2 Answers

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আলসেমি একটি বংশগত রোগ। পরিবারের লোকজনের মধ্যে আলসেমির লক্ষণ থাকলে তোমার মধ্যেও তা আসতে পারে। আবার অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতার কারণেও আলসেমি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে যারা একটু তুলনামূলক ফ্যাট তারাও আলসেমিতে ভুগে থাকেন। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, আলসেমি ব্যাপারটা মূলত একটা বিদঘুটে মনের ভাব। অলস হওয়ার প্রশ্রয় একবার পেয়ে বসলে আলসেমি জিনিসটা স্বভাবে দাঁড়িয়ে যায়। তাই এটা কাটিয়ে উঠতে প্রথমেই যেটা দরকার তা হলো মনের জোর এবং নিজের কর্মক্ষমতার ওপর বিশ্বাস। ‘আমার কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করছে না। এখন না, থাকুক। ওটা পরে করব। এখন একটু ঘুমিয়ে নিই।’ এ ধরনের মনোভাবকে ইচ্ছা করলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়া যায়। পুরো ব্যাপারটা আসলে নির্ভর করছে তোমার ওপর। আলসেমি আর না- অনেকক্ষণ পরিশ্রম করার পর খুব বেশি ক্লান্তিবোধ করলে হাতের কাজ রেখে একটু বিশ্রাম নিতে পার, শরীরটাকে এলিয়ে দিতে পার বিছানায়। তবে প্রতিদিন এটা করলে ধরে নিতে হবে তুমি ভারি অলস, এতে তোমার পড়াশোনার যথেষ্ট ক্ষতি হবে। এর প্রভাব পড়বে তোমার ভবিষ্যৎ জীবনে। আমাদের এই ছোট্ট জীবনে করার মতো কাজ অনেক কিন্তু সময় খুব কম। তাই আলসেমি করে সময় নষ্ট করলে এক সময় পস্তাতে হবে। শরীরকে তো একটু-আধটু প্রশ্রয় দেবে। তবে সেটা খুব বুঝেশুনে। কথায় বলে, শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়। সময় নষ্ট করাকে প্রশ্রয় দিলে আলসেমি তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। আবার মনের জোরে যদি কাজে নেমে পড়তে পার, তাহলে দেখবে আলসেমি কোথায় পালাবে। আলসেমি শুধু পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের ক্ষতি করে না, ক্ষতি করে সম্পর্কেরও। আলসেমির কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে কোনো মধুর সম্পর্ক। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় যদি আলসেমি করে নির্দিষ্ট সময়ের পর স্পটে যাওয়া হয়, তাহলে প্রিয়জনের গোমড়া মুখ দেখা অনেকটাই নিশ্চিত। আর এভাবে একাধিকবার হলে তো কথাই নেই। একেবারে সম্পর্কের সাড়ে সর্বনাশ! তাই সাবধান। কেউ কিছু করছে না। আমি কী করব? এসব ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে নিজের জন্য। এগিয়ে যেতে হবে নিজের শক্তিতে। যদি অসুস্থতা তোমার আলসেমির কারণ হয়, তাহলেও ঘাবড়ে যেয়ো না। কোনো কাজ করতে চাইলে নিজেকে নিজে উৎসাহ দাও। মনে করো, একবার একটা সুযোগ হাতছাড়া হলে দ্বিতীয় সুযোগ কবে পাবে তার ঠিক নেই। তাই অলসতা কাটিয়ে নতুন উদ্যম ও উৎসাহে জেগে ওঠো এখনি। দেখবে, তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক পৃথিবী,

4560 views

একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করুন...... আমাদের মধ্যে তখনই অলসতা ভর করে যখন আমরা একটি লক্ষ্য স্থির করে কাজ করতে না পারি। অলসতা দূর করতে সবার প্রথমে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরী। একবারে একটি কাজ....... অনেকেই আছেন যারা মনে করেন সময় বাঁচাতে চাইলে একসাথে দুই তিনটি কাজ করে ফেলা ভালো। কিন্তু এটি অনেক বড় একটি ভুল কাজ। একসাথে কাজগুলো করার অর্থ হচ্ছে আপনার অলস সময় কাটানোর প্রয়োজন। এতে করে আপনি নিজের ক্ষতি করছেন এবং সেই সাথে কাজগুলোরও বারোটা বাজাচ্ছেন। একবাড়ে একটি কাজই করুন। বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন...... কাজে অলসতা আসার আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে বড় একটি কাজ হাতে থাকা। যখন অনেক বড় একটি কাজ আমাদের সামনে থাকে তখন সেই কাজতিতে হাত দেয়ার আগে আমরা অনেকেই মনে করি আর একটু পরে কাজ শুরু করি, কাজটি অনেক বড়, অনেক সময় লাগবে ইত্যাদি। আর এইসকল চিন্তা থেকেই পিছিয়ে যায় কাজ। মনে মনে ইতিবাচক ফলাফল আশা করুন...... যখনই মনের মধ্যে কাজের সফলতা নিয়ে সংশয়ের তৈরি হয় তখনই আমাদের মনে সেই কাজ নিয়ে ভর করে অলসতা। মনে করে থাকি, কাজটিতে তো সফলতা আস্তেও পারে নাও আসতে পারে, তাহলে কাজটি এতো কষ্ট করে না করাই ভালো।নিজের কাজটি নিয়ে চিন্তা করুন..... যে কাজটি করতে যাচ্ছেন তা সম্পর্কে আগে থেকে চিন্তা শুরু করুন। যেমন, আপনি কাজটি কিভাবে করতে যাচ্ছেন, কিভাবে করলে ভালো হবে, কিভাবে করলে সফল হবেন, সফল হলে কি হবে ইত্যাদি। নিজেকে একটি সময় বেঁধে দিন..... আপনি যদি প্রতিটি কাজের জন্য একটি সময় বেঁধে নেন এবং সেই সময়ের ভেতরে কাজটি শেষ করার ইচ্ছা রাখেন তবে আপনার ভেতরের সকল অলসতা এক নিমেষে দূর হয়ে যাবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারাবেননা। প্রার্থনা করুন নিয়মিত। পানকচুয়াল হন। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। নিজের প্রতি যত্নবান হন। সময় কে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী হন। বেশি বেশি সফল ব্যাক্তিদের জীবনি পড়ুন। তাদের কে আদর্শ মেনে চলুন। ইনশাআল্লাহ সাফল্য আসবেই।

4560 views

Related Questions

অলসতা কি?
1 Answers 2877 Views