অনেক নামাজ কাযা হয়েছে, এগুলো পূরণ করবো কিভাবে?
3 Answers
দীর্ঘ দিনের কাযা সালাত কিভাবে আদায় করা যায় এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে,,,,,, কারন তার জানা অনুযায়ী সে ৫,১০,২০ কিংবা তারও বেশী সময় ধরে আল্লাহ সালাত আদায় করে নি,,,,, এখন কিভাবে তা পুরন করতে পারে যাতে সে নাজাত প্রাপ্ত হয়,,,,,, যদি মনের এ খাছ নিয়ত থাকে তাহলে তার উচিৎ তওবা করে পরিপূর্ণরুপে আল্লাহ রাস্তায় ফিরে আশা, এবং মৃত্যু আগে পর্যন্ত শরিয়তের ওজর ব্যতিত সালাত পরিত্যাগ না করা, আর আল্লাহ তওবা কারীকে ভালোবাসেন,,, আল্লাহ বলেন,,,,,,,,,,,,,,, তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু। (সূরা আল বাকারা আয়াত: ১৬০) আপনি সুন্নাত এবং নফল সালাতও গুরুত্ব সহকারে আদায় করবেন ফরয সালাত ছেড়ে দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না,,, এবং রাতে তাহাজ্জুত সালাত আদায় করার চেষ্টা করবেন,,,, ইনশাঅাল্লাহ নাজাত পেয়ে যাবেন,,,,,
ক্বাদ্বা নামাজে তিন প্রকারঃ-
১.ক্বাদাউত্ তারতীব।
২.ক্বাদ্বাউল মুতলাক।
৩.ক্বাদ্বাউল উমরি।
১. ক্বাদাউত্ তারতীবঃ- কোন ব্যাক্তির ৫ ওয়াক্ত নামাজের মধ্য যে কোন ওয়াক্ত ক্বাদা হলে তাকে ক্বাদাউত্ তারতীব বলে। তারতীবের ক্বাদা আদায় না করে ওয়াক্তের নামাজ পড়লে তা বাতিল হয়ে যাবে। তবে ক্বাদার কথা ভুলে গেলে বা সময় সংকীন যে ক্বাদ্বা আদায় করতে গেলে ওয়াক্তের নামাজ ফউত হয়ে যাবে তাহলে আগে ওয়াক্তের নামাজ পড়া যায়েজ আছে। ( ফতুয়ায় আলমগীরি,শামী,মুহীত,কাজী খান ইত্যাদি কিতাব)
২. ক্বাদ্বাউল মুতলাকঃ- কোন ব্যাক্তির ৬ ওয়াক্ত বা তদুর্ধ ওয়াক্তের নামাজ ক্বাদ্বা হলে তাকে ক্বাদ্বাউল মুতলাক বলে। যেমন কারও যদি এক মাসের নামাজ ক্বাদ্বা হয় তাহলে সে এক মাসের ফজরের নামাজ এক সাথেই আদায় করতে পারবে। অনুরূপ জুহর, আছর, মাগরিব,এশা।
৩. ক্বাদ্বাউল উমরিঃ- কোন ব্যাক্তি বালেগ হওয়ার পর থেকে জীবনের বহু নামাজ ক্বাদ্বা হলে তাকে ক্বাদ্বাউল উমরি বলে।
আপনার ক্ষেএে ৩ নাম্বার টা কার্যকর হবে। ক্বাদ্বাউল উমরি আদায়ের নিয়মঃ-
যে ৫ বৎসর নামাজ 'ফউত' কেরেছেন, সে ৫ বৎসর এর নামাজ উমরী ক্বাদার নিয়ত পরে নিবেন। প্রথমে ৫ বৎসরের ফজরের ফরজ নিয়মিত ভাবে পড়ে নিবেন। তৎপর জুহর, আছর, মাগরিব,এশা,এবং বেতের এহাই সহজ পন্হা। অথবা প্রত্যেক নামাজের সময় মাগরীব নামাজ পরে এবং ফজর নামাজের আগে ও অন্যন্য সকল নামাজের পরে ৫ বছর নিয়মিত ভাবে ক্বাদা নামাজ আদায় করলে ৫ বছরের নামাজ হয়ে যাবে। ( সমুহ হাদীস ও ফিকহার কিতাব)
৩ রাকাত বিশিষ্ট ক্বাদ্বাউল উমরি নামাজ আদায় এর নিয়মঃ- আলমগীরি সহ অসংখ্য কিতাবে লিখিত আছে " বেতের নামাজ ও মাগরিবের নামাজের ক্বাদ্বাউল উমরি আদায় কালে তিন রাকায়াত পড়ে শেষ রাকাআতে তাশাহহুদ দরুদ শরীফ দোয়া মাছুরা পড়ে ছালাম না ফিরিয়ে দাঁরিয়ে যা,, এবং ফতিহা, তারপর কোন সূরা পড়ে রুকু সেজদা যথা নিয়মে করে বসে তাশাহহুদ, দরুদ, ও দোয়া মাছুরা পড়ে ছালাম ফিরে নামাজ শেষ করতে হবে। ( দোররোল মোখতার ১ম খন্ড, তরিকুল ইসলাম ২য় খন্ড, ত্বহাবী, দারেমী, আলমগীরি, শামীসহ অসংখ্য সহীহ হাদীস ও ফতওয়ার কিতাব)
ক্বাদ্বাউল উমরি এর নিয়তঃ-
ফজরের ২ রাকাত - নাওয়াইতুআন উছল্লিয়া লিল্লাহি, তায়া'লা রাকাআতাই ছালাতিল ক্বাদ্বায়িল উমরিয়্যিল ফাজরি ফারদুল্লাহি তায়া'লা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লহু আকবার।
জুহরের- সামনে যা তাই " আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল ক্বাদ্বায়িল উমরিয়্যিজ্জুহরি " পরে যা আছে তাই
মাগরিব- ছালাছা রাকআতি ক্বাদায়িল উ'ম্ রিয়্যিল মাগরিবি।
এশা - ক্বাদ্বায়িল উমরিয়্যিল ইশারি
বেতের - ক্বাদ্বায়িল উমরিয়্যিল য়িত্ রি।