2 Answers
সুন্দর বাংলা হাতের লেখা সুন্দর হাতের লেখা একজন মানুষের ব্যত্বিকে ফুটিয়ে তোলার প্রথম ধাপ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে মহামূল্রবান সম্পদ। যেকোন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করার আগে যদি একজিমিনারের মন জয় করতে চাও তাহলে সুন্দর হাতের লেখাই তোমার একমাত্র সম্বল। এটা হল তোমার প্রথম আকর্ষণ। আদর্শ লেখা একটি শিল্প আর এই শিল্পের যথাযথ বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ আমাদের দেশে আছে। বর্ণের সঠিক ব্যবহারঃ বন্ধুরা, আমরা হাতের লেখা সুন্দর করতে চাইলে প্রথমে শিখব বর্ণের সঠিক ব্যবহার। অর্থ্যাৎ বর্ণটির সঠিক আকৃতি কেমন হবে এবং বর্ণটির তৈরীর নিয়মাবলী। বর্ণের তৈরীর নিয়ম যদি সঠিক না হয় তাহলে লেখা দ্রুত হবে না এবং অসুন্দর হয়ে যাবে। বর্ণ ঘন করতে হবেঃ আমরা অনেকে বর্ণ সাজাতে ভূল করি অর্থ্যাৎ বর্ণ আকাবাকা, ঘন, ফাকা, উপর ,নিচ ইত্যাদি ভাবে বসাই কিন্তু এ অভ্যাসটা পরিহার করে একটু খেয়াল করে বর্ণগুলো মাত্রার সাথে সোজা রেখে গায়ে গায়ে সাজাতে হবে তাহলে শব্দটি দেখতে চমৎকার লাগবে। শব্দকে যথাযথ ফাকা রাখতে হবেঃ আমরা কয়েকজন বন্ধুর হাতের লেখা একত্র করলে দেখতে পাব, এক বন্ধু থেকে অন্য বন্ধুর হাতের লেখার শব্দ থেকে শব্দের দুরত্ব কারো কম বা কারো বেশী। এক্ষেত্রে একটা সঠিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বন্ধুরা শব্দ থেকে শব্দের মাঝে ৩বর্ণ পর্যন্ত ফাকা রাখতে পার, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণী বন্ধুরা ২বর্ণ পর্যন্ত ফাকা রাখতে পার, একাদশ থেকে তদুর্ধ বন্ধুরা ১/২বর্ণ ফাকা দিবে। কম লিখে কিভাবে বেশী পেজ ভরাঃ রচনামুলক প্রশ্নের উত্তর যখন আমরা দেই তখন আমাদের অনেকের ধারনা কম লিখে কিভাবে বেশী পেজ দেখানো যায়? সেক্ষেত্রে সব কিছু ঠিক থাকবে শুধু শব্দ থেকে শব্দের মাঝে ফাকা একটু বেশী দিব এবং এক লাইন থেকে অন্য লাইনটিও তুলনামূলক একটু বেশী ফাকা দিব। মূল যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে লেখার স্টাইলটা পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য এফোর সাইজ এর কাগজে লাইন হবে শ্রেণী অনুযায়ী ১০/ ১৪/ ১৮ লাইন। বর্ণ কাটাকাটি না করা ও তার প্রতিকারঃ ভূল বশত আমরা যখন কোন বর্ণ লিখে ফেলি তখন পুনরায় ঐবর্ণটি কাটতে হয় সে ক্ষেত্রে আমরা অনেকে এমনভাবে বর্ণটি কাটি যেন মনে হয় বর্ণটির ওপর একটা বোম্ব ফেলা হয়েছে। একাজটি না করে এক টান দিয়ে বর্ণের মাঝে কেটে দিয়ে শদ্ধ বর্ণটি সামনে থেকে শুরু করব। শব্দ ভূল করলে কেটে দেয়ার নিয়মঃ ভূল করে বা রিভিশন দিতে গিয়ে দেখা গেল শব্দটি ভূল তখন আমরা শব্দের মাঝ বরাবর কেটে দিয়ে উপরে শুদ্ধ শব্দটি লিখে দিব। কয়কবার কাটাকাটি করা ঠিক নয়। এক বা একাধিক লাইন ভূল করলেঃ এক বা একাধিক লাইন ভূল হলে উক্ত লাইন গুলো শব্দের মাঝ বরাবর ঝিকঝাক করে কেটে দিয়ে উপরে ছোট করে লিখে দিতে হবে। উপরে যথাযত জায়গা না থাকলে এ্যারো দিয়ে মার্জিনে গিয়ে উক্ত লাইনগুলো লেখা যেতে পারে। স্টাইল পরিবর্তন না করা ও তার প্রতিকারঃ আমরা যখন বেশী সময়ধরে বা অতি দ্রুত লেখি তখন হাতের লেখা একেবারে বাজে হয়ে যায় বা কেই কেই বলে থাকি লেখা পরিবর্তন হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমাদের জানতে হবে কোন শ্রেণীর জন্য মিনিটে কত শব্দ হওয়া উচিত? আমরা যদি মিনিটে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা, প্রতি মিনিটে-১২টি শব্দ, ৬ষ্ঠ- ১০ শ্রেণী, প্রতি মিনিটে-১৬ শব্দ এবং একাদশ শ্রেণী থেকে তদুর্ধ-১৮-২০ শব্দ লেখার টাইমিং করা থাকে তাহলে পরীক্ষার সময় অতি দ্রুত লেখা বা টেনশনের করার কিছূ নেই। স্বাভাবিক ভাবে লিখলেই সঠিক সময়ে পরীক্ষা শেষ হবে। লাইন সোজা রাখাঃ ”লাইন সোজা হল” সুন্দর হাতের লেখার প্রথম চমক! যে সব বন্ধুদের সব কিছু ঠিক আছে কিন্তু লাইন সোজা রাখতে পারনা সে সব বন্ধুদের জন্য লাইন সোজা করা বহু টিপস আছে তার মধ্যে একটি হলঃ লেখার সময় বাম পাশের মার্জিনের দিকে ও ডান পাশের মাজিনের দিকে বার বার তাকাতে হবে। বর্ণ ছোট-বড় না করাঃ এধরণের সমস্যাটা সাধারনত ছোট্ট বন্ধুদের বেলায় একটু বেশী হয়ে থাকে, চিন্তার কোন কারন নেই বন্ধুরা। এসমস্যা সমাধানের জন্য কয়েক দিন বাংলা লাইন টানা খাতায় বর্ণ বড় বড় করে কিছু দিন লিখলেই ঠিক হয়ে যাবে। মাত্রা থেকে শুরু করা (কিছু বর্ণ ব্যতিত)ঃ বন্ধুরা, আমরা যখন বাংলা লেখা শুরু করব তখন অবশ্যই মাত্রা থেকে শুরু করব কিছু বর্ণ ব্যতিত। মাত্রা বিহীন, অর্ধমাত্রা ও পূর্ণমাত্রা বর্ণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে । মাত্রাবিহীন, অর্ধ ও পূর্ণমাত্রা বর্ণ যদি আমরা না চিনতে পারি তাহলে অর্থ পরিবর্তনসহ হাতের লেখা অসুন্দর হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টিদের পড়তেও অসুবিধা হবে। জারিফ হ্যান্ডরাইটিং বই থেকে এ ব্যাপারে শিখে নিতে পার। দ্রুত লিখতে হবেঃ আমার মনে হয়, সুন্দর হাতের লেখার কোন মূল্য নেই যদি লেখা দ্রুত না হয়। তাই ভাল হোক বা মন্দ হোক সঠিক সমযে লেখা শেষ করতে হবে এটাই আসল কথা, আর এজন্য আমাদের জানতে হবে ১) সহজ সরল স্টাইলে লেখা ২) শ্রেণী ভিত্তিক স্টাইল বাছাই করা ৩) বর্ণের আকৃতি ঠিক রাখা ৪) বর্ণকে সঠিকভাবে তৈরী করা ৫) সঠিক ভাবে কলম ধরা
আপনাকে প্রচুর লিখতে হবে এবং যাঁর হাতের লেখা সুন্দর তার লেখার স্টাইল ফোলো করতে পারেন আশা করি আপনার লেখা ও সুন্দর হবে ইনশা আল্লাহ ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy