নামাযে সূরা মিলানোর বিষয় টি বুঝতে পারছি না। সূরা মিলানো মানে কি ধরেন প্রথম রাকাতে ৫ আয়াত বিশিষ্ট সূরা পডা এবং দিতীয় রাকাতে ৩ আয়াত বিশিষ্ট সূরা পডা। নাকি কোরান মাজিদের সূরার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী পডা।  ফরজ,সুন্নত ও নফল নামাযে এর নিয়ম গুলো কী?
3079 views

1 Answers

প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ মেলানো।(এটা ওয়াজিব) (বুখারি শরিফ ১/১০৫, হাদিস : ৭৭৬, মুসলিম ১/১৮৫, হাদিস : ৪৫১)

নামাজে তিলাওয়াত করা আবশ্যক।আর তিলাওয়াত হতে হবে বিশুদ্ধ।

আসুন প্রথমে নামাজের কিরাআত তিলাওয়াত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা জেনে নেওয়া যাক -১.ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা/কেরাত মিলাতে হবে। সুরা মিলানো ওয়াজিব।২. কমপক্ষে তিন আয়াত বা তিন আয়াতের সমপরিমাণ বড় এক আয়াত তিলাওয়াত করতে হবে।৩. বিতর, সুন্নাত ও নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রত্যেক রাকাআতেই সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মিলাতে হবে।৪. ফজর, মাগরিব, ইশা, জুমা, বিতর নামাজ জামাআতে পড়া কালীন সময়ে, দুই ঈদের নামাজে সুরা উচ্চ স্বরে তিলাওয়াত করতে হবে।৬. ফজর, মাগরিব ও ইশার নামাজ একাকি আদায় করলেও উচ্চ স্বরে কিরাআত তিলাওয়াত করা উত্তম।৬. সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মিলানোতে প্রত্যেক রাকাআতে আলাদা আলাদা সুরা তিলাওয়াত করা উত্তম।৭. কিরাআত শেষ হওয়ার পূর্বে তিলাওয়াত করতে করতে রুকুতে যাওয়া মাকরুহ।৮. ফরজ নামাজে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের ক্রমধারা ঠিক না রাখা মাকরুহ। ভুলে পড়লে মাকরুহ হবে না। ক্রমধারা অর্থ হচ্ছে- প্রথম রাকাআতে কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়ে দ্বিতীয় রাকাআতে ইন্না আ’ত্বাইনা পড়া।৯. ফরজ নামাজে একই সুরার অনেক আয়াত একত্রে পড়া এবং দু’আয়াতের কম ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে সামনে থেকে পড়া মাকরুহ। আবার কেউ যদি দুই সুরা এভাবে পড়ে যে, মাঝখানে ৩ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা চেড়ে দিয়ে পরবর্তী সুরা পড়ে তবে তা মাকরুহ। যেমন- প্রথম রাকাআতে সুরা মাউন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সুরা কাফিরুন পড়ে মাঝে সুরা কাউছার ছেড়ে দেয় তাহলে মাকরুহ হবে। এ হুকুম ফরজ নামাজের জন্য নফলের জন্য নয়৷ 

সুতরাং আল্লাহ তাআলা নামাজের কিরাআত তিলাওয়াতে সঠিকভাবে তিলাওয়াত করার তাওফিক দান করুন।

কেরাত পড়ার একটা সুন্নত তরিকা আছে,এসম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক!! 

কেরাতের সুন্নত তরীকা হলো,মুকীম ব্যক্তি নিরাপদ ও শান্ত অবস্থায় থাকলে ফজর ও জোহরের নামাজে তেওয়ালে মুফাসসাল পড়বে।

তেওয়ালে মুফাসসাল হচ্ছে সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত সূরা সমূহ। আসর ও এশার নামাজে আউসাতে মুফাসসাল পড়বে।

আউসাতে মুফাসসাল হল, সূরা বুরুজ হতে সূরা বায়্যিনাহ পর্যন্ত সূরা সমূহ।

মাগরিবের নামাজে কেসারে মুফাসসাল পড়বে। আর কেসারে মুফাসসাল হল, সূরা বায়্যিনাহ হতে শেষ অর্থাৎ সূরা নাস পর্যন্ত।

তবে এ নিয়মকে বাধ্যতামূলক করে নেয়া সুন্নত নয়।

কেননা, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু কখনো কখনো ফজরের নামাজে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তেন।

আর কখনো কখনো মাগরিবের নামাজে সূরা তূর, সূরা নাজম, সূরা মুরসালাত ইত্যাদি পড়তেন।

সবশেষে দলিল সহকারে কিছু মাসআলা জেনে নেওয়া যাক! 

কেরাত পড়া (অর্থাৎ কোরআন শরিফ থেকে ন্যূনতম ছোট এক আয়াত পরিমাণ পড়া ফরজ। ) (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ২০; বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, ৬৭, হাদিস : ৩০২, ৩০৩ সহিহ)

প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ মেলানো।(এটা ওয়াজিব) (বুখারি শরিফ ১/১০৫, হাদিস : ৭৭৬, মুসলিম ১/১৮৫, হাদিস : ৪৫১)

ফজরের প্রথম রাকাত দ্বিতীয় রাকাতের চেয়ে লম্বা করা। অন্যান্য ওয়াক্তে উভয় রাকাতে কেরাতের পরিমাণ সমান রাখা উচিত।(এটা সুন্নাত)  (মুসলিম ১/১৮৬, হাদিস : ৪৫১, ৪৫২)

অতএব -আপনার কথা প্রথম রাকাতে ছোট ৫ আয়াত অথবা ৫ আয়াত সমপরিমাণ পড়া ও দ্বিতীয় রাকাতে ছোট ৩ আয়াত বা তিন আয়াত সমপরিমাণ পড়ার কোন দলিল নেই৷ 


3079 views

Related Questions