কবর কী কবরে কিভাবে সওয়াল-জওয়াব হবে কবরের আজাব থেকে বাঁচার উপায় কী?
2 Answers
কবর হলো যেখানে কোন প্রাণীকে পুতে রাখা হয় । মহান রাব্বুল আলামীন মুনকার নাকীর ফেরেশতার মাধ্যমে তিনটি প্রশ্ন করবেন, 1. তোমার রব কে ? 2. তোমার নবী কে ? 3. তোমার ধর্ম কি ? যদি সে বান্দা মুমিন হয়ে থাকে তাহলে সহজেই এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পারবে। আর যদি কাফের হয় তাহলে সে বলবে আমি কিছু জানিনা ।
কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে হলে চারটি বিষয়ের ওপর আমল করতে হবে, আর চারটি কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মানুষের জরুরী।
যে আমল গুলো করতে হবে
ক. সময় মত নামাজ আদায় করতে হবে।
খ. বেশি বেশি সাদকা করতে হবে।
গ. কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে।
ঘ. বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করতে হবে।
যে আমল থেকে বিরত থাকতে হবে
ক. মিথ্যা কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
খ. অপরের সম্পদ তথা পরের হক আত্মসাৎ করা যাবে না।
গ. চোগলখুরী করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঘ. পেশাবের ছিটা হতে বেঁচে থাকতে হবে।
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মদিনা বা মক্কার) কোনো একটি বাগানের পাশদিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তথায় তিনি দু’জন এমন মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাদেরকে আজাব দেয়া হচ্ছে অথচ বড় কোনো অপরাধের কারণে আজাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি বললেন, তাদের একজন পেশাব করার সময় আড়াল করতোনা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগাত। (বুখারি)
কবরের আজাব হতে বাঁচার দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এইগুলো থেকে বাঁচার জন্য ফরয, নফল বা সুন্নত, যে কোনো নামাজে তাশাহুদ ও দুরুদের পরে সালাম ফিরানোর আগে এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন।
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ.
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিন আ’জাবিল ক্বাবরি, ওয়া মিনিআ’জাবি জাহান্নাম, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ’ইয়া-ওয়াল্ মামাতি, ওয়া মিং সাররি ফিতনাতিল্ মাসীহিদ্-দাজ্জাল।
(বুখারি ও মুসলিম)
কবর হচ্ছে মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের পূর্ব সময়কেই বুঝানো হয়,,,, অনেকেই বলে থাকেন মৃত্যুর পর যে স্থানে ব্যাক্তিকে দাফন করা হয় তাকে কবর বলে, কথাটি ভুল, কারন যে ব্যক্তিকে কুমিরে খেয়েছে, যে আগুনে পুরেছে, যে পানিতে ডুবেছে তার কবর কোথায়??? সঠিক আকিদা হলো মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের পূর্ব সময়কেই কবর বলে,,, বান্দার মৃত্যুর পর কবরের জগতে যাওয়ার পর মুনকার নাকিন ফেরেশতা এসে সাওয়াল জওয়াব করবে তিনটি প্রশ্নের 1. তোমার রব কে ? 2. তোমার দ্বীন/ধর্ম কি ? 3. তোমার নবী কে ছিলেন? যারা ফাসেক পাপিষ্ট তারা বলবে আমি কিছুই জানিনা আমি কিছুই জানিনা, তখন তার আযাব শুরু হবে, আর মুমিন বান্দা তার সঠিক জবাব দিতে পারবেন, তখন আল্লাহ বলবেন,,,, ফেরেশতাগন এই বান্দার চক্ষু যতদুর দৃষ্টি যায় তার কবর টা তত প্রসস্থ করে দাও,,, আর বান্দাকে বলা হবে ঘুমিয়ে যাও কিয়ামত পর্যন্ত,,, কবরের আযাব থেকে বাঁচার উপায়,,, যে ব্যক্তি সুরা মুলক পাঠ করবে আল্লাহ তার কবরের আযাব মাফ করবেন,,, অন্য বর্ননায় পাওয়া যায়,, আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা- আয়াত ২৫৫) পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে। অথ্যাৎ কবরের আযাব মাফ হবে, (নাসায়ী)