4 Answers
হ্যা করতেই পারেন হয়ত বা সেই লোকটি ভালো ছিল। তবে এর বেশি কিছুই করতে পারবেন না কেননা কিছু চাইলে আল্লাহর কাছে চাইতে হয় কোন পীরের কাছে নয়। আল্লাহ তায়লা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা ঠিক না। "অনেকেই মনে করেন পীড়ের মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবে" আসলে ঘটনা তা নয়। আমি একটা ছোট্ট কথা বলি - সবার উপর শ্রদ্ধা করেই কথাটা বললাম- "একদা এক হাজী সাহেব হজ করতে গেলেন । লোক টি মহানবী (স:) এর কাছে কিছু চাইলে পুলিশ তাকে আটকায় এমনকি হাত পর্যন্ত দিতে দেয়না। " তাহলে বুঝতেই পারছেন মহানবী (স:) যেহেতু এই ক্ষমতা রাখেন না তাহলে সাধারণ মানুষ কি করে এটার ক্ষমতা রাখবে। আমরা আল্লাহর যায়গায় পীর সাহেবকে বসাই যা একেবারে শিরক । নামাজ না পরে ঘন্টার পর পীরের কাছে কিছু চাই। পীড়ের ইবাদত বড় করে দেখি।
[তবে যিয়ারত করতেই পারেন । আপনি আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করলেন যে সে যেন ভালো থাকে]
কবর শব্দের অর্থ দাফনস্থল অর্থাৎ যে স্থানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। আর মাজার শব্দের অর্থ দুটি- যিয়ারত করা এবং যিয়ারত স্থল। তাই যে কোনো মুসলমানের দাফনস্থলকে যেমন কবর বলা যায় তেমনি যে কোনো মুসলমানের কবরকে আভিধানিক অর্থে মাজারও বলা যায়। কবর যিয়ারত করা সুন্নাত। এর দ্বারা মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ হয়। কবর আযাবের ভীতি সঞ্চারিত হয়। হৃদয় বিগলিত হয়। চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়। অন্যায় থেকে তওবা এবং নেকীর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পরকালীন মুক্তির প্রেরণা সৃষ্টি হয়। উপরোক্ত উদ্দেশ্যেই কেবল কবর যিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করার পর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, পূর্বে আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা উহা যিয়ারত করতে পার। কেননা কবর যিয়ারত তোমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করাবে। অতএব মরণের কথা স্মরণ ও উপদেশ গ্রহণের জন্য কবর যিয়ারত করতে হবে। কেননা মানুষ যখন মৃত লোকদের কবর যিয়ারত করবে, যারা কিনা তাদের সাথে তাদের মতই পৃথিবীতে বিচরণ করত, খানা-পিনা করত, দুনিয়াদারী করত। আজ তারাই নিজেদের কর্মের হাতে বন্দী। কর্ম ভাল থাকলে তাদের পরিণাম ভাল। কর্ম মন্দ থাকলে পরিণাম মন্দ- তখন নিঃসন্দেহে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করবে তার অন্তর নরম হবে, সে আল্লাহর দিকে ধাবিত হবে। তখন আল্লাহ্র নাফরমানী থেকে ফিরে আসবে তাঁর আনুগত্যের দিকে। আল্লাহর উদ্দেশ্যেই নিবেদন করা মানুষের জন্য কর্তব্য। হোক তা প্রার্থনা অথবা আশ্রয় চাওয়া কিংবা বিপদ-মুক্তি, তা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো কাছে পেশ করা বৈধ নয়। যে এটা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে পেশ করবে সে কাফের হয়ে যাবে, বের হয়ে যাবে মুসলিম মিল্লাত থেকে। যে সকল বিষয় মানুষ সাহায্য করতে সামর্থ রাখে শুধু সে সকল বিষয় মানুষের কাছে চাওয়া বৈধ। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যা তোমার উপকার করে না, অপকারও করতে পারে না। কারণ এরূপ করলে তুমি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এবং আল্লাহ তোমাকে ক্লেশ দিলে তিনি ব্যতীত তা মোচনকারী আর কেউ নেই এবং আল্লাহ যদি মঙ্গল চান তবে তার অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি মঙ্গল দান করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (ইউনুসঃ ১০৬-১০৭) সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী কতক উম্মত নিজ নবী ও বুর্জুদের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়েছে। সাবধান! তোমরা কবরকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি তোমাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করছি। অন্য এক হাদিসে কবরের ওপর যারা বাঁতি জ্বালায় তাদের ওপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অভিসম্পাত করেছেন। আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হজরত আলী (রাঃ) কে এই ফরমান দিয়ে পাঠালেন যে, কোনো উঁচু কবর দেখলে তা সমান করে দেবে এবং কোনো মূর্তি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে। যেসব কুসংস্কার এর জন্য মাজার যিয়ারত বৈধ নয়। সহীহ হাদিস গুলোতে আছে, মৃতদের কাছে চাওয়া, কবরে গেলাফ চড়ানো, বাতি জ্বালানো, কবরে সিজদা করা, তাওয়াফ করা, কবরে চুমু খাওয়া, কপাল ঘষা, কবরের উদ্দেশ্যে মান্নত মানা, নিয়ায চড়ানো ইত্যাদি। কবর বা মাজারের এসব কার্যকলাপ স্পষ্ট শিরক ও কবিরা গুনাহ। কিন্ত আমাদের সমাজের মানুষ নিষেধ করা কাজই বেশী করে থাকে। বলতে পারেন সেগুলো পীরদের মাজার। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পীরদের অস্তিত্ব কেন সাহাবাদের যুগে নাই, কেন তাবেয়ীদের যুগে নাই।
মাজার বলুন আর কবর বলুন, জিয়ারত করতে কোন বাধা নাই, মাজারে গিয়ে কিছু চাওয়া বা গান বাজনা করা, গান্জা খাওয়া, ভন্ডামি করা, নারী পুরুষ একসাথে বের্পদা চলা ইত্যাদি হারাম, বরং জিয়ারত করতে রাসুল সাঃ উৎসাহ দিয়েছেন।
মাযার এটা আরবী শব্দ। এর অর্থ যিয়ারতের স্থান। আর যিয়ারত অর্থ ভ্রমণ, সফর, পরিদর্শন। এ হিসেবে মাযার শব্দটি অত্যন্ত অর্থবহ সুন্দর একটি শব্দ। কিন্তু আমাদের দেশে এ শব্দটি বললেই চিন্তাশক্তি ভণ্ডামী ও নৃত্য-গানের দিকে ধাবিত হয়। এ সমস্ত অনৈতিক এবং শরীয়া পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে মাযার যিয়ারত করতে নিষেধ করা হয়। মূলত মাযার বা কবর যিয়ারত করা সুন্নাত। আর সন্তানের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার কবর যিয়ারত করা অবশ্য কর্তব্য। তবে এজন্য শরয়ী সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা আবশ্যক।