রমজান মাসকে তিন ভাগে তথা রহমত মাগফিরাত নাজাত এ ভাগ করার কারণ কি?
রমজান মাসকে তিন ভাগে তথা রহমত মাগফিরাত নাজাত এ ভাগ করার কারণ কি? এ সম্পর্কে দলিল কি?
1 Answers
রমযান মাসের প্রতিটি দিন ও রাত একই রকম গুরুত্বপূর্ণ। পুরো রমযান মাসই রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস।
এ মাসে জান্নাত ও রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করা হয়। (মুত্তাফাক আলাইহী, মিশকাত হা/১৯৫৬)।
কিন্তু রমযান মাসকে তিন ভাগে সম্পর্কে (যঈফ) দলিল হচ্ছে।
রমযান মাসের প্রথম অংশ রহমত, মধ্যম অংশ মাগফেরাত ও শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তির।
[বায়হাকীর শুআবুল ঈমানে হা/৩২১; কিতাবুদ দুয়াফা লিল উকাইলি: ২/১৬২; আল-কামেল ফি দুয়াফায়ির রিজাল লি ইবন আদি: ১/১৬৫; কিতাবু ইলালিল হাদিস লি ইব্ন আবি হাতেম: ১/২৪৯; সিলসিলাতিল আহাদিসুস দায়িফা ওয়াল মাওদুয়াহ: হা/ ১৫৬৯]
হাদিসটি মুনকার!
■ সনদের দিক দিয়ে হাদীসটি শুদ্ধ নয়, দুই কারণে।
► হাদীসটি সবগুলো বর্ণনায় দেখা যায়, হাদীসটি সালমান ফারেসী (রাঃ) থেকে সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়াব বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়েবের সাথে সালমান ফারেসীর দেখা-সাক্ষাত যে হয়নি তা সকলের জানা।
► হাদীসটির সকল বর্ণনায় দেখা যায় এর মধ্যে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম আলী বিন যায়েদ ইবনে জাদআন। তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। যারা তাকে দুর্বল বলেছেন, তারা হলেনঃ হাফেজ ইবনে হাজার, ইবনে মুয়ীন, ইমাম আহমাদ, ইমাম নাসায়ী, ইবনে খুযাইমা, জুযযানী প্রমূখ।
অপরদিকে অন্যান্য হাদীস বিশারদগণ হাদীসটিকে মুনকার (প্রত্যাখ্যাযোগ্য) বলে মত দিয়েছেন।
এদের মধ্যে আছেন, আল্লামা আইনী, আবু হাতেম আর রাযী, শাযখ আলবানী (রহঃ) প্রমুখ।
[উমদাতুল কারী: ২০/৯, সিলসিলাতুল আহাদীস আল মাওদুআহ ওয়াদ দয়ীফাহ খন্ড ২, নং ২৬২ ]
১ম ভাগ রহমত, ২য় ভাগ মাগফিরাত আর ৩য় ভাগ নাজাত। [ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ, হা/ ১৮৮৭] যঈফ হাদীছ।
এর রাবী আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন যঈফ।
দলীলঃ ১. তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। [তাবাকাতে কুবরা, রাবী নং-৩১৯৫]।
২. শক্তিশালী নন। [তারীখে ইবনে মাঈন, রাবী নং-৪৭২]
আলবানী এ হাদীছটি নিয়ে চমতকার আলোচনা করেছেন। [যঈফাহ, হা/৮৭১]।
সুতরাং, এ হাদীছ যঈফ। মানার যোগ্য নয়।
■ হাদীসটি বক্তব্যের বিষয়বস্তু থেকেও দুর্বল, কারনঃ
► এ হাদীসে রহমত-কে প্রথম দশকে, মাগফিরাত- কে দ্বিতীয় দশকে আর মুক্তিলাভ-কে তৃতীয় দশকে আবদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাত ব্যাপক-বিস্তৃত। এটা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তাই আল্লাহ তাআলার
ব্যাপকবিস্তৃত বিষয়কে সংকীর্ণ করে ফেলার অধিকার আমাদের নেই। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, রমজানের প্রতিটি দিন রহমত, মাগফিরাত, বরকত ও নাজাত দিয়ে সমৃদ্ধ।