1 Answers
১) আলট্রা-সাউন্ড ডায়াগনোসিসঃ বি- টাইপ আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে টিউমারের আকার,আকৃতি, অবস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায় এবং এটি ২ সে.মি. বা তার চেয়েও কম আকৃতির ক্ষতকে সনাক্ত করতে পারে। লিভার ক্যান্সার সনাক্তকরনের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং প্রচলিত একটি পদ্ধতি। ২) রেডিওস্কপিক হেপাটিক স্কানিংঃ লিভারের আকৃতির পরিবর্তন বা কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন থাকলে এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়। কিন্তু ৩ সে.মি. এর চেয়ে ছোট টিউমার হলে এটি তা সনাক্ত করতে পারে না। ৩) সি.টি. চেকঃ এর মাধ্যমে প্রারম্ভিক পর্যায়ের টিউমার এমনকি ১ সে.মি. আকৃতির টিউমারও সনাক্ত করা যায়। ৪) এম.আর.আইঃএর সাহায্যে বিনাইন এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমার সনাক্ত করা যায়। ৫) সিলেকটিভ সেলিয়াক অথবা হেপাটিক আরটেরিওগ্রাফি ঃ ৫ সে.মি. থেকে ১ সে.মি. পর্যন্ত টিউমার এর মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে টিউমারের আকার, আকৃতি, অবস্থান ইত্যাদিও সনাক্ত করা যায়। তবে মূলত ক্যান্সারের ক্ষেত্রে টিউমারের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরিক্ষাঃ লিভার ক্যান্সার নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিম্নক্ত পরীক্ষা গুলো অবশ্যই করাতে হবেঃ ১) লিভার ফাংশন টেস্টঃ পরিণত পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রেই লিভার ফাংকশন এর ড্যামেজ ধরা পড়ে। ২) আলফা-ফটোপ্রোটিন এক্সামিনেশনঃ প্রাইমারি ক্যান্সারের ক্ষেত্রে টিউমারের অবস্থান নিশ্চিত করতে এই পরীক্ষা করা হয়। সুনির্দিষ্ট ভাবে ক্যান্সার সেল সনাক্ত করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি পরীক্ষা। ৩)সেরাম ফেরিটিনঃ প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার সনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় সেরলজিক পরীক্ষা। ৪)লিভার ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায়ঃ লিভার ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে কোন মতৈকে পৌঁছানো যায়নি। উদাহরণস্বরূপ ইউ.এস.এ. লিভার ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণের জন্য টি.এন.এম পদ্ধতি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে “টি” টিউমারের সাইজ “এন” মেটাসটাসিস সিচুয়েশন এবং “এম” ক্যান্সার অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কিনা তা নির্দেশ করে। নিম্নে টি.এন.এম. পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া হলঃ টি ১ এর অর্থ হল টিউমারের সাইজ ২ সে.মি. থেকে ছোট এবং কোন মেটাসটাসিস নেই। টি ২ এর অর্থ হল টিউমারের সাইজ ২ সে.মি. এর চেয়ে ছোট হলেও এটি নিকটস্থ রক্ত-শিরায় প্রবেশ করেছে অথবা সেখানে ২ সে.মি. এর চেয়ে ছোট ক্যান্সারের ২ টি লসিকা গ্রন্থি আছে অথবা ২ সে.মি. এর চেয়ে বড় আকৃতির টিউমার আছে যা রক্তের শিরায় প্রবেশ করেনি। টি ৩ এর অর্থ হল টিউমারটির আকৃতি ২ সে.মি. এর চেয়ে বড় এবং সেটি রক্তের শিরায় প্রবেশ করেছে অথবা সেখানে ক্যান্সারের একাধিক লসিকা গ্রন্থি আছে যাদের আকৃতি ২ সে.মি. এর চেয়ে ছোট এবং এগুলো রক্তের শিরায় প্রবেশ করেছে অথবা সেখানে ২ সে.মি. এর চেয়ে বড় একাধিক টিউমার আছে। টি৪ অর্থ হল লিভার এর উভয় ভাগেই টিউমার আছে এবং টিউমারগুলো লিভারের পোর্টাল ভেইন অতিক্রম করেছে। N0 অর্থ হল লিম্ফ নোডে কোন মেটাসটাসিস নেই। N1 অর্থ হল লিম্ফ নোডে মেটাসটাসিস আছে। M0 এর অর্থ হল আশেপাশে কোন মেটাসটাসিস নেই আর M1 অর্থ হল মেটাসটাসিস আছে। স্টেইজ ১ঃ T1N0MO স্টেইজ ১ এর প্রাথমিক পর্যায়ের রোগী। স্টেইজ ২ঃ T2N0M0 হল স্টেইজ ২ । স্টেইজ ৩ঃ T1N1M0, T2N1M0, T3N1MO হল স্টেইজ ৩। স্টেইজ ৪ঃ T4M0 মানে মেটাসটাসিস ছড়ায়নি। স্টেইজ ৫ঃ T4M1 মানে মেটাসটাসিস ছড়িয়েছে।