3 Answers

রাসূল (সাঃ) দুইভাবে চুল কাটতেন। যথা :- ১। বাবরি চুল। ২। ছোট ছোট করে কাটা।

2572 views

চার পাশে সমান করে কেটে বাবড়ি চুল রাখতে পারবেন ঘাড়ের উপর এবং কানের লতি পর্যন্ত। এটা সুন্নাহ সম্মত। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর চুল তাই ছিল।

2572 views
ইসলামে চুল রাখা বা কাটার সুন্নিত তরিকা তিনটি।

১। চুল সামনে পিছনে সমান করে ছোট করে রাখা।

২। বাবড়ী চুল রাখা।

৩। মাথা মুন্ডন বা ন্যাড়া করা।

বড় চুল আবার তিন পদ্ধতিতে রাখা যায়।

১। ওয়াফরা, যা কানের লতি পর্যন্ত। (আবুদাঊদঃ ৪২০৬)

২। লিম্মা, যা ঘাড়ের মধ্যস্থল পর্যন্ত। (মুসলিমঃ ২৩৩৭)

৩। জুম্মা, যা ঘাড়ের নীচ পর্যন্ত। (নাসাঈঃ ৫০৬৬)।

মাথা মুন্ডন বা ন্যাড়া করা সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে প্রমাণিত এটিকেও সুন্নাহ বলা যাবে। তবে সাহাবীদের সুন্নাহ। রাসূল (সাঃ) থেকে সরাসরি প্রমাণিত সুন্নাহ নয়। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু হজ্ব শেষে মাথার চুল কামিয়েছেন মর্মে হাদীস পাওয়া যায়। এছাড়া আর কখনো চুল কামিয়েছেন মর্মে বর্ণনা না পাওয়া যায় না।

যেহেতু সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) গণকেও অনুসরণীয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই মাথা কামিয়ে রাখাও সুন্নাহের অন্তর্ভূক্ত।

রাসূলুুল্লাহ (সাঃ) এহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য মাথা মুণ্ডাতেন। এছাড়া তিনি কখনো মাথা মুণ্ডাননি। এ সময় তিনি মাথা মুণ্ডানোকে চুল ছোট করে রাখার উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এজন্য ইমাম তাহতাবী (রহঃ) বলেন, মাথা ন্যাড়া করাও সুন্নাত।

চুলের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ হচ্ছে– সবগুলো চুল রেখে দেওয়া কিংবা সবগুলো চুল ফেলে দেওয়া।

এমন ছিল না যে, তিনি কিছু অংশের চুল কামাই করতেন; আর কিছু অংশের চুল রেখে দিতেন।

বর্তমান যামানায় কিছু কিছু মুসলমান যা করে– মাথার কিছু অংশের চুল কামাই করে, কিছু অংশ রেখে দেয় এটি ‘কুযা’ এর অন্তর্ভুক্ত, যা করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন।

এই ‘কুযা’ কয়েক প্রকার হতে পারেঃ ১। মাথার কিছু কিছু জায়গার চুল কামাই করে অপর কিছু কিছু জায়গা রেখে দেওয়া।

২। মাথার সাইডের চুলগুলো কামাই করে মাঝখানের চুলগুলো রেখে দেওয়া।

৩। মাথার মাঝখানের চুলগুলো কামাই করে সাইডের চুলগুলো রেখে দেওয়া।

৪। মাথার সামনের চুলগুলো কামাই করে পিছনের চুলগুলো রেখে দেওয়া।

৫। মাথার পিছনের চুলগুলো কামাই করে সামনের চুলগুলো রেখে দেওয়া।

৬। মাথার এক পার্শ্বের কিছু চুল কামাই করে বাকীগুলো রেখে দেওয়া।

সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে ইবনে উমর (রাঃ) থেকে সাব্যস্ত হাদিসে এ সবগুলো স্টাইল হারাম হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। সে হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘কুযা’ করা থেকে তথা শিশুর মাথার একাংশের চুল কামাই করে অপর অংশের চুল রেখে দিতে নিষেধ করেছেন।
2572 views

Related Questions