2 Answers

আসলে মহিলাদের জন্য আযান ও একামত নেই-তারা নিজেরা জামাআতে সালাত আদায় করুক অথবা একাকী করুক। এ ব্যাপারে জুমহুর বা অধিকাংশ আলেম একমত। কারণ এর পক্ষে একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন: আয়েশা রা. বলেন, كنا نصلي بغير إقامة “আমরা একামত ছাড়া নামায আদায় করতাম।” (সুনানে বায়হাকী ২/১১৭) উম্মে ওয়ারাকা বিনতে আব্দুল্লাহ আল হারিস আল আনসারিয়া রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:

كانَ رسولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ علَيهِ وسلَّمَ يَزورُها في بَيتِها ، وجعلَ لَها مؤذِّنًا يؤذِّنُ لَها ، وأمرَها أن تؤمَّ أهلَ دارِها

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাড়িতে দেখা করতে যেতেন এবং তার জন্য একজন মুআযযিন ঠিক করে দিয়েছিলেন আর বলেছিলেন, তিনি যেন তার বাড়ির লোকদের (মহিলাদের) ইমামতি করেন।” (সহিহ আবু দাউদ, শাইখ আলবানী রহ. এটিকে হাসান বলেছেন)

এখানে দেখা যাচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে ওয়ারাকা রা. কে ইমামতির নির্দেশ দিলেও তাকে বা তার বাড়ির অন্য কোনো মহিলাকে আযান দেয়ার অনুমতি দেন নি। বরং আলাদা পুরুষ মুআযযিন ঠিক করে দিয়েছিলেন। সুতরাং যদি মহিলাদের আযান দেয়া বৈধ হত, তাহলে আলাদা পুরুষ মুআযযিন নির্ধারণ করতেন না।

ইবনে উমর রা. থেকে দু ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেছেন: ليس على النساء أذان ولا إقامة “মহিলাদের জন্য আযান ও একামত নেই।” (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী,ইবনে হাজার আসকালানী আত তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন ১/৫২১)

ইবনে উমর রা.কে মহিলাদের আযান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রাগান্বিত হয়েছিলেন বলেছিলেন" আমি কি আল্লাহর জিকির করা থেকে মানুষকে নিষেধ করতে পারি?" (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ওহাব ইবনে কায়সান হতে বর্ণিত, শাইখ আলবানী বলেন, এর সনদ ভালো-তামামুল মিন্নাহ পৃষ্ঠা ১৫৩)

♥ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন:

لا يشرع للمرأة أن تؤذن أو تقيم في صلاتها إنما هذا من شأن الرجال، أما النساء فلا يشرع لهن أذان ولا إقامة بل يصلين بدون أذان ولا إقامة، وعليهن العناية بالوقت 

মহিলাদের সালাতের জন্য আযান ও একমত কোনটাই শরিয়ত সম্মত নয়। এগুলো পুরুষদের কাজ। মহিলাদের জন্য আযান ও একামত কোনটাই শরিয়ত সম্মত নয়। বরং তারা আযান-একামত ছাড়াই সালাত আদায় করবে। তারা সালাতের সময়ের দিকে খেয়াল রাখবে।” (বিন বায রহ. এর অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)

অবশ্য মহিলাদের আযান ও ইকামতের বৈধতার পক্ষে একদল আলেম মত প্রকাশ করেছেন। আর হানাফি মাজহাবে তা মাকরূহ। কিন্তু অধিকাংশ সাহাবী, তাবেঈ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের মতে মহিলাদের আযান ও ইকামত শরিয়ত সম্মত নয়। এগুলো কেবল পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। আর উপরোল্লিখিত সাহাবীদের বক্তব্য থেকে এমতই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।আশা করি বুঝতে পারছেন।

1656 views Answered

মহিলাদের নামায আদায়ের জন্য আযান ও একামত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কেননা, মুআযযিন হতে হবে মুসলিম ও জ্ঞানসম্পন্ন সাবালক বা নাবালক পুরুষ। কোন মহিলার জন্য পুরুষ-মহলে আযান দেওয়া বৈধ নয়; দিলে সে আযান শুদ্ধ নয়। (মুগনীঃ ১/ ৪৫৯)।

ইমাম বায়হাকী (রহঃ) সহীহ সনদে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ননা করেন নবীজী (সাঃ) বলেছেন মহিলাদের উপর আযান ও ইকামত কোনটিই নেই ।

(সুনানে কুবরা, হাদীস নং ১৯২০, কাজী শাওকানী হাদীসটিকে সহিহ বলেছেন)।

আরো সহিহ হাদীসে রয়েছে, মহিলাগন অষ্পষ্টভাষী ও আচ্ছাদিত থাকার বস্ত। সুতরাং তোমরা তাদের অস্পষ্টতাকে চুপ থাকার দ্বারা এবং ঘরে থাকার দ্বারা তাদের গোপনীয়তাকে রক্ষা কর। (তারতীবুল আমালী হাদিস নং ২০১)।

হযরত আয়েশা (রাঃ) এর আযান ও ইকামত দেওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস সহীহ নয়। অবশ্য বাইহাকীতে আছে, আমর বিন আবী সালামাহ বলেন, আমি সওবানকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, মেয়েরা কি ইকামত দিতে পারে?

উত্তরে তিনি তার পিতা হতে বর্ণনার কথা উল্লেখ করে বললেন, মকহুল বলেছেন, যদি মহিলারা আযান-ইকামত দেয় তবে তা আফযল। আর যদি শুধু ইকামত দেয়, তবে তাও যথেষ্ট।

সওবান বলেন, যুহরী উরওয়া হতে এবং তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আয়েশা) বলেছেন, আমরা বিনা ইকামতেই নামায পড়তাম। (এর সনদটি হাসান)।

ইমাম বাইহাকী বলেন, প্রথমোক্ত আসারের সাথে যদি এই আসার সহীহ হয় তাহলে উভয়ের মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা নেই। কারণ, হতে পারে যে, জায়েয বর্ণনার উদ্দেশ্যে তিনি উভয় প্রকারের আমল (কখনো এরুপ, কখনো ঐরুপ) করেছেন। আর আল্লাহ-ই অধিক জানেন।

আল্লামা আলবানী বলেন, এ ব্যাপারে সঠিক অভিমত হল নবাব সিদ্দীক হাসান খানের; তিনি বলেছেন,...আর প্রকাশ যে, মহিলারা আমলে পুরুষদের মতই। কারণ, মহিলারা পুরুষদের সহোদরা। পুরুষদেরকে যা করতে আদেশ হয়, সে আদেশ মহিলাদের উপরেও বর্তায়।

পক্ষান্তরে তাদের পক্ষে আযান ইকামত ওয়াজেব না হওয়ার ব্যাপারে কোন গ্রহণযোগ্য দলীল নেই। আযান না থাকার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসের সনদের কিছু বর্ণনাকারী পরিত্যক্ত; যাদের হাদীস দলীলযোগ্য নয়। সুতরাং মহিলাদেরকে সাধারণ এ নির্দেশ থেকে খারিজ করার মত কোন নির্ভরযোগ্য দলীল থাকলে উত্তম; নচেৎ ওরাও পুরুষদের মতই। (আর-রওযাতুন নাদিয়্যাহঃ ১/৭৯, সিলসিলাহ যায়ীফাহ, আলবানীঃ ২/২৭১)।

◄❖► ◄❖ আল্লাহ-ই ভাল জানেন। ❖► ◄❖► ▬▬▬▬▬▬▬ ◄❖► ▬▬▬▬▬▬▬


1656 views Answered

Related Questions

Next steps