4 Answers
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আলসেমি একটি বংশগত রোগ। পরিবারের লোকজনের মধ্যে আলসেমির লক্ষণ থাকলে তোমার মধ্যেও তা আসতে পারে। আবার অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতার কারণেও আলসেমি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে যারা একটু তুলনামূলক ফ্যাট তারাও আলসেমিতে ভুগে থাকেন। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, আলসেমি ব্যাপারটা মূলত একটা বিদঘুটে মনের ভাব। অলস হওয়ার প্রশ্রয় একবার পেয়ে বসলে আলসেমি জিনিসটা স্বভাবে দাঁড়িয়ে যায়। তাই এটা কাটিয়ে উঠতে প্রথমেই যেটা দরকার তা হলো মনের জোর এবং নিজের কর্মক্ষমতার ওপর বিশ্বাস। ‘আমার কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করছে না। এখন না, থাকুক। ওটা পরে করব। এখন একটু ঘুমিয়ে নিই।’ এ ধরনের মনোভাবকে ইচ্ছা করলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়া যায়। পুরো ব্যাপারটা আসলে নির্ভর করছে তোমার ওপর। আলসেমি আর না- অনেকক্ষণ পরিশ্রম করার পর খুব বেশি ক্লান্তিবোধ করলে হাতের কাজ রেখে একটু বিশ্রাম নিতে পার, শরীরটাকে এলিয়ে দিতে পার বিছানায়। তবে প্রতিদিন এটা করলে ধরে নিতে হবে তুমি ভারি অলস, এতে তোমার পড়াশোনার যথেষ্ট ক্ষতি হবে। এর প্রভাব পড়বে তোমার ভবিষ্যৎ জীবনে। আমাদের এই ছোট্ট জীবনে করার মতো কাজ অনেক কিন্তু সময় খুব কম। তাই আলসেমি করে সময় নষ্ট করলে এক সময় পস্তাতে হবে। শরীরকে তো একটু-আধটু প্রশ্রয় দেবে। তবে সেটা খুব বুঝেশুনে। কথায় বলে, শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়। সময় নষ্ট করাকে প্রশ্রয় দিলে আলসেমি তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। আবার মনের জোরে যদি কাজে নেমে পড়তে পার, তাহলে দেখবে আলসেমি কোথায় পালাবে। আলসেমি শুধু পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের ক্ষতি করে না, ক্ষতি করে সম্পর্কেরও। আলসেমির কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে কোনো মধুর সম্পর্ক। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় যদি আলসেমি করে নির্দিষ্ট সময়ের পর স্পটে যাওয়া হয়, তাহলে প্রিয়জনের গোমড়া মুখ দেখা অনেকটাই নিশ্চিত। আর এভাবে একাধিকবার হলে তো কথাই নেই। একেবারে সম্পর্কের সাড়ে সর্বনাশ! তাই সাবধান। কেউ কিছু করছে না। আমি কী করব? এসব ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে নিজের জন্য। এগিয়ে যেতে হবে নিজের শক্তিতে। যদি অসুস্থতা তোমার আলসেমির কারণ হয়, তাহলেও ঘাবড়ে যেয়ো না। কোনো কাজ করতে চাইলে নিজেকে নিজে উৎসাহ দাও। মনে করো, একবার একটা সুযোগ হাতছাড়া হলে দ্বিতীয় সুযোগ কবে পাবে তার ঠিক নেই। তাই অলসতা কাটিয়ে নতুন উদ্যম ও উৎসাহে জেগে ওঠো এখনি। দেখবে, তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক পৃথিবী।
অলসতা ও ঘুম ঘুম ভাব দূর করার কার্যকর কিছু পদ্ধতি (শেষেরটা সেরা পদ্ধতি): আমার ছোট বোন এবার এস.এস.সি পরীক্ষা দেবে। আর ভালো রেজাল্টের আশায় সে এখন নিয়মিতই রাত জেগে পড়াশোনা করছে। তো প্রায় রাতেই দেখি ১১-১২টার পর ও চেয়ারে বসে বসে ঢুলছে। সেদিন এই অবস্হা দেখে বললাম,বেশী ঘুম ধরলে ঘুমিয়ে পর। সে বিরক্ত হয়ে বললো "হুম ঘুমানোর বুদ্ধি না দিয়ে কী করলে ঘুম আসবেনা,সেই বুদ্ধি দিতে পারিসনা। তুইতো সারাদিন ইন্টারনেটে পরে থাকিস,ওখানা ঘুম দূর করার কোন উপায় লেখা নেই।" ওর কথা শোনে ইন্টারনেট ঘেঁটে অলসতা বা ঘুম ঘুম ভাব দূর করার বেশ কিছু কার্যকারী পদ্ধতি পেয়েছিলাম। পদ্ধতিগুলো আপনাদের সাথেও শেয়ার করে দিলাম। সবারই কাজে লাগতে পারে। ★পড়তে পড়তে যদি চোখে একটু ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে,তবে হাতের বইটি নিয়ে চলে যান ছাদে বা অন্য কোনো উন্মুক্ত স্হানে। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে আবার পড়তে বসুন। ★এইটা করতে না পারলে অন্তত এক রুম থেকে আরেক রুমে কিছু সময়ের জন্য চলে যান। ★চোখে মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। ★হালকা ধরনের কিছু নাস্তা বা খাবার যেমন-বাদাম,চিপস,চানাচুর ইত্যাদি খেতে পারেন। (এইটা পরীক্ষিত পদ্ধতি,আমি নিজে ট্রাই করেছি। যতক্ষণ মুখে বাদাম,চানাচুর থাকে ততক্ষণ ঘুম আসেনা। হে হে হে) ★চা,কফি বা অন্য কোন সুস্বাদু পানীয় পান করতে পারেন। (এইটা আমার বেলায় কাজে দেয়না,চা খাইলে উল্টা আমার দুচোখে রাজ্যের ঘুম নেমে আসে।) ★সহপাঠীর সাথে কিছু সময় গল্প করতে পারেন। ★কবিতা আবৃত্তি করলেও অনেক সময় অলসতা দূর হয়। ★উঁচ্চস্বরে গান গাইতে পারেন। (যাদের গলা বেসুরে,তাদের গান গাওয়ার দরকার নাই) ★বসার ধরন পরিবর্তন করলেও অলসতা দূর হয়। ★সিঁড়ি বেয়ে কয়েকবার উঠা নামা করুন। ★বই পরিবর্তন করুন,মানে যে সাব্জেক্ট পড়ছিলেন সেটা পরিবর্তন করে অন্যটা পড়ুন। ★এবার বলবো সেরা উপায়টা,উপরের কোন পদ্ধতিই যদি কাজ না করে তাহলে আরকি করা,যেহেতু এখন শীতকাল সেহেতু একটা কম্বল গায়ে চাপিয়ে নাক ডেকে ঘুম দেন।
এখন শীতকাল। সকাল বেলাতেই শীতের দাপট বোঝা যায় সবচাইতে বেশি। আর শীত যত বাড়বে, সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠা ততই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু শীতকাল বলেই তো আর সারা সকাল বিছানায় পড়ে পড়ে ঘুমানো যায় না! ঘুম থেকে উঠতেই হয় আর শীতের সকালে নিতান্তই ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে অনেকের সকালটাই মাটি হয়ে যায়। আসুন দেখে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি উপায় যাতে শীতকালেও আপনি একেবারে সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠতে পারবেন আর ঘুম থেকে ওঠার পরে থাকবেন একেবারে তরতাজা! পানি পান করুন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পরই ঘুম কাটানোর জন্য এক গ্লাস পানি পান করুন। শরীরকে সক্রিয় করে তুলতে আপনাকে সাহায্য করবে এই তরল। আর ঘুম কাটাতেও এটা কার্যকরী। আপনার বিছানার পাশের টেবিলেই রাখুন এই পানির গ্লাস যাতে ঘুম ভেঙে যাবার সাথে সাথেই এর দিকে হাত বাড়াতে পারেন। চা/কফি পান করুন সম্ভব হলে ঘুম থেকে উঠেই চা/কফি বানাতে লেগে পড়ুন। চুলার কাছে গেলে শরীর যেমন গরম হবে, তেমনি এসব ধোঁয়া ওঠা পানীয়ের গন্ধে আপনার ঘুম পালিয়ে যাবে। বাড়িতে যদি আপনার আগে কারও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস থাকে তাহলে তাকে অনুরধ করতে পারেন যেন তিনি আপনার ঘুম ভাঙ্গিয়েই এক কাপ চা হাতে ধরিয়ে দেন। বিছানায় বসে চা পান করাতে ক্ষতির কিছু নেই, কারণ এতে আপনার ঘুম চলেই যাবে। ঘুমানোর আগে কিছু পান করুন ঘুমানোর আগে কিছু পান করলে (পানি বা জুস) সেটা শরীরের কাজেও লাগবে আবার আরেকটা কাজও করবে। সকাল সকালই আপনার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হবে আর ঘুমও ভেঙে যাবে। বিছানা থেকে একবার উঠে পড়ার পর আবার ঘুমাতে যেতে ইচ্ছে করবে না। নিজের সাথে কোনও সমঝোতায় যাবেন না আর একটু পরেই উঠবো। আর পাঁচ মিনিট ঘুমিয়ে নেই। নিজের মনকে এই জাতীয় কথা বলে আরও কিছুক্ষণ বিছানায় থাকার অভ্যাসটা ত্যাগ করুন। যত কষ্টই হোক না কেন, অ্যালার্ম ঘড়ি বেজে ওঠার সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে পড়ার অভ্যাস করুন। আরও কিছুক্ষণ ঘুমানোর সুযোগ থাকলেও সেটা নিয়ে চিন্তা করবেন না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন আপনার হাতে বেশ কিছুক্ষণ সময় আছে তবে হালকা ব্যায়াম করে নিন। নিমিষেই শরীর এবং মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে। ভালো কিছুর প্রত্যাশা রাখুন এমন কোনও কাজ ঠিক করে রাখুন যার জন্য আপনি আগ্রহী। সেটা হতে পারে আপনার ভালোলাগার কোনও কাজ। যেমনমজার কোনও ব্রেকফাস্ট খাওয়া, প্রিয় সুগন্ধি সাবান দিয়ে গোসল করা, অথবা ঘুম থেকে উঠে নতুন একটা ম্যাগাজিনের পাতা ওলটানো। নিজেকে পুরস্কৃত করারও অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। যেমন নিজেকে বলতে পারেন, আগামীকাল সময়মত ঘুম থেকে উঠতে পারলে আপনি ওই উপন্যাসটির আরেকটি অধ্যায় পড়ে রাখবেন, অথবা অন্যদিনের চাইতে একটু বেশি মজার নাস্তা করবেন। যেটাই হোক না কেন, সকালে উঠেই যেন মনটা ভালো হয়ে যায় এমন কাজ করার চেষ্টা করুন। অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে গেলে বিছানায় থাকবেন না ঘুম ভেঙে যাবার পরে আবার অ্যালার্ম বাজার অপেক্ষায় ঘুমিয়ে পড়লে আপনার শরীর আরও ম্যাজম্যাজ করবে এবং পরে আর ঘুমের ভাব কাটবে না। ঘুম ভেঙে গেলে নিজের শরীরের কথা শুনুন এবং উঠে পড়ুন। অ্যালার্ম বন্ধ করে দিন এবং দিন শুরু করুন। সক্রিয় থাকুন সকাল বেলাতেই একেবারে কোমর বেঁধে লম্বা সময় ধরে ব্যায়াম করার সময় হয়ত পাবেন না আপনি। কিন্তু যেভাবেই হোক, শরীরকে চালু রাখুন। নয়তো সকাল সকাল শরীরে ঠাণ্ডা জেঁকে বসবে। বিছানায় শুয়েই কিছুক্ষণ স্ট্রেচিং করুন, যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। একটা চটুল সুরের গান ছেড়ে দিয়ে নিজের মতো করে নাচতেও পারেন, মনটাও ভালো হয়ে যাবে। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ জগিং করে নিন। ঘুম থেকে উঠেই গোসল করুন হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরে রক্ত চলাচল হবে ভালো। সতেজ সুবাসের কোনও সাবান ব্যবহার করুন। এতে মাথা থেকে ঘুমের রেশ কেটে যাবে জলদি। নিজের কাজের কথা মনে করুন অনেকে রাতের বেলাতেই আগামি দিনের কাজের কথা মাথায় রেখে ঘুমাতে যান। এতে কিন্তু দুশ্চিন্তা হয় আর ঘুমেরও সমস্যা হতে পারে। এর চাইতে সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর একটা একটা করে কাজের কথা মনে করুন আর চিন্তা করুন এগুলো যত দ্রুত করে ফেলা যায় তত ভালো। দরকার হলে একটা ছোট নোটবইতে কাজের তালিকা করে সেটা বিছানার পাশের টেবিলে রেখে দিন। এই কৌশলগুলোর কোনটাই যদি কাজ না করে তবে কি করবেন? অ্যালার্ম ঘড়িটার শব্দ বেশ বাড়িয়ে দিন এবং তাকে রাখুন বিছানা থেকে বেশ দূরে, ঘরের একেবারে অপর প্রান্তে যাতে সেটা বন্ধ করতে আপনাকে বিছানা থেকে উঠতেই হয়! শীতের সকালে ঘুমিয়ে না থেকে উঠে পড়ুন আর দেখুন, মিষ্টি রোদ ছড়িয়ে সূর্যটা আপনাকেই শুভ সকাল জানাচ্ছে!
নিজের বেলায় অলস কথাটা শুনতে মোটেও ভালো লাগে না। যদি কেউ অলস বলে ফেলে তখন কিন্তু যথেষ্ট খারাপ লাগে নিজের কাছে। অলসতা থেকে বেরিয়ে আসাটা কিন্তু কোনো কঠিন কাজ নয়। সময় নষ্ট করাকে প্রশ্রয় দিলে অলসতা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। বেশি ভেবে সময় নষ্ট না করে কাজে নেমে পড়া ভাল। অনেক সময় কাজ করতে করতেই নতুন আইডিয়া মাথায় চলে আসে।নতুন কিছু করতে চাইলে কারও উদ্যোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে উদ্যোগ নেন এবং তারপর লোকজন জোগাড় করার চেষ্টা করুন। আমার কাছে মনে হয় এটা কাটিয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার তা হলো মনের জোর এবং নিজের কর্মক্ষমতার ওপর বি