখতে হবে। • লেখার স্টাইল বা ধরণ (যেমন, সোজা/খাড়া বা বাঁকা/কাত) যে রকমই হোক না কেন, অক্ষরগুলোর আকার ও আকৃতি একই রকম হতে হবে। অক্ষর ছোট-বড় বা মোটা-চিকন করা যাবে না। • এমন কিছু অক্ষর আছে যেগুলো সঠিকভাবে লিখতে পারলে অন্য অনেক অক্ষরও ভালো ভাবে লেখা যায়। যেমন, ‘ব’ সুন্দর করে লিখতে পারলে আরো লেখা যায় ‘ক’ ‘র’ ‘ধ’ ‘ঝ’ বা ‘ঋ’। আবার কিছু অক্ষর-এর অংশ বিশেষ ব্যবহার করা যায় অন্য অক্ষর-এর মধ্যে। • শব্দ লেখার ক্ষত্রে, অক্ষরগুলোর মধ্যে কম কিন্তু সমান দূরত্ব রাখতে হবে। প্রতিটি শব্দের মধ্যে কমপক্ষে একটি অক্ষরের পরিমাণ দূরত্ব থাকতে হবে। • অবশ্যই লাইন সোজা হতে হবে। লাইন সোজা করতে শুরুতে দাগ টানা খাতায় লেখা চর্চা করা যেতে পারে। • লেখার কগজের বামে, ডানে, উপরে ও নীচে সঠিক মার্জিন রাখতে হবে। প্রয়োজনে, ভাঁজ করা অথবা দাগ টেনে নেওয়া যেতে পারে। • কোনো শব্দ বা লাইন ভুল হলে তা এক দাগে কেটে দিতে হবে। বেশী কাটাকাটি করা যাবে না। • দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, ‘আ’কার-‘ই’কার ইত্যাদি ছোট ছোট অংশের প্রতি নজর দিতে হবে। বিন্দু বা গোল চিহ্ন-গুলো সঠিকভাবে গোল করতে হবে। খেলাধুলা বা পড়ালেখার মত, হাতের লেখা ভালো করার ক্ষেত্রে নিয়মিত চর্চার বিকল্প নেই। প্রথমে আস্তে আস্তে ভালো করে লিখতে হবে। পরবর্তীতে দ্রুত লিখলেও লেখা ভালো হবে।
একই স্টাইলের লিখবেন, এবং লাইন সোজা রাখবেন, একটা বাক্য লিখে কিছুটা ফাক দিবেন, মনোবলের সহিত লিখতে বসবেন, বেশি বেশি লিখে পড়ার অভ্যাস করবেন। এভাবেই কিছুদিন পর পরিবর্তন, আপনি নিজেই পরীক্ষা করে দেখবেন, কি করলে লেখাটা আরো ভালো হতো, সেটা আয়ত্ব করবেন।
কিভাবে হাতের লেখা সুন্দর করা যায়? খুব সহজ করে বলতে গেলে হাতের লেখা সুন্দর করা মোটেও কঠিন নয়। কয়েকটা ধাপে কিছু সময় অনুশীলন করলেই এর অনেক ভাল ফল পাওয়া যাবে। নিশ্চিত। ধাপসমুহ আমি নিচে বিস্তারিত বর্ননা করছি… বর্নমালা অনুশীলনঃ আপনি প্রতিটি বর্ন কিভাবে লিখবেন তা আপনাকে প্রথমেই সিলেক্ট করে নিতে হবে। আপনারা হয়ত দেখেছেন কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডট পদ্ধতি কিংবা বর্ন দেখে তার পাশে বর্ন লেখা পদ্ধতিতে হাতের লেখা অনুশীলন করানো হয়। এই পদ্ধতিটি অনেক কার্যকরি। আপনি যদি একটি বর্ন সুন্দর করে দ্রুত লিখতে পারেন তবেই আপনি সুন্দর লেখা লিখতে পারবেন। যদি বর্ন দেখে বর্ন লেখার ক্ষেত্রে অক্ষরগুলো আঁকাবাকা কিংবা খুব বেশি হেলে দুলে যায় তবে ডট পদ্ধতি আবশ্যক। হাতের লেখা সুন্দর করা নিয়মের একটা রুপ মাত্র। সোজা করে লেখা অনুশীলনঃ লেখা যদি সোজা না হয় তবে অনেক সমস্যা। একটি লেখা দেখতে সুন্দর দেখায় তখনি যখন সব লেখাগুলো সোজা সাজানো থাকে। বর্ন সোজা করার জন্য নিয়মিত ডট পদ্ধতি অনুশীলন করতে হবে। আর লাইন সোজা করার জন্য রুলার কিংবা রুল পেপারে লিখতে হবে। ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই রুল পেপারে লিখে অনুশীলন করতে হবে। নিয়মিত লেখা অনুশীলনঃ এলোমেলো কোন কিছু নয়, চাই নিয়মিত। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় থাকতে হবে লেখা অনুশীলনের। এই কাজ খুব মনোযোগ আর ধৈর্যের সাথে করতে হবে। প্রতিদিন দশপাতা লিখলে অনেক সহায়ক হতে পারে। স্পষ্ট অক্ষরে লেখাঃ বর্নমালা অনুশীলনের উদ্দ্যেশ্যই ছিল স্পষ্ট লেখা। যদিও অনেকেই দ্রুত লিখতে গিয়ে বর্নকে বিকৃত রুপে উপস্থাপন করেন। তাই যদি কোন বর্ন কেউ না বুঝতে পারে তবে তার প্রতি জোর দিন। যার লেখা যত দ্রুত পড়া যায় (লেখক ব্যতিত অন্য কেউ পড়তে হবে) তার লেখার মুল্য তত বেশি। তাই লেখার মুল উদ্দ্যশ্য যখন অন্যকে দিয়ে পড়ানো তখন পাঠকের কথাই মাথায় রাখবেন। স্পষ্ট করে লিখবেন। মনোযোগী হওয়াঃ কি লিখছেন তার দিকে মনোযোগী হতে হবে। আপনি লিখছেন একটি বাক্য। কিন্তু ভুলে যাবেন না আপনি খুব দ্রুত কিছু বর্ন লিখছেন। যখনি বর্ন লিখছেন তখনি আপনাকে আবারো মনে রাখতে হবে আপনি ঠিক কোন কাঠামোর বর্নটি লিখছেন। এই খুটিনাটি বিষয় নিয়েই হচ্ছে আপনার হাতের লেখা সুন্দর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা। সময় ব্যয় এবং টাইম ফ্রেম নির্ধারনঃ আপনি একদিনে হাতের লেখা পাল্টাবেন? পারবেন না। এটা এতটাই সহজ কিছু নয়। এর জন্য আপনাকে একটি টাইম ফ্রেম বেঁধে দিতে হবে। আমি সবসময় নতুনদেরকে একমাস সময় নিতে বলি। এবং প্রতিদিন একঘন্টা। যদি কেউ এর কম সময় দেন এবং পিছিয়ে আসেন তবে তিনি সত্যিই চেষ্টা করেন নি। অনেকের ক্ষেত্রে আর আগেই হয়, কন্তু বেশিরভাগ মানুষ এর চেয়ে বেশি সময় নিয়েছেন। বেশি করে পড়ুন এবং দ্রুত পড়ুনঃ আপনি যখন লিখবেন তখন পড়াটাও জরুরী। তবে নিজের লেখাটাই পড়ুন একটু বেশি। দ্রুত পড়ুন। অন্যকে দিয়েও পড়ান। যদি বেশি করে পড়েন তবে নিজের কোথায় ভুল হচ্ছে তা বুঝতে পারবেন। দ্রুত পড়তে গেলে বুঝতে পারবেন আপনি কোথায় অস্পষ্ট করে লিখেছেন। সহকর্মী কিংবা বন্ধুকে দিয়ে পড়ান। দেখুন তারা দ্রুত পড়তে পারে কি না। যদি পারে তবেই বুঝবেন উন্নতি হচ্ছে। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলুনঃ লেখায় ভুল হয়, এই ভুলের মাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন। কাটাকাটি করা মানুষের অনেক পুরনো অভ্যাস। তাই একটানে কেটে আবার লিখুন। কাগজের একপাশে খালি জায়গা রেখে লেখা শুরু করুন। এই খালি যায়গা হচ্ছে মার্জিন। বাম ডান এবং উপর নিচে যথেষ্ট জায়গা রাখুন। অভার রাইটিং কখনোই করবেন না। এটা বিরক্তিকর। ভাল কলমে লিখুন। খারাপ কলমে দ্রুত লেখা যায় না। আরো অনেক বিষয় আছে যা লিখতে গেলে আপনার নিজে থেকে চলে আসবে। একসময় আপনাকে সুন্দর এবং দ্রুত লেখা দিয়ে কেউ পিছে টানতে পারবে না।
প্রথমত , আপনাকে অন্য যে কোন একজনের হাতের লেখা অনুস্মরন করতে হবে, যার লেখাকে আপনি সুন্দর মনে করেন। এক্ষেত্রে একসাথে একাধিক হাতের সুন্দর লেখা অনুস্মরন করা মোটেও ঠিক না। দ্বিতীয়ত , যাকে অনুস্মরন করবেন তার কাছ থেকে যদি পারা যায় তাহলে সে কিভাবে লেখে সেটা যেনে নিবেন। অবশ্য এটা জানা খুব জরুরী নয়। কেননা অনেকেই এই বিষয়ে সহযোগিতা করতে চায়না।বিশেষ করে সে যদি ছাত্র/ছাত্রী হয়। তৃতীয়ত, একটা ভালো কলম দরকার। এক্ষেত্রে জেলকালির কলম খুবই উপকারি। ঐ কলমটা আপনি আপনার মত করে ঘোরাতে পারবেন। আর সুন্দর করে লিখতে গেলে কলমকে প্রথমে আপনার আয়ত্বে আনতে হবে। চতুর্থত, যদি আপনি জেলকালির কলম ব্যবহার করতে না পারেন এবং নরমাল বলপেন ব্যবহার করেন তবে অপনি নিউজপ্রিন্ট কাগজ ব্যবহার করবেন। এখানেও আপনি কলম আপনার মত ঘোরাতে পারবেন। পঞ্চমত , লেখা প্রশিক্ষনের সময় খুব ধীরে ধীরে লিখবেন এবং ৫/৬ লাইনের একটা প্যারাগ্রাফ বাচাই করবেন। একই লেখা বারবার লেখবেন। চেষ্টা করবেন আগেরটা থেকে পরেরটা আরো সুন্দর করা যায় কিভাবে। মনে রাখবেন লেখা সুন্দর হলেই কিন্তু সব লেখা সুন্দর করে লেখা যায়না। যেমন পরীক্ষার খাতায় কিন্তু আবার সুন্দর করে লিখা যায়না।তবে অন্যের চেয়ে আপনার লেখা সুন্দর হবে এটা নিশ্চিত।
লেখা সুন্দর করার উপায়ঃ- ১. বেশি লেখার অভ্যেস গড়ে তোলা উচিৎ । লিখতে লিখতে এক সময় অসুন্দর লেখাও সুন্দর হয়ে উঠে । ২. লেখার সময় নিরিবিলি পরিবেশ থাকতে হবে । মনোযোগ থাকলে লেখা সুন্দর করার চেস্টা করা যায় । ৩. সুন্দর লেখাকে অনুকরন করা উচিৎ । ৪. বাক্য ও বানান নির্ভুল হওয়া উচিৎ তাতে লেখায় কাটা ছেড়া হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় । ৫. অনেকের লিখতে গেলে লাইন বাকা হয়ে যায় । এধরনের লেখা কখনো সুন্দর দেখায় না । তাই লেখা সোজা করে লিখতে হবে । ৬. হাতের লেখা সুন্দর করতে হলে ছোট বেলাই হচ্ছে আদর্শ সময় । তাই শিশু কাল হতে লেখার চর্চা করানো উচিৎ । ৭. লেখা শুরু করলে প্রথমে লেখা সুন্দর থাকে পরে ধীরে ধীরে লেখা খারাপ হতে থাকে ।তাই লেখার মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে হবে । ৮. হাতের লেখা সুন্দর করতে হলে ছোট বেলা হতেই শিশুদের চিত্র আকা শিখাতে হবে । ৯. কিছুদিন পর পর পূর্বের হাতের লেখার সাথে মিলিয়ে তুলনা করে নিতে হবে ।