user-avatar

shohanrand1

◯ shohanrand1

আবহমানকাল ধরে আমরা লাল রঙকে নিষিদ্ধ হিসাবে জেনে এসেছি। আমরা জানি, লাল দেখলে থেমে যেতে হয়। ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে খেলার মাঠের লাল কার্ড, ফায়ার সার্ভিস থেকে অপারেশন থিয়েটারের লাল আলো। আর লাল মানেই নিষেধ। কীভাবে লাল রঙ আর নিষেধ একাকার হয়ে গেল। চলুন সে বিষয়ে জানা যাক। -লাল রঙ মানে ‘চরম’-এর প্রতীক। আবার একই সঙ্গে লাল মানে পাপ, অপরাধ, আসক্তি, যৌনতা, সহিংসতা, রাগ, দুঃসাহসিকতা ইত্যাদিরও প্রতীক। কিন্তু সব কিছুকেই ছাপিয়ে যায় লালের ‘নিষেধ’ প্রতীক। -রক্ত এবং আগুন— এই দুইয়ের লাল বর্ণকে লক্ষ্য করত প্রাচীন যুগের মানুয। তারা দেখেছিল, রক্তপাত মনুষকে মেরে ফেলতে পারে; লাল আগুন সব কিছুকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়ে লাল সম্পর্কে তাদের মধ্যে একটা সমীহ গড়ে ওঠে। -প্রাচীন মানুষেরা এও দেখেছিল নারীর ঋতুকাল সহবাসের পক্ষে অনুকূল নয়। আর রক্তের অনুষঙ্গে অবশ্যই লাল রঙকেই মনে পড়েছিল তাদের। -লালকে একটা সীমানা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয় আদিকাল থেকেই। সেই সীমানা অতিক্রম করলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এক বার্তা অঘোষিতভাবে বলা হয়ে থাকে। -ক্রমে লাল হয়ে ওঠে বিপদের রঙ। -হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে থাকে লাল রঙ।এই নারী তার স্বামী ব্যতীত অন্যের কাছে কাম্য নয়—এ কথা জানাতেই সিঁদুরের উৎপত্তি বলে জানাচ্ছেন নৃতত্ত্ববিদরা।
হাই ব্লাড প্রেসার প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই খাবারে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, কমলালেবু, কলা, টমেটো, ডাবের পানি খেতে হবে। সবুজ শাক-সবজি, লো ফ্যাট জাতীয় খাবার যেমন বাটারমিল্ক, ফ্যাটমুক্ত দই, আইসক্রিম ও লো স্যাচুরেটেড ফ্যাট জাতীয় খাবার, যেমন মুড়ি খেতে পারেন। প্রতিদিন খাবারে সোডিয়াম ইনটেক ২ দশমিক ৪ গ্রামের মধ্যেই রাখুন। হাই ব্লাড প্রেসারে বেশি লবণ খেতে পারবেন না। কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার যেমন ক্রিম, মাংস, ডিমের কুসুম, মাখন, ফ্রেঞ্জ ফ্রাইজ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর পরিমাণ ফল ও সবজি খেতে হবে। সল্টেড বাটার, চিপস জাতীয় খাবার না খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ব্লাড প্রেসার। ড্রিপ ফ্রায়েড খাবার, জাংক ফুড সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। - লেবু ব্লাড প্রেসার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা লেবুর রস সমান পানিতে মিশিয়ে খেতে পারলে ভালো। খাবারের মধ্যেও লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম আছে সেসব খাবার ব্লাড প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন আলুবোখারা, আম, সবুজ মুগ ডাল, মিষ্টি আলু, পালং শাক, বেগুন জাতীয় খাবার শরীরে লবণ ও ফ্লুয়িড ব্যালেন্স বজায় রেখে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। -শরীরে যদি ক্যালসিয়ামের অভাব থাকে তাহলে হাইপারটেনশনের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত শাকসবজি, তিল, কমলালেবু, মেথি, ধনেপাতা, ফুলকপি, গাজর খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। - রসুন ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। - শসা ও ভেজিটেবল জুস বেশি করে খাওয়ার অভ্যাস করুন। - পেঁয়াজে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিজেন ফ্লাডানয়েড থাকে, যা ব্লাড প্রেসার কমাতে সহায্য করে। রান্না করা খাবারে সোডিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। তার ওপর কাঁচা লবণ খেলে ব্লাড প্রেসার বেশি মাত্রায় বেড়ে যায়। আমাদের শরীরে ১ চা চামচ লবণই যথেষ্ট। কাঁচা লবণ ছাড়াও অন্যান্য খাবারের মধ্যে সোডিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। কিছু পাউডার, সোডিয়াম বাই কার্বোনেট ইত্যাদি খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। রেডিমেড আচার, ব্রেড, বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের সস, স্যুপ, সল্টেড বাদাম, পপকর্ন ধরনের খাবারে সোডিয়াম থাকে। তেল, ঘি, মসলা এড়িয়ে চলতে পারলে আরও ভালো হয়। অ্যালকোহল, চা, কফি কম পরিমাণে খেতে হবে। এতে ব্লাড প্রেসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।ফ্যাট জাতীয় খাবার কখনোই খাবেন না।

#9 ১. আরামদায়ক জায়গা: দ্রুত টাইপ করার জন্য চাই উপযোগী ও স্বস্তিকর জায়গা। খোলামেলা ও আরামদায়ক জায়গা হলে দ্রুত টাইপ করতে সুবিধা হয়। ল্যাপটপে বা কিবোর্ড নিয়ে দ্রুত টাইপ করতে গেলে তা কোলের ওপর রাখার চেয়ে টেবিলের ওপর রেখে করলে দ্রুত কাজ হবে।

২. ঠিক হয়ে বসা: দ্রুত টাইপ করার জন্য ঠিক হয়ে বসা জরুরি। সোজা হয়ে বসে কবজি যাতে কিবোর্ড বরাবর থাকে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে আঙুল কিগুলো ঠিকমতো চালাতে পারবেন। বেশি ঝুঁকে টাইপ না করাই ভালো। আরামদায়ক উচ্চতায় বসে টাইপ করলে দ্রুত টাইপ করা যাবে।

৩. হাত সঠিক স্থানে রাখুন: কিবোর্ডের ওপর ঠিকমতো হাত না রাখার ফলে দ্রুত টাইপ করা যায় না। ভুলভাবে কিবোর্ডের ওপর হাত রাখার ভুলটিই বেশি দেখা যায়। তাই কিবোর্ডে আঙুল রাখার নিয়মটি মনে রাখতে পারেন। বাঁ হাতের তর্জনীতে রাখুন ‘এফ’ কি, মধ্যমাতে ‘ডি’, অনামিকাতে ‘এস’, কড়ে আঙুলে ‘এ’। ডান হাতের তর্জনী রাখুন ‘জে’, মধ্যমাতে ‘কে’, অনামিকাতে ‘এল’ ও কড়ে আঙুল রাখুন ‘সেমিকোলন’ কিতে। বাঁ ও ডান হাতের বৃদ্ধা আঙুল রাখুন স্পেস বারে। কিবোর্ড ব্যবহার করে দ্রুত টাইপ করতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই।

৪. অনুশীলন শুরু: আঙুল ঠিকমতো রাখার পর বিভিন্ন শব্দ টাইপ করতে থাকুন। অনুশীলন চালিয়ে যান। শুরুতে যে কিগুলোতে আঙুল রেখেছেন, তা চেপে টাইপ শুরু করুন। ‘এএসডিএফ’ এরপর স্পেস দিয়ে ‘জেকেএল; ’ এরপর বড় হাতের অক্ষরে এ অক্ষরগুলো টাইপ করার চেষ্টা করুন। এরপর নিচের সারির কিগুলোতে আঙুল রেখে এই কিগুলো টাইপ করুন। একই সঙ্গে ওপরের সারিতে আঙুল রেখে ওই কিগুলো টাইপ করার চেষ্টা করুন। এবার কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েই কিগুলো চেপে টাইপ করার চেষ্টা করতে পারেন।

৫. টাচ টাইপিং শেখা: শুরুতে টাচ টাইপিংয়ের দক্ষতা খুব কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু একবার দক্ষ হয়ে গেলে টাচপ্যাড ব্যবহার করে সবচেয়ে দ্রুত টাইপ করা যায়। টাচ টাইপ শিখতে খুব ধীরে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে অনুশীলন শুরু করুন। ধীরে ধীরে আপনার টাইপের গতি বাড়ান। শুরুতে কঠিন মনে হলেও লেগে থাকুন। ধীরে ধীরে দ্রুত টাইপ শিখে যাবেন।

৬. অনুশীলন চালিয়ে যান: দ্রুত টাইপ শেখার জন্য অনুশীলনের বিকল্প নেই। যত টাইপ করবেন, তত দ্রুত ও নির্ভুল টাইপ করা শিখে যাবেন। তবে এ জন্য ধৈর্য থাকতে হবে।

নারী পুরুষ সবার শরীরে কমবেশি লোম রয়েছে। তবে পুরুষ আর নারী ভেদে লোমের ধরনে রয়েছে ভিন্নতা। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ঘন কালো, মোটা লোম হয়ে থাকে। আর নারীর ক্ষেত্রে লোম হয় পাতলা ধরনের। তবে সব ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি ঠিক থাকে না। আর তখনি তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েদের মুখে যদি ছেলেদের মতো লোম গজাতে শুরু করে, তবে তা খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। শরীরের অনেক রোগের কারণে এমন অবস্থা হতে পারে। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই নয়, ভেতরকার অনেক সাধারণ বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে দিতে পারে। তাই উপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

 

 

অবাঞ্ছিত লোমের কারণ

 

হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই মূলত এর জন্য দায়ি। প্রত্যেক নারী ও পুরুষের শরীরে টেসটোসটেরন( testosteron) নামক এক ধরনের হরমোন রয়েছে। এই টেসটোসটেরন হরমোনকে পুরুষ হরমোন নামে অভিহিত করা হয়। পুরুষের পাশাপাশি মেয়েদের শরীরেও এই টেসটোসটেরন হরমোন সামান্য পরিমাণ থাকে। কিন্তু মেয়েদের শরীরে টেসটোসটেরন হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকলে অথবা হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে মেয়েদের শরীরে পুরুষের মতো লোম গজাতে শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেয়েদের এই শারীরিক সমস্যাটিকে হারসুটিজম (hirsutism) বলা হয়।

 
 

 

ইনসুলিন রেজিসটেন্স এবং পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের কারণেও নারীর মুখে অবাঞ্চিত লোম হতে পারে। মানুষের শরীরে দু’টি গ্রন্থির বৃদ্ধিকেও দায়ি করা হয়। তার একটি হল অ্যাডরেনাল গ্রন্থি, যা কিডনির উপরিভাগে অবস্থিত। আর একটি হল নারীর দেহের ডিম্বাশয় বা ওভারি। এই দু’টি গ্রন্থিতে কোনো রোগের কারণেও এ রকম অতিরিক্ত লোম গজিয়ে থাকে। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি এবং ওভারির টিউমার অথবা ক্যানসার হলে বা অ্যাডরেনাল হাইপারপ্লাসিয়া হলেও অবাঞ্ছিত লোম হতে পারে। তবে যদি হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেয়া হয়, সেক্ষেত্রে ও হারসুটিজম হতে পারে। অনেক সময় জেনেটিক কারণেও হারসুটিজম হতে পারে। এছাড়াও

 

 

– সাধারণত মেনোপজ হয়ে যাওয়া বা হচ্ছে এই সময়টা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মেনোপজ হলে বা মাসিক একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে হরমোন পরিবর্তন হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে যে কোনো বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

 

– অবিবাহিত নারীদের মাসিকের অনিয়মিত অবস্থাও এই সমস্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

 

 

– বিবাহিত হলে অনিয়মিত মাসিকের সঙ্গে সন্তান হওয়া বা না হওয়ার সম্পর্ক জড়িত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে।

 

 

চিকিৎসা

 

– লোম খুব দ্রুত হারে বাড়তে থাকলে, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, ব্রণ হওয়া, পিরিয়ডের সমস্যা, পেশি বেড়ে যাওয়া, ব্রেস্ট ছোট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে চিকিৎসা নিতে হবে।

এরকম অনেকেই আছেন যারা অযাচিত বা অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যায় ভোগেন। লোক সমাজে বের হতে ইতস্তত বোধ করেন বিশেষ করে মহিলারা যাদের উপরের ঠোঁটের ওপর, থুঁতনিতে, গালে, ঘাড়ে, রান থেকে হাঁটু অবদি, পায়ে, হাতের আঙ্গুলে আর পায়ের আঙ্গুলে পাতলা কিংবা ঘনভাবে গজিয়ে ওঠা লোম দেখা দেয়।সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কেটে বাদ দিয়ে দেবেন কিংবা একটু শেভ করবেন? কিছুদিনের ভেতরেই আরো শক্তিশালী, ঘন আর মজবুত হয়ে দ্বিগুন পরিমাণে জন্ম নেবে সেই অবাঞ্চিত লোম আর পশমগুলো। অন্তত এই সমস্যার ভুক্তোভোগীরা ঠিক এটাই বলে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে কিন্তু শেভ করলে মোটেই মজবুত বা দ্বিগুন হয়ে যায়না লোম । প্রথমেই আসা যাক লোমের মজবুত হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে। এ ব্যাপারে বুঝতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে লোমের স্তরগুলো সম্পর্কে। লোম বা পশমের পুরো অংশের একটা বড় ভাগটাই থাকে ত্বকের নীচে। আর সেটাই হয় সবচাইতে বেশি শক্ত এবং মজবুত। অবাঞ্চিত লোমগুলো শেভ করার মাধ্যমে তাই সবসময় উপরের নরম অংশটুকু কেটে ফেলে নীচের শক্ত অংশটুকুই বাইরে বের করে ফেলেন আপনি। ফলে তখনকার জন্যে সেটাকে আগের চাইতে একটু বেশিই মজবুত আর শক্ত বলে মনে হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে শেভ করার পর আপনার শরীরের অবাঞ্চিত লোম ছোট হয়ে যায়। লোম যত বড় হয় ততই নরম হয়। কিন্তু ছোট হয়ে গেলে সেটা অবশ্যই শক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও লোমে ঢাকা আপনার ত্বকটি এতদিন চোখে না পড়লেও শেভ করার পর সেটা পুরোপুরি পরিস্কারভাবে দেখা যায়। এতে করে সেই অংশটির ওপরে থাকা ছেঁটে ফেরা অবাঞ্চিত লোমের গোড়াগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ত্বকে। এতসব কারণেই সাধারনত শেভ করার ফলে স্থানটিতে লোমগুলো মজবুত আর কালো হয়ে উঠেছে মনে হয়। শেভ করার ফলে চুলের পরিমাণ বা বৃদ্ধি বাড়ে কিনা সেটা নিয়ে মূলত পরীক্ষাও করেছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯২৮ সালে জার্নাল অ্যানাটমিকাল রেকর্ডে প্রকাশিত একটি গবেষনায় ফরেনসিক অ্যানথ্রপলজিস্ট মিলড্রেড ট্রটার জানান যে, শেভ করার ফলে চুলের কোনরকম রং, আকৃতি বা বৃদ্ধির পরিমাণ পরিবর্তিত হয়না । সম্প্রতি জার্নাল অব ইনভেস্টিগেশন ডারমেটোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষনা অনুসারে, শেভ করাকে কোন নির্দিষ্ট স্থানের চুলের আকার বা আয়তনের পরিবর্তন কিংবা পরিমাণ বৃদ্ধির জন্যে দোষারোপ করা যায়না। আসলে ত্বকের নীচে থাকা একধরনের হেয়ার ফলিসেলের কারণেই চুল বৃদ্ধি পায়। এটিই চুল কেমন হবে, কতটা বৃদ্ধি পাবে বা শক্ত হবে সেটা ঠিক করে দেয়। যেটা কিনা শেভ করার দ্বারা কোনরকম ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রভাবিত হয়না । তবে অনেকসময় আমাদের আগে থেকেই করে রাখা ধারণা এই চুলের বাড়তি পরিমাণ বা অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করে। ফলে কোনকিছু না হলেও শেভ করা স্থানটিতে যথেষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করি আমরা। যেটা কিনা একেবারেই অমূলক! আর তাই নিশ্চিন্ত থাকুন এখন থেকে আর শেভ করে খুব সহজেই দূর করে ফেলুন বাড়তি ঝামেলা।
ছেলেদের শরীরের লোম নিয়ে এতো মাথা ব্যথা না থাকলেও মেয়েদের খুব ভালো পরিমাণেই থাকে। বিশেষ করে শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো লোমমুক্ত রাখার ব্যাপারে মেয়েরা খুবই সচেতন। হাত-পা তো আছেই, এছাড়াও আন্ডারআর্ম, বিকিনি লাইন এবং শরীরের যে কোন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত লোম হতে পারে। আর সেটা পরিষ্কার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন অনেকেই। এই কাজে অনেক নারী বেছে নেন শেভিং পদ্ধতি, কেউ কেউ ব্যবহার করেন হেয়ার রিমুভাল ক্রিম বা লোশন, অনেকে আবার স্পর্শকাতর অঙ্গেও যন্ত্রণাদায়ক ওয়াক্সিং করিয়ে থাকেন। পদ্ধতি যেটাই হোক না কেন, স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো লোমমুক্ত করার সময়ে এই ৭টি টিপস মনে রাখতে হবে অবশ্যই। তাতে স্পর্শকাতর অঙ্গ লোমমুক্ত রাখা সহজ হবে, লোমমুক্ত করার পর জ্বালা পোড়া বা ব্যথা হবে না। ১) আপনার পদ্ধতি যদি শেভিং হয়ে থাকে, তাহলে উপযুক্ত রেজর ও ভালো শেভিং ফোম বেছে নেয়াটা খুবই জরুরী। যেন তেন রেজর ব্যবহার করবেন না। অনেকে দেখা যায় স্বামীর পুরনো রেজরটাই ব্যবহার করছেন। সেটাও করবেন না। এসব কাজের জন্য আলাদা রেজর রাখুন। এবং অবশ্যই ভালো রেজর। নাহলে ত্বকে ছিলে যাবে। ২) এয়ার রিমুভাল ক্রিম বা লোশনের ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের সাথে মিলিয়ে উপযুক্ত প্রসাধনীটি বেছে নিন। আজকাল প্রত্যেক স্কিন টাইপের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন ক্রিম বা লোশন পাওয়া যায়। বেশী শুষ্ক ত্বক বা বেশী ব্যথা পাওয়ার প্রবনতা থাকলে বাড়তি ময়েসচারাইজার যুক্ত ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করবেন। এতে ব্যথা কম পাবেন। ৩) যারা ব্যথা সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য ওয়াক্সিং না করাই ভালো। কেননা তাতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। বিশেষ করে স্পর্শকাতর অঙ্গে ব্যথা ও ত্বকের জ্বালাপোড়াটা অনেক সময় থাকে। তাছাড়া ঘন ঘন স্পর্শকাতর অঙ্গে ওয়াক্স করলে র‍্যাশ হবার প্রবনতা অনেক বেড়ে যায়। ৪) যে পদ্ধতিই ব্যবহার করুন না কেন, তার অন্তত ঘণ্টা খানেক আগে কোন কোমল সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে স্থানটি ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। ও তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন। এতে লোম পরিষ্কার করতে সুবিধা হবে। খুব ভালো হয় ডাভ বা এই ধরণের খুবই কোমল ও ময়েশ্চারাইজার যুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে। যাদের গোপন অঙ্গের লোম বেশী মোটা বা শক্ত, তাঁরা পরিষ্কার করার সময় চুলের কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। এতে সহজে শেভ করতে পারবেন, হেয়ার রিমুভালও সহজে অবে। ৫) লোম পরিষ্কার শেষ? এবার শুরু হবে বাড়তি যত্ন। পরিষ্কার করার পর উক্ত স্থানে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। একু ম্যাসাজ করে করে লাগান। এটা ত্বকের ক্ষতি প্রতিরোধ করবে এবং ত্বকে যে কোন রকম জ্বালাপোড়া কম করবে। গ্লিসারিনের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। ৬) লোম পরিষ্কারের পর বেশি জ্বালাপোড়া করলে পাতলা কাপড়ে বরফ বেঁধে উক্ত স্থানে ম্যাসাজ করুন। এতে আরাম মিলবে আর অনাকাঙ্ক্ষিত র‍্যাশ হবে না। ৭) স্পর্শ কাতর অঙ্গের লোম পরিষ্কার করার পর (বিশেষ করে বিকিনি এরিয়া বা বগল) বেশ অনেকটা সময় টাইট পোশাক পরবেন না। নরম সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। নাহলে র‍্যাশ হতে পারে।
অন্যদের প্রেজেন্টেশন দেখতে গেলে আপনি যেমন দুই-তিন মিনিটে বোরর্ড হয়ে যান, আপনার প্রেজেন্টেশন দেখলে তাদেরও একই ফকিরা মার্কা ফিলিংস হয়। স্পেশালি যারা ফার্স্ট টাইম প্রেজেন্টেশন দিতে যায়। তাই, প্রথমবার প্রেজেন্টেশন দিতে যাওয়া পোলাপানদের জন্য এক কুড়ি টিপস - ১. প্রেজেন্টেশনের আগের রাত্রে রিপোর্ট থেকে লম্বা লম্বা লাইন কপি-পেস্ট মেরে পাওয়ারপয়েন্টের স্লাইড বানানো যাবে না। আপনি যাদের সামনে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছেন তারা সবাই পড়তে জানে। সো, একটা স্লাইডের মধ্যে গাদাগাদা টেক্সট দিয়ে রোবটের মত পক পক করে রিডিং পড়া যাবে না। স্লাইডে থাকবে কোন একটা বিষয়ের ইম্পরট্যান্ট পয়েন্টস গুলার কিওয়ার্ড সহ হিন্টস। যাতে ঐসব হিন্টস দেখলে আপনি ওই পয়েন্ট নিয়ে দুই-তিন লাইন কথা বলতে পারেন। ২. অবশ্যই ফাইভ বাই ফাইভ রুল ব্যবহার করতে হবে। কোন স্লাইডে ৫ টার বেশি বুলেট পয়েন্ট দেয়া যাবে না। আর কোন পয়েন্টে পাঁচটার বেশী শব্দ থাকতে পারবে না। ৩. মনে রাখবেন আপনি কি বলতে চান, আপনার কাছে কি ভালো লাগতেছে সেটা বলার জন্য আপনি প্রেজেন্টেশন দিচ্ছেন না। বরং আপনার সামনে দর্শক যারা থাকবে, তারা কি কি শুনতে চায়, তাদের কি জানা প্রয়োজন, সেটা বলার জন্য আপনার প্রেজেন্টেশন। হয় দর্শকদের ভিতরে একটা ইন্টারেস্ট তৈরী করবেন অথবা তাদের ইন্টারেস্টের লাইনে গিয়ে কথা বলবেন। শুধু আপনার পছন্দের জিনিস নিয়ে ইচ্ছামত বলা শুরু করলে দেখবেন পাঁচ মিনিটেই পাবলিক ঘুমায় পড়ছে। ৪. কোন একটা নিউজের হেড লাইন ইন্টারেস্টিং হইলে আমরা লিঙ্কে গিয়ে সেই নিউজ দেখি। নইলে ক্লিক করি না। আপনার প্রেজেন্টেশনের টাইটেল বা এজেন্ডা বা প্রথম দুই স্লাইড ইন্টারেস্টিং না হইলে, আপনি কি বলতেছেন কারো কানে ঢুকবে না। টেবিলের নিচে মোবাইলে ফেইসবুকিং করতে থাকবে। আর মাইনসের ইন্টারেস্ট ধরে রাখার জন্য একটু পর পর আকর্ষণীয় কিওয়ার্ড জোরসে বলা লাগবে। স্টিভ জবস যেমন ব্যবহার করতো, Incredible, Stunning, Fantastic, Gorgeous, etc. . ৫. দয়া করে তিন সারি তিন কলামের চাইতে বড় কোন টেবিল দিবেন না। একান্তই বড় টেবিল দেয়া লাগলে, কোন জায়গাটায় এটেনশন দেয়া উচিত সেখানে বোল্ড করে, ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে বা লাল কালার সার্কেল দিয়ে হাইলাইট করে দিবেন যাতে এটেনশন ওইখানে চলে যায়। পারলে টেবিলের কম গুরুত্বপূর্ণ সারিগুলার কালার ফেইড করে দেন। ৬. দশ মিনিটের বকর বকর, একটা সিম্পল চার্ট দিয়ে সহজেই দুই মিনিটে বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব। তবে হিজিবিজি মার্কা কোন চার্ট দিবেন না, যেটা আপনি নিজেই ঠিক মত বুঝেন না। বেশি কমপ্লেক্স কোন চার্ট দেয়ার রিস্ক হচ্ছে, কেউ প্রশ্ন করলে ধরা খেয়ে যাবেন। ইনফ্যাক্ট স্লাইডে এমন কোন কিছু দেয়া উচিত না যেটা নিয়ে প্রশ্ন করলে আপনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। ধরা খাইলে আপনি যতটুকু জানেন সেটা নিয়েও লোকজনের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে। ৭. মিনি মিনি টেক্সট বা খুব বড় ফন্ট দিবেন না। ফন্ট সাইজ ২৪ হইলে ভালো। ১৮ এর কম বা ৪০ এর বেশি দিবেন না। Times New Roman ফন্ট হিসেবে ব্যবহার না করে Tahoma, Georgia ব্যবহার করতে পারেন। তবে ইয়ো ইয়ো মার্কা ফন্ট থেকে দূরে থাকবেন। ৮. নতুন নতুন প্রেজেন্টেশন শিখলে পোলাপান অপ্রয়োজনীয় এনিমেশন দেয়, এক এক শব্দ এক এক দিক লাফাইতে লাফাইতে আসে। এই রকম করলে, প্রেজেন্টেশনের মেইন টপিকের দিকে কনসেন্ট্রেশন দেয়া টাফ হয়ে যায়। তবে কোন কমপ্লেক্স কনসেপ্ট এক্সপ্লেইন করার দরকার হইলে সিম্পল এনিমেশন ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে বুঝানো অনেক সহজ হয়ে যায়। . ৯. অনেকেই সময় মত প্রেজেন্টেশন শেষ করতে পারে না। লাস্টের দিকে এসে এক মিনিটে ছত্রিশ স্লাইড লাফ মারে। আগে থেকে প্রাকটিস করে গেলে এবং প্রশ্ন উত্তরের জন্য কিছু সময় বরাদ্ধ রাখলে এই সমস্যা কম হয়। আর কেউ যদি প্রশ্ন করে বসে এবং সেটার উত্তর মনে করার জন্য আপনার কিছুক্ষণ চিন্তা করা দরকার হইলে, উনাকে বলেন, প্রশ্নটা রিপিট করতে। তাইলে প্রশ্নের উত্তর হিসেবে কি বুজুংবাজুং দিবেন সেটা ঠিক করতে এক দেড় মিনিট এক্সট্রা সময় পেয়ে যাবেন। ১০.কোন একটা জিনিসের কালার ল্যাপটপে যতই ভালো দেখাক না কেনো, প্রজেক্টরে ফালতু দেখাবেই। গ্যারান্টি। স্পেশালি ব্যাকগ্রাউন্ড কালার। তাই খুব বেশি কালারের শেড নিয়ে গবেষণা না করে, বেসিক কালার ব্যবহার করেন। পারলে আগে ভাগে প্রজেক্টরে গিয়ে প্রেজেন্টেশন চালায় দেখেন কালারগুলার কি অবস্থা। . ১১. প্রেজেন্টেশন দেয়া একটা স্টোরি বলার মত। একটা ফ্লো থাকবে। মাঝখানে ক্লাইম্যাক্স থাকবে। প্রবলেম থাকবে। সেটার ফিনিশিং দিবেন, লাস্টে। এইভাবে ফ্লো ঠিক না থাকলে, প্রেজেন্টেশনের মাঝখানে লোকজন ঘুমায় পড়বে। ১২. প্রেজেন্টেশন দিতে গেলে দুনিয়ার সবাই নার্ভাস থাকে। বুকের ভিতর দুরু দুরু করতে থাকে। এক এক জন এক এক সিস্টেমে নার্ভাসনেস দূর করার চেষ্টা করে। আমি, প্রেজেন্টেশনের আগে, একটু বাইরে হেটে আসি, পাঁচ মিনিট বাথরুমে গিয়ে মুখে পানি দেই অথবা সামনের সারির লোকজনের সাথে হাই হ্যালো করি। তবে ঠাণ্ডা কিছু খাই না, গলা বসে যাবে বা ঘন ঘন বাথরুম চাপবে এই ভয়ে। . ১৩. প্রেজেন্টেশন ইফেক্টিভ করার জন্য কন্টেন্ট এর চাইতে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পকেটের ভিতরে বা বুকে হাত শক্ত করে রাখবেন না। দুই সাইডে রাখবেন এবং একটু পর পর হাত নাড়াবেন। এক জায়গায় স্থির না থেকে একটু ডাইনে বামে নাড়াচাড়া দিবেন। ইত্যাদি এর হানিফ সংকেত দাড়িয়ে যখন কথা বলতে তখন সাউন্ড অফ করে দেখবেন তার হাত পা নাড়ানোর স্টাইল, মুখের ভঙ্গি। এইসব। আর অবশ্যই পকেট হান্ডেড পার্সেন্ট খালি রাখতে হবে। কোন মোবাইল, মানি ব্যাগ, চাবি রাখা যাবে না। ১৪. মরার মত একই স্বরে কথা বলবেন না। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলতে চাইলে সেটার আগে দম নিয়ে উচ্চস্বরে বলতে হবে, তাইলে যারা শুনতেছে তাদের মনোযোগ বাড়বে। টিভিতে খবর শুনার সময় টিভির দিকে না তাকিয়ে শুধু অডিও শুনলে বুঝতে পারবেন যারা খবর পড়ে তারা কখন কোন শব্দের উপর জোর দিয়ে খবরগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলে। . ১৫. দর্শকদের পশ্চাদদেশ দেখিয়ে সারাক্ষণ প্রোজেক্টরের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। ওরা আপনাকে দেখতে আসছে, আপনার পিছনের অংশ না। আবার সর্বদা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকেও তাকিয়ে কথা বলবেন না। একটু পর পর দর্শকদের দিকে তাকান। আই কন্ট্রাক্ট করেন। সেটা মোটামুটি ৩ সেকেন্ড পরে সরায় ফেলেন। এবং দুই-এক মিনিট পরে আরেকজনের সাথে আই কন্ট্রাক্ট করেন। . ১৬. আ, উ, গাই, গুই, লাইক, আই মিন, ইউ নো, এইসব টাইপের শব্দ করে অনেকেই। এইসব শব্দ করে, মনে করার চেষ্টা করে, পরবর্তীতে কি বলবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, নিজের অজান্তেই আমরা এইসব শব্দ করি। এইগুলাকে বলে ফিলার ওয়ার্ড। প্রেজেন্টেশন প্রাকটিস করলে, এইসব ফিলার ওয়ার্ড কমে যায়। আবার অনেকের মুদ্রাদোষ থাকে, একই শব্দ বার বার বলে, প্রাকটিস করে সেটাও কমানো যায়। আর কখনো মনে করার দরকার হইলে, এক দুই সেকেন্ডের জন্য দম নিবেন এবং চুপ থেকে চিন্তা করবেন। এই বিরতি লম্বা সময়ের জন্য নেয়া যাবেনা। ১৭. প্রেজেন্টেশনে কারা থাকবে তারা আপনি যে জিনিস নিয়ে কথা বলবেন সেটা কতটুকু জানে, তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। নইলে ওরা জানে এমন কিছু নিয়ে আপনি অনেক সময় বকবক করে বোরর্ড করে ফেলবেন। আবার উল্টাটাও ঘটতে পারে, ওদের তেমন ধারণা নাই, আর আপনি ব্যাকগ্রাউন্ড কোন ধারণা না দিয়েই মেইন পয়েন্টে চলে গেলেন। তারা আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারলো না। ১৮. আপনার প্রেজেন্টেশন তৈরী করার সময়, আপনার প্রেজেন্টেশনের মেইন তিনটা ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট খুঁজে বের করতে হবে। যেই তিনটা পয়েন্ট আপনি মনে করেন ওদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের মনে রাখা উচিত। সেই তিনটা পয়েন্ট আপনার প্রেজেন্টেশনের প্রথমে, মাঝে ও শেষে রাখতে হবে। এবং লাস্ট স্লাইডে এই তিনটার একটা সামারি স্লাইড রাখতে হবে। এই ইম্পরট্যান্ট জিনিসগুলা বলার সময় গলার স্বরের ভেরিয়েশন এনে একটু জোড়ে বলতে হবে। যাতে দর্শক আকর্ষণ অনুভব করে। . ১৯. আজ থেকে ছয় মাস পরে কেউ আপনার প্রেজেন্টেশনের সবকয়টা স্লাইড মনে রাখবে না। আপনি নিজেও মনে রাখতে পারবেন না। তবে যদি কোন একটা জিনিস মনে রাখতে হয়, তাইলে সেটা কি? আপনি কি জানেন সেটা কি? না জানলে সেটা খুঁজে বের করেন। এবং সেটা জাস্টিফাই করার জন্য প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন যোগ করেন। ২০. শেষকথা হচ্ছে, প্রাকটিস। দরকার হইলে ভিডিও ক্যামেরা বা ওয়েবক্যাম দিয়ে আপনার প্রেজেন্টেশনের ভিডিও করেন। তারপর সাউন্ড অফ করে দেখেন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কি অবস্থা। চোখ বন্ধ করে শুধু অডিও শুনে, চেক করেন উচ্চারণের ভেরিয়েশন আছে নাকি। কথা বলার ফ্লো আকর্ষণীয় হচ্ছে কিনা। প্রাকটিসের কোন বিকল্প নাই। ম্যান ইজ মরটাল।

#1000 কয়েকদিন আগে মাদারীপুরের পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করা হয়েছে এলাকাকে পাপ কাজ থেকে উদ্ধার করতে এবং সমাজকে কলুষমুক্ত রাখতে! বেশ ক’বছর আগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার থেকেও এভাবেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল যৌনকর্মীদের এবং তারপরের ঘটনা আমরা সবাই জানি! এসব যৌনকর্মী ছড়িয়ে পড়েছিল রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে হোটেল এবং বস্তিতেও। একটা এলাকাকে পাপমুক্ত করতে গিয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল! আমি কোনোভাবেই এই পেশার পক্ষে নই; কিন্তু সমাজের সুধীজনদের একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি, একটা মেয়ে কতটুকু বিপদে পড়লে বা কোন অবস্থায় নিজেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত করে বা আদৌ তারা নিজেরা স্বেচ্ছায় এ পেশায় যুক্ত হয় কি-না? আমরা যতদিন পর্যন্ত এসব হতভাগা মেয়ের জীবিকা নির্বাহে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে পারব না, রাষ্ট্র এবং সমাজ না করবে, ততদিন পর্যন্ত কোনোভাবেই এ পেশাকে নির্মূল করা সম্ভব কি? যদি তা না হয় তাহলে ২-১টি পল্লী উচ্ছেদ করে এসব মেয়েকে ভাসমান করে পুরো সমাজটাই কি পতিতাপল্লী হয়ে উঠবে না?


যেসব সুধীজন এই অসাধারণ সমাজকল্যাণমূলক ভালো কাজটি করে বাহবা কুঁড়িয়েছেন তাদের কাছে আমার সবিনয়ে কিছু প্রশ্ন_

১. এখানে যেসব মেয়ে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের কতজন স্বেচ্ছায় এবং শখ করে এ কাজ করছে? নাকি ভদ্রবেশী শয়তানদের লোভ-লালসার শিকার হয়ে বাধ্য হয়েছে এই পথে আসতে?

২. এসব মেয়েকে সমাজ, সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নাম দেওয়া হয়েছে পতিতা। কিন্তু যারা এ জায়গায় বিকৃত লালসা পূরণ করতে যান, তাদের কি পতিত বলা উচিত নয়? উচ্ছেদের মত মহৎ উদ্যোগে তাদের কি চিহ্নিত করে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে?


পতিতাবৃত্তি বাংলাদেশের আইনে অবৈধ কোনো পেশা নয়। সরকারি আইন মেনে রীতিমতো রেজিস্ট্রেশন করে এ পেশায় আসতে হয় এবং পতিতাপল্লীর সব মেয়েই রেজিস্ট্রিকৃত পেশাদার এবং তাদের ভোটাধিকার রয়েছে। তাহলে কেন এবং কার স্বার্থে এই উচ্ছেদ? আমরা সব সময়ই লক্ষ করি, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় নব্য সমাজকর্মী বা ভালো মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা নিজেদের ভালো জাহির করতে এসব তথাকথিত কাজগুলো করে নিজেদের জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেন। এ বিষয়টি আমরা এর আগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের সময়ও দেখেছি।

যতদূর জানি, হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞা ছিল এই পল্লী উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। তারপরও দিনদুপুরে সবার সামনে এই বস্তি উচ্ছেদ হয়েছে। তাহলে আইন আর প্রশাসন কি এতই দূর্বল, নাকি আইন সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টত উল্লেখ আছে_ ধর্ম-বর্ণ, পেশা বা অন্য কোনো কারণে কারও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা যাবে না বা কারও বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ; কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা এর কোনোটারই প্রয়োগের কথা এখন পর্যন্ত শুনিনি।


একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে পতিতাপল্লী ছিল, এখনও টাঙ্গাইল, দৌলতদিয়া এবং খুলনায় বড় পতিতালয় আছে। এখানে মূলত যেসব মেয়ে এ পেশায় এসেছে তাদের বেশির ভাগই প্রতারণা এবং পাচারের শিকার হয়ে এসেছে। অনেকে আবার মায়ের উত্তরাধিকারের সূত্র ধরে এ পেশায় এসেছে বা আসছে। ২০০৫ সালে চিলড্রেন ইন দ্য হিডেন ওয়ার্ল্ডে ফিল্মটির কাজ করতে গিয়ে আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছিল। মূলত এখানে যেসব মেয়ে আছে তারা কেউই স্বাধীন নয়, এরা বাড়িওয়ালি, দালাল এবং সমাজপতিদের হাতে জিম্মি। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এদের আয়ের একটা বড় অংশ বাড়িওয়ালি, দালাল আর সমাজপতিদের পকেটে যায়, এর বাইরে যা থাকে তা খুবই সামান্য এবং তা দিয়ে কোনোমতে জীবিকানির্বাহ করে তারা। আরও মজার বিষয় হচ্ছে, এরকম অনেক মা-বাবা আছেন, তারা মেয়ের পেশাকে জেনেও তার কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিচ্ছেন; কিন্তু তাকে মেয়ের মর্যাদা দিচ্ছেন না। কারণ, সার্থের কোনো রঙ নেই।


আমরা প্রতিনিয়ত নানা অন্যায়, অসততা, চুরি, ঘুষ খাচ্ছি। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত আছি। সমাজের উঁচুতলায় ওঠার জন্য নিজের স্ত্রী বা মেয়েকে অন্যের ভোগের শিকার করছি; কিন্তু আমরা পতিত হই না। আমাদের পার্টির জৌলুস বাড়ানোর জন্য সোসাইটি গার্ল আমাদের স্ট্যাটাস বাড়ায়। আর ওইসব আধপেটা খাওয়া ততধিক দরিদ্র, অপুষ্ট নোংরা মেয়েগুলো পেটের দায়ে অথবা বাধ্য হয়ে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় তার দেহ বিক্রি করে, তাতে আমাদের সমাজ নোংরা হয়ে যায়, যার খদ্দের আবার আমরাই!


পরিশেষে একটা গল্প বলি, যদিও এটা সত্য ঘটনা_ রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাশিয়া সরকার একটা কাজ করেছিল, সেখানকার পতিতাপল্লীতে যারা যেত তাদের সবার নাম, ছবিসহ বাসার ঠিকানা লেখা বাধ্যতামূলক ছিল এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সেসব নামের তালিকা, ঠিকানা ও ছবি প্রকাশ করা হতো জনসমক্ষে। এর কিছুদিন পর দেখা গেল, ওইসব পল্লীতে আর খদ্দের পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময় খদ্দেরের অভাবে পল্লীর মেয়েরা এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হলো।


আমরা তথাকথিত সুধীজনরা সবসময়ই অন্যের দিকে আঙুল তুলে বেড়াই। কখনোই কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখি না। এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ব্যাধির উৎস নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই এবং ব্যাধিমুক্ত হওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই, তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়।


যৌনকর্মী নিশির নেপথ্য কষ্টের গল্প

লিংকন রায় অন্তর


বাংলা অভিধানে লালবাতির এলাকা নামে বিশেষ একটা জায়গা আছে। মানুষ টাকার বিনিময়ে জৈবিক চাহিদা মেটাতে যায় সেখানে।আর কেউপেট বাঁচাতে নামে সেই কাজে।যাকে খাটি বাংলায় পতিতালয় বলে। নিশি (মানুষের দেয়া নাম) মেয়েটি কদিন হল অসুখ থেকে উঠেছে। কাজে যেতে পারছে না।কাজের জন্য রাতে বের হতে হয়। বৈরী আবহাওয়া,খদ্দের পাওয়া যায়না।অসুখের জন্য কিছু টাকাঋণ ও করতে হয়েছে তাকে মালার কাছ থেকে।মালা তার বান্ধবী সেও একই কাজ করে। যেভাবেই হোক ঋণের টাকা আগে শোধ করতে হবে।এ পথে এসেছে আজ প্রায় দুই বছর। মামা নিয়ে এসেছে দেশ থেকে ঢাকা শহরে। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজে বের হয় সন্ধা। রাত হলেও সেজে বের হতে হয় না হলে খদ্দেরের চোখে লাগে না। ভালো সাজ দিতে পারলে রেট টাও বেশি।দালাল পুলিশ নিয়ে যায় কাজের অর্ধেকের বেশি টাকা। পথে পথে ঘুরতে হয়,বিশেষ কিছু জায়গা আছে কাস্টমাররা আসে।বৃষ্টি তাই আজ মানুষ কম।তবুও যাদের অনেক ক্ষিধা ঠিকই আসবে,নিশি ও পেট বাঁচাতে হবে অন্য উপায় নেই। কয়েকজনের সাথে কথা বলছে, কিন্তু ধর দামে মিলছে না। রাত প্রায় অনেক হয়ে গেছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও বাড়ছে।রাস্তা পাড় হবে,ঐপাশ টাই কিছু লোক দেখা যাচ্ছে।রাস্তাটা পাড় হওয়াও অনেক কঠিন। লোক গুলি চলে যাচ্ছে তাই দ্রুত যেতে হবে দুদিক না দেখেই দৌড় দিল নিশি কিন্তু রাস্তাটা আর পাড় হতে পারলো না, একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয় নিশি কে।


আশপাশের লোকজন জড় হয় সেখানে,লালবাতি এলাকায় খবর পৌছে যায় নিশি এক্সিডেন্ট করেছে।পুলিশ আসে,পুলিশ দেখে মানুষ জন সরে পড়ে। তখনো দেহে প্রান ছিল নিশির।পুলিশ হাসপাতালেয় কথা বলে নিয়ে যায় নিশি। রাত গড়িয়ে সকাল হয়,বৃষ্টির ভাব টা আজ কেটেগেছে। ঝকঝকে রোদ। সেই চির চেনা রাস্তা,বড় বড় গাড়ি শতশত মানুষ। রাতে এখানে কিছুহয়েছিল বুঝারই উপায় নেই।কয়েকটা মানুষ কয়েকটা হাসপাতালে নিশির খোঁজ করেছিল কিন্তু নিশি নামের কোন রোগী এখানে ভর্তি হয় নি।থানায় ও গিয়েছিল,তারাও কিছু জানে না।


একটি নিশি রাতের অন্ধকারে গায়েব হয়ে গেল,এভাবে হয়তো প্রতিদিন নতুন করে গায়েব হয়ে অন্য কোন নিশি জীবন।কিছু মানুষ চিরকালই অন্ধকারে থেকে যায়।।


পরিশেষে বলতে চাই,জীবন বড়ই কঠিন যা একজন মানুষকে সব কিছু করতেই বাধ্য করে।এর জন্য আমরাই দায়ী।আমরা নিজেদের মত চলতে থাকবো এবং আশপাশ দিয়ে দু-একজন গায়েব হয়ে যাবে আর আমরা টেরও পাবো না।


বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে দুইজন হিজড়া প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।

দ্য ডেইলি সানের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই দুই প্রার্থীর নাম দিতি ও সীমা।

ওই প্রতিবেদন মতে, দিতি শুধু হিজড়াদের অধিকার আদায়ে লড়াইয়ের জন্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। বরং নিজ সম্প্রদায়ের অন্যান্য সুবিধা বঞ্চিত ও গরীব মানুষের হক আদায়ের জন্যও কাজ করবেন তিনি।

ঢাকা ট্রিবিউনকে এক সাক্ষাৎকারে দিতি বলেন, ‘একটা বিষয় সবসময় মনে রাখবেন, কেউই আপনাকে আপনার পাওনা এমনি এমনি বুঝিয়ে দিবে না। নিজের পাওনাটা আপনার নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে। আমি আমাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আমি যদি নির্বাচনে জয় লাভ করি তাহলে হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকদের অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আর আমি সবসময়ই গরীব ও বঞ্চিত লোকদের পাশে থাকব’।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে হিজড়াদেরকে সর্বপ্রথম ভোটাধিকার দেওয়া হয়। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে, বাংলাদেশে ১০ হাজার হিজড়া রয়েছে। তবে, অনেকের মতে, বাংলাদেশে ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ হিজড়া রয়েছে।

ফেসবুকে শুধু একটি ছবিতে ‘লাইক’ দিয়ে তা ‘শেয়ার’ করায় এক যুবককে ৩২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ভাবছেন এ আবার কোথাকার ঘটনা? না, কোনো হীরক রাজার দেশে নয়। ঘটনাটি ঘটেছে এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে।  


কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া যুবকের নাম থানাকর্ন সিরিপাইবুন। তাঁর এক প্রবাসী বন্ধু থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলাদেজের বিকৃত একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। গত ২ ডিসেম্বর সেই ছবিতে ‘লাইক’ দিয়ে নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী থানাকর্ন। আর এই অপরাধে পরের দিনই থানাকর্নকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় থাই পুলিশ।


থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, রাজার যে ছবিটি থানাকর্ন লাইক-শেয়ার করেছিলেন সেটি ছিল ফটোশপ সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিকৃত করা। সেইসাথে ছবির নিচে লেখা ছিল রাজার দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির ফিরিস্তি।


রিমান্ডে নেওয়ার পর পুলিশের কাছে থানাকর্ন স্বীকার করেন যে, বিকৃত করা ছবিতে লাইক দিয়ে এবং শেয়ার করে তিনি রাজাকে অসম্মান করেছেন। এই অপরাধের জন্য থাইল্যান্ডের আদালত তাঁকে ৩২ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।


থাইল্যান্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কারো বিরুদ্ধে দেশের ‘সর্বোচ্চ সম্মানিত’ রাজাকে অপমান করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার ‘বড় শাস্তি’ হবে। আর সেই বড় শাস্তিটাই হলো ৩২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ।


এ বিষয়ে থাই পুলিশ জানায়, থানাকর্ন সিরিপাইবুন ফেসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে ৮৮ বছর বয়সী রাজার বিকৃত ছবির পাশাপাশি দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট যে তথ্য ‘শেয়ার’ করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ কারণেই থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী থানাকর্নকে কারাভোগ করতে হচ্ছে। 

জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশকে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়ে বিভিন্ন মহলের বাহবা কুড়িয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। জাতীয় লীগেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। আরেকবার বনেছেন জয়ের নায়ক। উপহার হিসেবে তাঁর দল পেয়েছে ২ কোটি টাকা।


পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হতাশ করেনি রানার আপ দল বরিশাল বুলসকেও। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি পেয়েছে ৭৫ লাখ টাকা।


বিপিএলের এবারের আসরে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট আসহার জাইদি পেয়েছেন ৫০০ ডলার। ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ অলক কাপালীও পেয়েছেন ৫০০ ডলার। এ দুজনই পেয়েছেন একটি করে মোটরসাইকেল।


টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৈপুণ্য দেখিয়েছেন আবু হায়দার রনি। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ডলার।


বিপিএলের উত্তেজনায় ভরা ফাইনালে আজ মুখোমুখি হয়েছিল কুমিল্লা ও বরিশাল। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদউল্লাহর ৪৮ ও শাহরিয়ার নাফীসের অপরাজিত ৪৪ রানের দুটো চমৎকার ইনিংসের সুবাদে চার উইকেটে ১৫৬ রান করেছিল বরিশাল বুলস।


জবাবে শুরু থেকেই ভালো খেলছিল কুমিল্লা। মাঝখানে খানিকটা ছন্দপতনের পর শেষ ওভারে গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য।


সামির করা ওভারে ১৩ রান করতে হতো মাশরাফির দলকে। প্রথম বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে যান শুভাগত হোম। দ্বিতীয় বলে বাই রান হওয়ায় স্ট্রাইক পেয়েছেন অলক। তৃতীয় বলে অলকের চমৎকার পুল চার রান এনে দিয়েছে কুমিল্লাকে। চতুর্থ বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে আবার চার। পঞ্চম বলে দুই রান নেন অলক।


শেষ বলে দরকার ছিল এক রান। ফাইন লেগে বল ঠেলে এক রান নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন অলক। ২৮ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে তিনিই শেষ পর্যন্ত কুমিল্লার জয়ের নায়ক।


হেরে গেলেও মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কথা বলতেই হবে। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও জ্বলে উঠে ২৩ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন বরিশালের অধিনায়ক।


ম্যাচ জয়ের পরই কুমিল্লার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে নেমে পড়েন। আর আতশবাজি ফোটানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দলটির সমর্থকরা।

যারা অন্যের কথা ভাবেন না তাঁদেরও রক্ত দেওয়া অনেক জরুরী। কারণ রক্ত দানে রয়েছে অনেক স্বাস্থ উপকারিতা।

রক্তে আয়রনের ভারসাম্য বজায় রাখে: গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রক্ত দান করলে শরীরে রক্তের প্রবাহ সঠিক হয় ফলে শরীরে আয়রনের ভারসাম্য বজায় থাকে। কেননা রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়।
রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। আর বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে ও নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী জটিল বা দুরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকেন অনেকাংশে। যেমন, নিয়মিত রক্তদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। হার্ট ভালো থাকে: নিয়মিত রক্তদান রক্তে কোলেসটোরলের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত রক্তদানকারীর হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের অনেকটাই ঝুঁকি কম থাকে। আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়: রক্ত দান করলে মানুষের মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।
কারণ একজন মুমূর্ষু মানুষকে রক্তদান করে তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার যে শান্তি তা আর কোনো ভাবেই পাওয়া যায় না। আপনার দান করা একব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। আপনি যদি নীরোগ ও সুস্থ হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আপন ও পরিচিত জনদের প্রয়োজনের সময় রক্তদানে এগিয়ে আসুন। শুধু তাই নয়, মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে চাইলে দান করতে পারেন বিভিন্ন সংস্থাতেও কিংবা কারো প্রয়োজনে । একজন সুস্থ ও নীরোগ মানুষ প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর রক্ত দান করতে পারেন। এতে শরীরের কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, বরং তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

বেয়ার গ্রিলস একজন সারভাইবাল এক্সপার্ট। ডিসকভারি চ্যানেলে বেয়ারের দুঃসাহসী ও পাগলাটে কর্মকাণ্ডই তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সভ্যতার বাইরে প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে কিভাবে বেঁচে থাকতে হয় সেটাই তিনি তুলে ধরেন তার নিত্যনতুন কৌশল আর দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ডিসকভারি চ্যানেলে বেয়ারের টিভি শো 'ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড' সর্বশ্রেণির দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয়। এই শোতে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন মানুষকে নিয়ে তিনি বনেবাদাড়ে চলে যান বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। সেই সঙ্গীদের মধ্যে তেমনি একজন পৃথিবীর মহাশক্তিধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা!


 এর আগে বেয়ার যখন হোয়াইট হাউস থেকে ফোন পান তখন বিশ্বাস করতে পারেননি। ভেবেছিলেন কেউ দুষ্টুমি করছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন নিজে তার সাথে কথা বলেন তখন তিনি আকাশ থেকে পড়েন! বেয়ার গ্রিলস মানেই বিছে, পোকামাকড়, বহু দিনের মৃত পশুর মাংস, রক্ত, মল, কাঁচা মাছ এমনকি প্রাণ বাঁচাতে নিজের প্রস্রাব পান সহ খাওয়ার যোগ্য অযোগ্য যেকোনো কিছুই অবলীলায় খেয়ে ফেলার গা শিরশির করা দৃশ্য। নিত্যনতুন কৌশলে পাহাড় নদী জঙ্গল পার হয়ে তিনি ঠিকই পৌছে যান সভ্য জগতে। বেয়ার গ্রিলস-এর সঙ্গে বারাক ওবামার অ্যাডভেঞ্চারের শুটিং মাস দুয়েক আগেই শেষ হয়েছিল। এই পর্বে আদিম প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে সভ্যতায় পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সঙ্গী করেই বেয়ার পাড়ি দিয়েছেন আলাস্কার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এবার ক্যামেরায় ধারণকৃত সেই অ্যাডভেঞ্চারের দৃশ্য আসছে টিভি পর্দায়। ডিসকভারি চ্যানেলের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের শেষ দিনটিতে অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় 'পাগলা' বেয়ারের সাথে পৃথিবী সবচে' শক্তিধর ব্যক্তিটির অ্যাডভেঞ্চার দেখতে পাবে দর্শকরা। কড়া নিরাপত্তার ভেতর এই অ্যাডভেঞ্চারের শুটিং হয়েছিল। শুটিংয়ের পরপরই বেয়ার বলেছিলেন ওবামার সাথে তিনটি দিন খুব উপভোগ্য ছিল। 


যুক্তরাজ্যের নাগরিক বেয়ার গ্রিলসের পুরো নাম এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস। জন্ম জুন ৭, ১৯৭৪। পিতা কনজারভেটিভ পার্টির প্রয়াত রাজনীতিবিদ স্যার মাইকেল গ্রিলস। পরিবারে স্ত্রী সারা এবং তিন সন্তান। তিনি পড়াশোনা শেষ করে দুনিয়া জয়ের নেশায় ভারতীয় সেনাবাহিনী, যুক্তরাজ্যের স্পেশাল ফোর্স এবং স্পেশাল এয়ারফোর্সে চাকরি করেন। মানবসেবায় অবদান রাখার জন্যে ২০০৪ সালে গ্রিলসকে সম্মানসূচক পদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডারে পদোন্নতি দেওয়া হয়। 


১৯৯৮ সালের ১৬ মে মাত্র ২৩ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট এভারেস্টজয়ীর গৌরব অর্জন করেন। পরিবেশ দূষণের ফলে কী ভাবে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, তারই প্রচারে এই বেয়ারের সঙ্গে সারভাইবাল চ্যালেঞ্জে সঙ্গী হয়েছেন ওবামা। 


https://www.youtube.com/watch?v=DslPYTrQhO8